আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বড় ধরনের সাফল্য ভারতের নিরাপত্তা মহলের নজর কেড়েছে। নির্বাচনের পর থেকে বাংলাদেশ সীমান্তে নজরদারি, গোয়েন্দা তৎপরতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে দেশটি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করায় দিল্লি স্বস্তি পেলেও সীমান্তঘেঁষা জেলাগুলোতে জামায়াতের শক্তিশালী অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দলটির জয়ী আসনের বড় অংশই এসেছে ভারত সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, খুলনা, সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া, রংপুর, রাজশাহী, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম ও ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন এলাকায় জামায়াত ভালো ফল করেছে। কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও সাতক্ষীরার মতো সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে দলটির সাফল্য বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে।
ভারতের নিরাপত্তা সূত্রগুলো বলছে, উদ্বেগের বিষয় সরাসরি জামায়াতে ইসলামী নয়; বরং সীমান্ত এলাকায় পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের সম্ভাব্য তৎপরতা নিয়েই তাদের নজর বেশি। তাদের আশঙ্কা, সীমান্ত অঞ্চলে কোনো অবৈধ নেটওয়ার্ক গড়ে উঠলে তা ভারতের নিরাপত্তার জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
এ কারণে ভারতের ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (আইবি) ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ বিজেপিও বাংলাদেশের নির্বাচনের পর সীমান্তবর্তী এলাকায় জামায়াতের সাফল্যকে সতর্কবার্তা হিসেবে উল্লেখ করেছিল। দলটির অভিযোগ ছিল, সীমান্ত অঞ্চলের রাজনৈতিক পরিবর্তন ভারতের নিরাপত্তা ও সামাজিক পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে ভারতের সাবেক নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের কেউ কেউ মনে করছেন, জামায়াতের মূল লক্ষ্য এখন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান শক্ত করা। তাদের মতে, দলটি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবস্থানকে স্থায়ী করতে চাইবে এবং ভারতের দিকে সরাসরি মনোযোগ দেওয়ার সম্ভাবনা কম।
অন্যদিকে, কিছু নিরাপত্তা বিশ্লেষকের আশঙ্কা, সীমান্ত এলাকায় উগ্রবাদী বা চরমপন্থী কোনো নেটওয়ার্ক সক্রিয় হলে তা দুই দেশের জন্যই উদ্বেগের কারণ হতে পারে। তাই সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও গোয়েন্দা নজরদারি আরও কার্যকর করার ওপর জোর দিচ্ছে ভারত।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি