ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন এবং শাশুড়ি ও স্বামীর অপমান-প্ররোচনার মুখে ঋতু আক্তার (৩০) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে নিহতের বাবা মো. রতন হোসেন বাদী হয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় নিহত গৃহবধূর স্বামী মো. এরশাদ আলী (৩৬) ও শাশুড়ি মোছা. রোকেয়া খাতুনকে (৫৫) আসামি করা হয়েছে।
নিহত ঋতু আক্তার ঠাকুরগাঁও পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কলেজপাড়া এলাকার মো. রতন হোসেনের মেয়ে। অভিযুক্ত স্বামী এরশাদ আলী ও শাশুড়ি রোকেয়া খাতুনের বাড়ি সদর উপজেলার ১০ নম্বর জামালপুর ইউনিয়নের ফুটকিবাড়ী গ্রামে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় নয় বছর আগে এরশাদ আলীর সঙ্গে ঋতু আক্তারের বিয়ে হয়। তাঁদের দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য ঋতুর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন আসামিরা। যৌতুকের কারণে পূর্বে ২০২০ সালেও ঠাকুরগাঁও সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। তবে দুই সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সব অত্যাচার সহ্য করেই সংসার চালিয়ে আসছিলেন ঋতু।
বুধবার সকাল ৯টার দিকে বাড়িতে রান্না করার সময় শাশুড়ি রোকেয়া খাতুন চান্দা মাছ বাছতে থাকলে ঋতু তাঁকে বলেন, “আম্মা, মাছগুলো ভালোভাবে বাছেন, কাঁটা আছে। নাতনীরা যেন খেতে পারে।” এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে শাশুড়ি চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন এবং ঋতুকে রান্না করে খেতে না পারলে ‘বিষ খেয়ে মরতে’ বলেন। ঋতু বিষ বিষয়টি স্বামী এরশাদ আলীকে জানালে তিনি উল্টো উত্তেজিত হয়ে ঋতুর ঘাড়ে ধরে চড়-থাপ্পড় মারেন এবং মায়ের কথা মতো না চললে 'বিষ খেয়ে মরার' নির্দেশ দেন।
আসামিদের এমন অপমান ও প্ররোচনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে সকাল ১০টার দিকে বসতঘরের ভেতর থাকা ঘাস মারার বিষ পান করেন ঋতু। আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে তাঁকে ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ওয়াশ করার পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দুপুরে তাঁকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল বিকেল ৫টার দিকে সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়।
ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজাহান আলী বলেন, “গৃহবধূর বিষপানে মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার পর থেকে আসামিরা পলাতক। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।”
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব