শরীয়তপুর প্রতিনিধি: প্রশাসনিক জটিলতার কারণে ডিডিওশিপ (ড্রইং অ্যান্ড ডিসবার্সিং অফিসার) না থাকায় শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের নার্স ও ব্রাদাররা গত জুন মাসের বেতন এখনও পাননি। বেতন বন্ধ থাকায় অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে আর্থিক সংকটে পড়েছেন। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করে বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবি জানিয়েছেন তারা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত জুন মাসে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক বদলি হয়ে অন্যত্র যোগদান করেন। এরপর জেলা সিভিল সার্জনকে ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্ব দেওয়া হলেও তাকে ডিডিওশিপের আর্থিক ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। পরে সাময়িকভাবে হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. মিজানুর রহমানকে ডিডিওশিপের দায়িত্ব প্রদান করা হয়।
দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি চিকিৎসকসহ হাসপাতালের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জুন মাসের বেতন পরিশোধ করেন। তবে কারিগরি জটিলতার কারণে নার্স ও ব্রাদারদের বেতন ছাড় করা সম্ভব হয়নি। এর মধ্যেই ডা. মিজানুর রহমানও বদলি হয়ে ঢাকায় চলে যান। ফলে বর্তমানে হাসপাতালে ডিডিওশিপের দায়িত্বে কেউ না থাকায় নার্স ও ব্রাদারদের বেতন পরিশোধ কার্যক্রম পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে।
হাসপাতালের ব্রাদার রেজাউল করিম বলেন, “তত্ত্বাবধায়ক স্যার বদলির পর সিভিল সার্জন স্যার ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পেলেও ডিডিওশিপ পাননি। পরে ডা. মিজানুর রহমানকে ওই দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু তিনিও বদলি হয়ে গেছেন। পাসওয়ার্ড পরিবর্তনসহ কিছু কারিগরি জটিলতার কারণে আমাদের বেতন আটকে আছে। নতুন করে যিনি ডিডিওশিপের দায়িত্ব পাবেন, তিনি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত বেতন পাওয়ার সম্ভাবনা নেই।”
এ বিষয়ে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মিতু আক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এ বিষয়ে সিভিল সার্জন ও হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়কের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।
পরে জেলা সিভিল সার্জন ও হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়কের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ঢাকায় একটি সভায় ব্যস্ত থাকার কথা জানিয়ে ফোন কেটে দেন। এরপর পুনরায় কল করা হলেও তিনি আর সাড়া দেননি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারি দপ্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রদান, বিল উত্তোলন এবং অন্যান্য আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ডিডিওশিপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত দপ্তরের প্রধান বা দায়িত্বপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে অনেক ক্ষেত্রে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ডিডিওশিপ না দেওয়ায় প্রশাসনিক ও আর্থিক জটিলতা তৈরি হয়। সরকারি বিধি অনুযায়ী, দপ্তরের প্রধান বদলি হলে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ডিডিওশিপ দেওয়ার কথা। কিন্তু শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় নার্স ও ব্রাদারদের বেতন পরিশোধ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব