রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ভেন্টিলেটর ও হাই-ফ্লো অক্সিজেন মেশিন উদ্ভাবনকারীদের প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে এসব চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবহার উপযোগী ও বাজারজাত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সভায় তিনি এ প্রশংসা ও আশ্বাস দেন।
প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি হাসান শিপলু জানান, সভায় দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ভেন্টিলেটর ও হাই-ফ্লো অক্সিজেন মেশিনের কার্যকারিতা, সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যসেবায় আধুনিক প্রযুক্তির বিকাশে সরকার গবেষণা ও উদ্ভাবনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এসব চিকিৎসা সরঞ্জামের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা, মান যাচাই এবং উৎপাদন কার্যক্রমে সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা করবে।
সভায় জানানো হয়, পৃথক দুটি বিশেষজ্ঞ দল ভেন্টিলেটর ও হাই-ফ্লো অক্সিজেন মেশিন তৈরি করেছে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা সম্পন্ন হলে এসব যন্ত্র দেশের হাসপাতালগুলোতে ব্যবহারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির সম্ভাবনাও রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশীয়ভাবে উৎপাদিত হওয়ায় এসব চিকিৎসা সরঞ্জাম তুলনামূলক কম খরচে বাজারজাত করা সম্ভব হবে। এতে দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে আরও সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করার পাশাপাশি বিদেশি প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা কমবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেন্টিলেটর গুরুতর শ্বাসতন্ত্রের সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা সরঞ্জাম। তাই এর নিরাপত্তা, কার্যকারিতা ও আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে আরও বিস্তৃত পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন।
অন্যদিকে হাই-ফ্লো অক্সিজেন মেশিনটি শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহার করা যাবে। এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, এটি বৈদ্যুতিক সংযোগ ছাড়াও ব্যবহার করা সম্ভব। ফলে বিদ্যুৎ সুবিধাবঞ্চিত এলাকা কিংবা জরুরি রোগী পরিবহনের সময় অ্যাম্বুলেন্সেও এটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।
সভায় সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এসব চিকিৎসা সরঞ্জামের উৎপাদন ও ব্যবহার শুরু হলে দেশের চিকিৎসা খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
সভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন, প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) প্রো-ভিসি ড. মুহাম্মদ শরীফুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চিকিৎসক সহযোগী অধ্যাপক ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ, প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-১ ডা. মামুন শিবলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম