| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

প্রতিষ্ঠার ৭৩ বছরেও পূর্ণাঙ্গ আবাসিকতা পায়নি রাবি, সংকটে হাজারো শিক্ষার্থী

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ০১, ২০২৬ ইং | ১৭:১৩:০২:অপরাহ্ন  |  ৯৪০ বার পঠিত
প্রতিষ্ঠার ৭৩ বছরেও পূর্ণাঙ্গ আবাসিকতা পায়নি রাবি, সংকটে হাজারো শিক্ষার্থী

রাবি প্রতিনিধি: প্রতিষ্ঠার ৭৩ বছর পার করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি)। শিক্ষা, গবেষণা ও জাতীয় নানা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই বিশ্ববিদ্যালয় সময়ের সঙ্গে অবকাঠামোগতভাবে বিস্তৃত হলেও শিক্ষার্থীদের শতভাগ আবাসন নিশ্চিত করতে পারেনি। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর বিপরীতে আবাসিক হলগুলোতে থাকার সুযোগ রয়েছে ১০ হাজারেরও কম শিক্ষার্থীর। ফলে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাসের বাইরে মেসে থেকেই পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

ক্যাম্পাসের বাইরে থাকা শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশকে তুলনামূলক বেশি ভাড়ায় মেস নিতে হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে নিরাপত্তাহীনতা, যাতায়াতের বাড়তি খরচ, চুরি ও অন্যান্য নানা ভোগান্তি। দীর্ঘদিন ধরে নতুন হল নির্মাণ, পুরোনো হলের আসন বাড়ানো এবং নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করার দাবি উঠলেও সংকটের স্থায়ী সমাধান এখনও হয়নি।

১৯৫৩ সালের ৬ জুলাই মাত্র সাতটি বিভাগ, ১৫৬ জন ছাত্র ও পাঁচজন ছাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। সাত দশকের বেশি সময়ের পথচলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসর বেড়েছে বহুগুণ। বর্তমানে ১২টি অনুষদের অধীনে ৫৯টি বিভাগ ও ছয়টি ইনস্টিটিউটে পড়াশোনা করছেন প্রায় ৩২ হাজার শিক্ষার্থী। শিক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনেও বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ইতিহাস রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ছেলেদের জন্য ১১টি এবং মেয়েদের জন্য ছয়টি আবাসিক হল রয়েছে। এসব হলে ছেলেদের জন্য ৫ হাজার ৪৬৯টি এবং মেয়েদের জন্য ৪ হাজার ২০৪টি আসন রয়েছে। সব মিলিয়ে ৯ হাজার ৬৭৩ জন শিক্ষার্থী আবাসিক সুবিধা পাচ্ছেন। অর্থাৎ মোট শিক্ষার্থীর তুলনায় আবাসন সুবিধা পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।

দর্শন বিভাগের অনাবাসিক শিক্ষার্থী শ্রাবন্তী আজাদ রিমু বলেন, 'হলে সীট না পাওয়ার ফলে একজন নিম্ন মধ্যবিত্ত শিক্ষার্থী হিসেবে বেশ সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। মেসের রুমগুলো ছোট কিন্তু ভাড়া বেশি, সুবিধাও কম, বেশিরভাগ জিনিসই নিজের নিতে হয়, তাছাড়া যেগুলো জিনিস থাকে তার জন্য অধিক পরিমাণে চার্জ নেওয়া হয়, মেয়েদের নিরাপত্তার বিষয়টি সন্তোষজনক না, মালিকের উগ্র আচরণও সহ্য করতে হয়,শিক্ষার্থীদের অসুবিধা কখনো বিবেচনা করে না, খাবারের মান খুবই খারাপ কিন্তু দাম বেশি, ক্যাম্পাস থেকে দূরবর্তী, ফলে যাতায়াতের সময়ও মাঝেমধ্যে হয়রানি/ ইভটিজিংএর শিকার হতে হয়।'

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অনাবাসিক শিক্ষার্থী জয়নাল ইসলাম বলেন, 'আমার প্রায় ২য় বর্ষ শেষের দিকে এখনো আমি হলে উঠতে পারিনি। আর্থিকভাবে আমি তেমন সচ্ছল নয়ই আবার রাজশাহীতে টিউশন সংকট। এদিকে প্রতি মাসে মেস ভাড়া ও আনুষাঙ্গিক খরচ মিলিয়ে ২ হাজার টাকা পরে যায়। আবাসিকতা পেলে আমার খচর অর্ধেক কমে আসতো। রাকসু ফাংশন হয়েছে প্রায় সাত মাস কিন্তু  আবাসিকতা নিয়ে কোনো কাজ দৃশ্যমান করতে দেখি নাই। আমরা চাই অন্তত আমাদের অনাবাসিক ভাতা দেওয়া হোক।'

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অনাবাসিক শিক্ষার্থী তালহা তামিমের মতে, 'শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত আবাসন কোনো অতিরিক্ত সুবিধা নয়; বরং নিরাপদ ও মানসম্মত শিক্ষাজীবনের অন্যতম পূর্বশর্ত। বাড়তি আবাসন ব্যয় ও জীবনযাত্রার খরচ শিক্ষার্থীদের ওপর আর্থিক চাপ তৈরি করছে। তার দাবি, নতুন হল নির্মাণের পাশাপাশি বিদ্যমান হলগুলোর সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে হল বরাদ্দের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি।,

আবাসন সংকট মোকাবিলায় অবশ্য কিছু অবকাঠামোগত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ছেলেদের জন্য ১০ তলাবিশিষ্ট বিজয়-৭১ হল এবং ছাত্রীদের জন্য অপরাজিতা হল নির্মাণাধীন রয়েছে। দুটি হলের নির্মাণ শেষ হলে প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থীর নতুন করে আবাসনের ব্যবস্থা হতে পারে। তবে নির্ধারিত সময়ের তুলনায় নির্মাণকাজ পিছিয়ে রয়েছে। একাধিকবার সময় বাড়ানোর পরও দীর্ঘ সময় ধরে প্রকল্প দুটির কাজ চলমান রয়েছে।

এদিকে আবাসন সংকটের পাশাপাশি পুরোনো কয়েকটি হলের অবকাঠামোগত নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। গত বছরের নভেম্বরে ভূমিকম্পের পর শেরে-বাংলা ফজলুল হক হলের ছাদ ও দেয়ালে ফাটল দেখা দিলে সেখানকার শিক্ষার্থীদের নির্মাণাধীন বিজয়-৭১ হলে স্থানান্তর করা হয়। পরে বিজয়-৭১ হলের বিভিন্ন দেয়ালেও ফাটলের বিষয়টি সামনে আসে। অন্যদিকে মন্নুজান হলের বিপুলসংখ্যক ছাত্রীও দীর্ঘদিন ধরে আবাসন ও অবকাঠামোগত নানা সমস্যার মধ্যে রয়েছেন।

আবাসন সংকট নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) এজিএস এস এম সালমান সাব্বির বলেন, 'সংকট সমাধানে প্রশাসনের কাছে একটি পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ চাওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে কয়েকটি নতুন হল নির্মাণের জন্য প্রশাসনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বাজেট অনুমোদন হলে নতুন আবাসিক হল নির্মাণের মাধ্যমে সংকট অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে বলে আশা করছি।'

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, 'শিক্ষার্থীদের নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করা প্রশাসনের অন্যতম লক্ষ্য। বর্তমানে প্রায় ৩৩ শতাংশ শিক্ষার্থী হলে থাকার সুযোগ পাচ্ছেন, বাকিদের ক্যাম্পাসের বাইরে থাকতে হচ্ছে। এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীকে অল্প সময়ে আবাসিক সুবিধার আওতায় আনা সম্ভব নয়; এজন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।'

তিনি বলেন, 'বর্তমানে যেসব আবাসিক হলের প্রকল্প চলমান রয়েছে, সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের পাশাপাশি নতুন প্রকল্প নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট কমাতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তার তিনটি প্রধান উদ্যোগের মধ্যে শতভাগ আবাসিকতা নিশ্চিত করাকে অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।'

৭৩ বছরে শিক্ষা ও গবেষণায় নানা অর্জনের সাক্ষী হয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। তবে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর জন্য পর্যাপ্ত ও নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত না হওয়া সেই অর্জনের মাঝেও একটি দীর্ঘস্থায়ী সংকট হিসেবে রয়ে গেছে। নতুন হল নির্মাণ ও চলমান প্রকল্প দ্রুত শেষ করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ শিক্ষার্থীসংখ্যা বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি আবাসন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা না গেলে এই সংকট আরও প্রকট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪