জামালপুর প্রতিনিধি: সারাদেশে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের দিনে যখন ভালো ফলাফলে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস, তখন জামালপুরের কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দেখা গেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই এবার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
এর মধ্যে সবচেয়ে ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটেছে ইসলামপুর উপজেলার গোয়ালের চর ইউনিয়নের কদমতলী কারিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে। এমপিওভুক্ত এ বিদ্যালয়ে ১১ জন শিক্ষক ও তিনজন কর্মচারী রয়েছেন। তাঁদের বেতন-ভাতা সরকারি অর্থে দেওয়া হয়। অথচ এবার বিদ্যালয়টি থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল মাত্র তিনজন শিক্ষার্থী। তাদের একজনও পাস করতে পারেনি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সাইফুল্লার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
ইসলামপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আরিফা আক্তার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, উপজেলায় একটি উচ্চ বিদ্যালয় ও একটি দাখিল মাদরাসার পাসের হার শূন্য। বিষয়টি দুঃখজনক। শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের বীর মাইজবাড়ি দাখিল মাদরাসা।
এদিকে বকশীগঞ্জ উপজেলার শেফালী মফিজ মহিলা মাদরাসার ফলাফলও একই। প্রতিষ্ঠানটি থেকে এবার ১৪ জন পরীক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিলেও কেউ পাস করতে পারেনি।
অন্যদিকে সরিষাবাড়ী উপজেলার ছাপরকোনা মনিজা আবুল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকেও ১১ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। কিন্তু তাদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। প্রতিষ্ঠানটিও এমপিওভুক্ত।
সরিষাবাড়ী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর কবীর বলেন, “ছাপরকোনা মনিজা আবুল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১১ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে একজনও পাস করতে পারেনি।”
এদিকে শিক্ষার্থীর সংখ্যা, শিক্ষকসংখ্যা ও ফলাফলের এমন চিত্র নিয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার মান ও পাঠদান কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব