| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট আসাদের সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া কে এই নাজিব?

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ১১, ২০২৬ ইং | ২১:৩২:৫৮:অপরাহ্ন  |  ৬৭৭ বার পঠিত
সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট আসাদের সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া কে এই নাজিব?

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: সিরিয়ার সাবেক নিরাপত্তা কর্মকর্তা আতেফ নাজিবকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দামেস্কের একটি আদালত। ১৪ বছরের গৃহযুদ্ধের সময় হত্যা, নির্যাতন ও জোরপূর্বক গুমের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) নাজিবের পাশাপাশি ক্ষমতাচ্যুত সিরীয় নেতা বাশার আল-আসাদ এবং তার ছোট ভাই মাহের আল-আসাদকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।  তারা বর্তমানে সিরিয়ার বাইরে থাকায় তাদের অনুপস্থিতিতেই এই রায় দেওয়া হয়েছে। চতুর্থ ফৌজদারি আদালত জানিয়েছেন, ২০১১ সালে দারা প্রদেশে আসাদ সরকারের দমন-পীড়নের ঘটনাগুলো মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে পড়ে।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আসাদ সরকারের পতনের পর বাশার আল-আসাদ ও তার পরিবারের সদস্যরা রাশিয়ায় পালিয়ে যান। অন্যদিকে নাজিবকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে সিরিয়ায় আটক রাখা হয়েছে। বিচারের সময় নাজিবের বিরুদ্ধে হত্যা, নির্যাতন ও গণহত্যাসহ অন্তত ১০টি অপরাধের অভিযোগ আনা হয়। ২০১১ সালে দারায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে তার ভূমিকার বিষয়টিও মামলায় গুরুত্ব পায়। নাজিব তখন দারা প্রদেশে রাজনৈতিক নিরাপত্তা শাখার প্রধান ছিলেন। ওই সময় বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়ন চালানোর জন্য তাকে অন্যতম প্রধান দায়ী ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

আতেফ নাজিব কে?

৬৬ বছর বয়সী আতেফ নাজিব ছিলেন সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের চাচাতো ভাই এবং দক্ষিণ সিরিয়ার দারা প্রদেশে রাজনৈতিক নিরাপত্তা শাখার প্রধান। ২০১১ সালে সিরিয়ায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরুর সময় তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। ১৯৮০-এর দশকের শুরুতে স্কুলের পড়াশোনা শেষ করে নাজিব হোমসের সামরিক একাডেমিতে ভর্তি হন। প্রশিক্ষণ শেষে তিনি দারায় রাজনৈতিক নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান হন। তবে ঠিক কবে তিনি এই দায়িত্ব নেন, তা সরকারি নথিতে স্পষ্ট নয়।

২০১১ সালের মার্চে সিরিয়ায় গণ-অভ্যুত্থান শুরু হওয়ার সময়ও নাজিব ওই পদে ছিলেন। সে সময় দারায় একটি স্কুলের দেয়ালে সরকারবিরোধী গ্রাফিতি লেখার অভিযোগে কয়েকজন কিশোরকে গ্রেপ্তার ও নির্যাতন করা হয়। এই ঘটনাকে সিরিয়ায় বড় ধরনের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরুর অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হয়।

বিক্ষোভ দমনে ভূমিকার অভিযোগে ২০১১ সালের এপ্রিলে নাজিবকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে এই বিক্ষোভই দীর্ঘ ও রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বিদ্রোহীদের হাতে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতন হলে আসাদ রাশিয়ায় পালিয়ে যান। নাজিবও এক পর্যায়ে সিরিয়া ছেড়ে পালিয়েছিলেন। তবে পরে দেশে ফিরে আসেন।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে লাতাকিয়া প্রদেশে সাবেক সরকারের অনুগতদের বিরুদ্ধে অভিযানের সময় সিরিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী নাজিবকে গ্রেপ্তার করে। তার গ্রেপ্তারকে সাবেক সরকারের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মধ্যে অন্যতম বড় আটক হিসেবে দেখা হয়। তার বিরুদ্ধে হত্যা, নির্যাতন ও মানবতাবিরোধী অপরাধসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়। মঙ্গলবার দামেস্কের চতুর্থ ফৌজদারি আদালত তার মামলার চূড়ান্ত শুনানি শেষে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করে।

আদালতের সিদ্ধান্ত কী?

সিরিয়ার আদালত সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ, তার ভাই মাহের আল-আসাদ এবং তাদের চাচাতো ভাই আতেফ নাজিবকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, নাজিব বিপুলসংখ্যক বন্দিকে নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। আটক অবস্থায় অনেক বন্দির মৃত্যুর জন্যও তাকে দায়ী করা হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে সাবেক আসাদ সরকারের কোনো শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এটি সিরিয়ার আদালতের প্রথম রায়।

আলজাজিরার প্রতিবেদক ওবাইদা হিত্তো বলেন, এটি সিরিয়ার জন্য একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। কারণ অভিযুক্তদের মধ্যে নাজিবই একমাত্র ব্যক্তি, যার সিরিয়ার ভেতরে সশরীরে বিচার হয়েছে। অন্য অভিযুক্তদের অনুপস্থিতিতেই তাদের বিরুদ্ধে রায় দেওয়া হয়েছে।

নাজিবের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ ছিল?

২০১১ সালে সিরিয়ায় গণঅভ্যুত্থানের সময় দারা প্রদেশে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংস দমন-পীড়নের নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ ছিল আতেফ নাজিবের বিরুদ্ধে। ওই দমন-পীড়নই পরে দীর্ঘ ১৪ বছরের গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়।

নাজিবের বিরুদ্ধে হত্যা, নির্যাতন এবং ২০১১ সালে দারা প্রদেশে গণহত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগসহ অন্তত ১০টি অপরাধের অভিযোগ আনা হয়। আদালত এসব ঘটনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করেছে।

আলজাজিরা মুবাশেরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাজিবের বিরুদ্ধে ৭৫ জন বাদী মামলা করেছিলেন। বিচার চলাকালে তাদের অনেকেই আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

কেন এই বিচার গুরুত্বপূর্ণ?

আতেফ নাজিবের এই বিচার সিরিয়ার নতুন বিচারব্যবস্থা ও অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বাশার আল-আসাদ সরকারের আমলে সংঘটিত নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ীদের কতটা জবাবদিহির আওতায় আনা হবে, সেটিও স্পষ্ট হবে।

যুদ্ধের পর প্রতিশ্রুত বিচারপ্রক্রিয়া শুরু করতে দেরি হওয়ায় অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সরকার সমালোচনার মুখে পড়েছে। ১৪ বছরের এই যুদ্ধে আনুমানিক ৫ লাখ মানুষ নিহত হয়েছেন।

সিরিয়ান নেটওয়ার্ক ফর হিউম্যান রাইটসের ২০২৫ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের সময় ১ লাখ ৮১ হাজারের বেশি মানুষ জোরপূর্বক নিখোঁজ বা বেআইনিভাবে আটক হয়েছিলেন। তাদের প্রায় ৯০ শতাংশের জন্য আসাদ সরকারকে দায়ী করা হয়েছে।

আলজাজিরার প্রতিবেদক ওবাইদা হিত্তো বলেন, এই মামলায় আদালতে যেসব আইনি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে, সেগুলো ভবিষ্যতে এসব অপরাধে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলার ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত তৈরি করবে।

তাই নাজিবের রায়কে অনেকে দেখছেন, অতীতের অপরাধের বিচার করতে আহমেদ আল-শারার সরকার কতটা এগোতে পারে, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে।

সিরিয়ান নেটওয়ার্ক ফর হিউম্যান রাইটসের প্রতিষ্ঠাতা ফাদেল আবদুলগানি বলেন, এই বিচারের গুরুত্ব শুধু নাজিবকে তার অপরাধের জন্য দায়ী করা হবে কি না, তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং ভবিষ্যতের বিচারপ্রক্রিয়ার জন্য এই মামলায় যে আইনি ভিত্তি তৈরি হবে, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

রায় ঘোষণার সময় দামেস্কের আদালতের বাইরে অনেক মানুষ জড়ো হন। হিত্তোর ভাষ্য অনুযায়ী, তারা এই বিচার হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেন। পরে অনেক সিরীয়কে রায় উদ্‌যাপন করতেও দেখা যায়। হিত্তো বলেন, গত প্রায় দেড় বছরে সিরিয়া আসাদ পরিবারের পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ের শাসন ও স্বৈরশাসনের উত্তরাধিকার কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪