| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

১৩ বছর বেতনহীন, এমপিও চান কালাইয়ের নান্দাইল দিঘী প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ১৬, ২০২৬ ইং | ১৮:৫১:৩০:অপরাহ্ন  |  ৪৬০ বার পঠিত
১৩ বছর বেতনহীন, এমপিও চান কালাইয়ের নান্দাইল দিঘী প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা

কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি:  কারও হাতে বই, কেউ ব্যস্ত খাতায় লিখতে। শারীরিক ও মানসিক নানা প্রতিবন্ধকতা জয় করে শিক্ষার পথে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা। আর তাদের এই পথচলাকে সহজ করতে প্রতিদিন শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করে যাচ্ছেন শিক্ষকরা। তবে বছরের পর বছর দায়িত্ব পালন করলেও নিয়মিত বেতন-ভাতা জোটেনি তাদের ভাগ্যে।

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার নান্দাইল দিঘী অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে এভাবেই চলছে পাঠদান কার্যক্রম। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৪৬ জন, শিক্ষক আছে ১৮ জন এবং কর্মচারী রয়েছে ১০জন।নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। কিন্তু বিনা পারিশ্রমিকে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আর্থিক অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে তাদের।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রিপা জাহান বলেন, “আমরা দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে বিনা বেতনে প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করে যাচ্ছি। আমাদের একটাই দাবি—বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত করা হোক।”

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তারের মা লাবিজা খাতুন বলেন, আমার প্রতিবন্ধী বাচ্চা এই স্কুলে লেখাপড়া করে। ভ্যান ভাড়া দিয়ে নিয়ে আসি, আবার নিয়ে যাই। লেখাপড়াও ঠিকমতো হয়। আমি চাই এই স্কুলের উন্নতি হোক, আমাদের বাচ্চাদেরও উন্নতি হোক।

শিক্ষক-কর্মচারীদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে এমপিওভুক্তির দাবি জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নওফেল আলী।

তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী শিশুরা দেশের কোনো বোঝা নয়, তারা দেশের সম্পদ। এই সম্পদকে মানবসম্পদে রূপান্তরিত করার জন্য আমরা প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছি। দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম করে তাদের শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছি। বর্তমানে ১৮ জন শিক্ষক ও ১০ জন কর্মচারী নিয়মিত কাজ করছেন। শিক্ষকরা বিনা পারিশ্রমিকে দায়িত্ব পালন করছেন। বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত হলে শিক্ষক-কর্মচারীদের যেমন উপকার হবে, তেমনি শিক্ষার্থীদের শিক্ষার পরিবেশও আরও উন্নত হবে।

বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জামাল উদ্দিন বদির বলেন, শিক্ষক-কর্মচারীদের দুরবস্থা দেখে তিনি ব্যক্তিগতভাবে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন ব্যয় বহন করছেন।

তিনি বলেন, “আমাদের শিক্ষক ও কর্মচারীরা খুব কষ্টে জীবনযাপন করছেন। আমি নিজে যতটুকু পারছি বহন করছি। এমনকি জমি বিক্রি করেও স্কুলটি চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের স্কুলটির স্বীকৃতি ও এমপিওভুক্তির জন্য সরকারের কাছে একটাই অনুরোধ—বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত করা হোক।

দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে বেতন-ভাতা ছাড়াই নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও থেমে নেই শিক্ষা কার্যক্রম।শিক্ষকদের প্রত্যাশা,সরকার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত করার উদ্যোগ নেবে। তাহলে তাদের দীর্ঘদিনের আর্থিক অনিশ্চয়তা দূর হবে।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪