| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

হরমুজকে 'মার্কিন ভূখণ্ড' দেখিয়ে ট্রাম্পের মানচিত্র প্রকাশ

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ১৯, ২০২৬ ইং | ১০:৫১:১৮:পূর্বাহ্ন  |  ৪০৪১ বার পঠিত
হরমুজকে 'মার্কিন ভূখণ্ড' দেখিয়ে ট্রাম্পের মানচিত্র প্রকাশ

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: ইরানের সঙ্গে এই মুহূর্তে কোনো আলোচনা চলছে না বা আলোচনার সময়সূচিও নির্ধারিত নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

একই সঙ্গে তিনি তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে হরমুজ প্রণালিকে 'নতুন মার্কিন ভূখণ্ড' হিসেবে চিহ্নিত করে একটি মানচিত্র পোস্ট করেছেন, যা তেহরানের প্রতি তার সাম্প্রতিকতম রাজনৈতিক উসকানি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ট্রাম্প তার পোস্টে লিখেছেন, 'ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে কোনো আলোচনা বা কথোপকথন চলছে না এবং কোনো আলোচনা নির্ধারিতও নেই। ইরানের ওপর নৌ-অবরোধ সম্পূর্ণ বলবৎ রয়েছে।'

অথচ এর মাত্র একদিন আগে, ফক্স নিউজ তাদের এক প্রতিবেদনে দাবি করেছিল—ট্রাম্প নিজেই নিশ্চিত করেছেন যে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ মাধ্যম (ব্যাকচ্যানেল) রয়েছে এবং ওয়াশিংটনের কর্মকর্তারা আইআরজিসি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলছেন।

এছাড়া গত সোমবার ট্রাম্পের ঊর্ধ্বতন উপদেষ্টা ও জামাতা জ্যারেড কুশনার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে 'জোরালো' আলোচনার কথা উল্লেখ করেছিলেন। তবে তিনি এটিও স্বীকার করেন যে, ওয়াশিংটনের সন্তোষজনক কোনো চুক্তিতে আসার জন্য তেহরান এখনও প্রস্তুত নয়।

কিন্তু মঙ্গলবার ট্রাম্প এসব আলোচনার দাবি সম্পূর্ণ নাকচ করে দেন। তিনি আরও লিখেছেন, ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ অব্যাহত রয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেন, হরমুজ প্রণালি 'উন্মুক্ত ও সচল রয়েছে', যদিও যুদ্ধের আগের তুলনায় বর্তমানে এই প্রণালি দিয়ে নৌ-যান চলাচল নাটকীয়ভাবে হ্রাস পেয়েছে।

বিশ্বের তেল সরবরাহের অন্যতম প্রধান এই জলপথে মাইন বিছানোর বিষয়ে অতীতে বেশ কিছু পরস্পরবিরোধী মন্তব্য করার পর ট্রাম্প মঙ্গলবার দাবি করেন, 'সব জলজ মাইন অপসারণ বা নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।'

এর পাশাপাশি ট্রাম্প তাঁর ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে একটি মানচিত্র পোস্ট করেন, যেখানে হরমুজ প্রণালিকে 'নতুন মার্কিন ভূখণ্ড' হিসেবে দেখানো হয়েছে। এর মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক জলসীমার ওপর মার্কিন সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার হুমকিকে তিনি আরও উসকে দিলেন।

অবশ্য ট্রাম্পের এই পদক্ষেপটি কতটা গুরুত্বসম্পন্ন তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। কারণ দ্বিপাক্ষিক আলোচনার সময়সীমার মধ্যে তিনি অতীতেও তেহরানের বিরুদ্ধে এমন অনেক বড় বড় হুমকি দিয়েছিলেন, যা পরবর্তীতে শেষ পর্যন্ত কার্যকর করা হয়নি।

গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে ট্রাম্প যে যুদ্ধ শুরু করেছিলেন, তার পাল্টা জবাব হিসেবে ইরান বিশ্বের মোট তেলের এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হওয়া এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে।

গত শুক্রবার ট্রাম্প প্রথম এই প্রণালিটি দখল করার ধারণাটি সামনে নিয়ে আসেন এবং বলেন যে তিনি শীঘ্রই এটিকে মার্কিন ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করবেন। এরপর গত সোমবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালেও তিনি এই প্রসঙ্গটি টেনে এনে বলেন, এটি একটি ভালো সিদ্ধান্ত হতে পারে।

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে হরমুজ প্রণালীটি একটি উন্মুক্ত ও আন্তর্জাতিক জলপথ হিসেবে ব্যবহৃত হতো।

ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তাদের বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার, তেল নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, অবরুদ্ধ ইরানি সম্পদ ছেড়ে দেওয়া এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ পরিশোধসহ একগুচ্ছ দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা এই প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করবে না।

ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে বলেন, আমি স্পষ্টভাবে জানাতে চাই, সমঝোতা স্মারকে উল্লিখিত মার্কিন প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করা হবে না।

রিপোর্টার্স২৪/এম এইচ

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪