কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একই পরিবারের চারজনের মৃত্যুতে কুষ্টিয়ায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। নিহতরা হলেন কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তার স্ত্রী আফসানা শারমিন মনীষা, ছোট ছেলে শর্নশীষ দত্ত ও শ্বশুর আকরাম হোসেন। এই ঘটনায় পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য হিসেবে বেঁচে আছে ছয় বছরের মহিমা দত্ত।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, স্ত্রী আফসানা শারমিন মনীষার জটিল রোগ ও ছোট ছেলে শর্নশীষের চিকিৎসার জন্য গত ৩ আগস্ট ঢাকা থেকে কলকাতা যান দেবাশীষ দত্ত। কলকাতায় এক রাত অবস্থানের পর স্ত্রী, শ্বশুর ও ছোট ছেলেকে নিয়ে বিমানে বেঙ্গালুরু যান তিনি। সেখানে চিকিৎসা শেষে মঙ্গলবার কলকাতায় ফিরে নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে ওঠেন তারা।
পরিবারের সদস্যদের জন্য কলকাতা থেকে কেনাকাটাও করেন দেবাশীষ। মঙ্গলবার রাতে কুষ্টিয়ার বাড়িতে থাকা বাবা-মায়ের সঙ্গে শেষবার কথা বলেন তিনি। এ সময় বুধবার সকালে ফ্লাইটে দেশে ফেরার কথা জানান। কিন্তু তার আগেই ভোররাতে হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পরিবারের চার সদস্যের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।
এ খবর কুষ্টিয়ায় পৌঁছালে স্বজনদের মধ্যে নেমে আসে শোকের মাতম। বুধবার বিকেলে কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়া পাড়ায় দেবাশীষের ভাড়া বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, নির্বাক হয়ে বসে আছে ছয় বছরের মহিমা। অস্ফুট স্বরে শুধু বলছে, ‘আমার বাবা মারা গেছে।’
সন্তান ও স্বজনদের হারিয়ে আহাজারি করছেন দেবাশীষের মা স্বপ্না দত্ত। পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো বাড়ির পরিবেশ।
দেবাশীষ দত্ত ‘আজকের পত্রিকা’ ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল নাইন-এর কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি ‘আজকের আলো’ নামে একটি স্থানীয় পত্রিকা সম্পাদনা করতেন। তার আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন সহকর্মী ও কুষ্টিয়ার সাংবাদিক সমাজ।
স্বজন ও সহকর্মীরা দ্রুত মরদেহগুলো দেশে ফিরিয়ে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন। চারজনের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে কুষ্টিয়াজুড়ে শোকের আবহ বিরাজ করছে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব