| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ডিএনএ রিপোর্ট: মাদ্রাসা শিক্ষকই ধর্ষিত শিশুটির নবজাতকের জন্মদাতা

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ২৪, ২০২৬ ইং | ২১:৫১:২৫:অপরাহ্ন  |  ১১৯৮৯ বার পঠিত
ডিএনএ রিপোর্ট: মাদ্রাসা শিক্ষকই ধর্ষিত শিশুটির নবজাতকের জন্মদাতা

আনিসুর রহমান, নেত্রকোণা: নেত্রকোণার মদনে ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় জন্ম নেওয়া নবজাতকের বাবা হিসেবে মামলার আসামি মাদরাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরই বলে স্পষ্ট হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনে তার সঙ্গে নবজাতকের জৈবিক সম্পর্কের প্রমাণ মিলেছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) আদালতে ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর বিষয়টি নিশ্চিত করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট নুরুল কবীর রুবেল।

তিনি জানান, ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনে নবজাতকের বাবা হিসেবে অভিযুক্ত মাদরাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরকে শনাক্ত করা হয়েছে।

সোমবার তাকে আদালতে হাজির করা হয় এবং আদালতে ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়েছে। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে মামলাটির বিচার শেষ করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

মামলা সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগর একটি মহিলা কওমি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। শিশুটির মা-বাবার বিচ্ছেদের পর সে নানার বাড়িতে থেকে ওই মাদরাসায় পড়াশোনা করত। তার মা জীবিকার প্রয়োজনে সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন।

এক পর্যায়ে শিশুটি অসুস্থ বোধ করার পাশাপাশি তার শারীরিক পরিবর্তন দেখা দেয়। বিষয়টি জানতে পেরে গত ১৮ এপ্রিল তার মা মদন পৌর শহরের একটি ক্লিনিকে মেয়েকে নিয়ে পরীক্ষা করান। সেখানে চিকিৎসক জানান, শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা।

এরপর ২৩ এপ্রিল শিশুটির মা বাদী হয়ে মাদরাসা শিক্ষক আমান উল্লাহর বিরুদ্ধে মামলা করেন। ৬ মে র‍্যাব তাকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন আদালত তাকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠান। রিমান্ড শেষে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পর আদালত অভিযুক্তের ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দেন।

শিশুটির নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে ১২ মে আদালতের নির্দেশে তাকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীন সিলেটের একটি সেফ হোমে পাঠানো হয়। সেখানে গত ২ জুলাই সে একটি কন্যাশিশুর জন্ম দেয়।

পরে নবজাতকের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ৯ জুলাই পুলিশ আদালতে আবেদন করে। আদালতের নির্দেশে ২৮ জুলাই সিলেটের একটি সেফ হোমে নবজাতকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সেই ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনেই নবজাতকের বাবা হিসেবে মামলার অভিযুক্ত মাদরাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরের পরিচয় নিশ্চিত হয়।

এ ঘটনায় আদালতে ডিএনএ প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর মামলাটি নতুন গুরুত্বপূর্ণ মোড় নিয়েছে। এখন দ্রুত বিচার শেষ করে ভুক্তভোগী ও নবজাতকের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪