| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ফাঁসি ছাড়া অন্য কোনো রায় মেনে নেব না: আছিয়ার মা

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ২৫, ২০২৬ ইং | ২০:০৭:১৭:অপরাহ্ন  |  ৪৬ বার পঠিত
ফাঁসি ছাড়া অন্য কোনো রায় মেনে নেব না: আছিয়ার মা

মাগুরা প্রতিনিধি: মাগুরার বহুল আলোচিত শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ‘ফাঁসি ছাড়া অন্য কোনো রায় মেনে নেব না,আমার সঙ্গে ছলনা করা হচ্ছে’ বলে জানিয়েছেন শিশুটির মা মোছা. আয়েশা বেগম। তিনি বলেন, আমি আসামিদের ফাঁসি চাই। ফাঁসি ছাড়া অন্য কোনো রায় মেনে নেব না। কিন্তু আজ না কাল করে দিন পার করছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর হাইকোর্টের রায় ঘোষণার তারিখ পেছানোর পর স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, আমরা তো চেয়েছিলাম সরকার হয়তো সঠিক বিচার করবে। মামলা দেড় বছর হয়ে গেছে আর কত পেছাবে জানি না। আমি তো গরিব মানুষ, আমার টাকা পয়সা নেই। আমি অর্থ ব্যয় করতে পারি না। এই কারণে হয়তো আমার ঘুরায়ে যাচ্ছে। আমার সাথে ছলনা করা হচ্ছে। আমার তো সহযোগিতা করার মানুষ নেই। এই কারণে আমার সঠিক বিচার হচ্ছে না। আদালত যদি ফাঁসির রায় না দিতে পারে, তাহলে আসামিদের ছেড়ে দিক।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ওই মামলায় রায় ঘোষণার দিন ধার্য ছিল। তবে, রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রায় ঘোষণার নতুন তারিখ আগামী সোমবার (৩১ আগস্ট) নির্ধারণ করেন আদালত। বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

এদিন রায় পেছানোর আবেদন জানিয়ে আদালতের কার্যক্রমের শুরুতে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক বলেন, ‘এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল শুনানি করেছেন। তিনি দেশের বাইরে আছেন। এ কারণে আমরা সময় চাচ্ছি। তখন আদালত সময় আবেদন মঞ্জুর করে রায়ের জন্য আগামী সোমবার দিন ধার্য করেন।’

আদালতে আসামিপক্ষে রয়েছেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান। রাষ্ট্রপক্ষে রয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক। 

এর আগে সোমবার (২৪ আগস্ট) বহুল আলোচিত মাগুরার আট বছরের শিশু আছিয়া হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় আসামি হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর রায়ের জন্য আজকের দিন (২৫ আগস্ট) ধার্য করা হয়।

শিশু আছিয়ার নির্মম ঘটনাটি ঘটে মাগুরা সদর উপজেলায়। গত রমজানের ছুটিতে শহরের নিজনান্দুয়ালী এলাকায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে গত বছরের ৫ মার্চ রাতে শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয়। বোনের শ্বশুর হিটু শেখ মেয়েটিকে শুধু ধর্ষণই করেননি, হত্যারও চেষ্টা চালান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মৃত্যু হয় আট বছর বয়সী শিশুটির। এ ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে তাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল আলোচিত এ মামলায় অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় ২৭ এপ্রিল। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ২৯ জন সাক্ষ্য দেন। গত বছরের ৭ মে এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। মাত্র ১৩ কার্যদিবসে শেষ হয় আলোচিত এ মামলার বিচারিক কার্যক্রম। এক বছর আগে ১৩ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসানের আদালতে মামলার শেষ দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে একই বছরের ১৭ মে রায় ঘোষণা করা হয়। শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি হিটু শেখকে (৪৭) মৃত্যুদণ্ড দেন মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। রায়ে বাকি তিন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়।

খালাসপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- নিহত শিশুর বোনের স্বামী সজীব শেখ (১৯), সজীব শেখের ছোট ভাই (১৭) এবং সজীবের মা জাহেদা বেগম (৪০)। ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডাদেশ হলে তা অনুমোদনের জন্য মামলার যাবতীয় কার্যক্রম উচ্চ আদালতে প্রেরণ করতে হয়। সে অনুসারে এ মামলার নথিও গত বছরের ২১ মে উচ্চ আদালতে পাঠানো হয়। পরে সব যাচাই-বাছাই শেষে পেপারবুক তৈরির জন্য বিজি প্রেসে পাঠানো হয়। প্রস্তুতের পর পেপারবুক ৮ জুন হাইকোর্টে পাঠানো হয়। এরপর শুনানির জন্য বিশেষায়িত বেঞ্চের কার্যতালিকাভুক্ত হয়।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪