| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

নেপালের বন্যায় প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞে SACCJF-এর গভীর শোক

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ২৯, ২০২৬ ইং | ২০:৪১:১৪:অপরাহ্ন  |  ২৩৩ বার পঠিত
নেপালের বন্যায় প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞে SACCJF-এর গভীর শোক

স্টাফ রিপোর্টার: নেপালের ভোটেকোশী অঞ্চলে সাম্প্রতিক বন্যায় প্রাণহানি, সম্পদহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে সাউথ এশিয়ান ক্লাইমেট চেঞ্জ জার্নালিস্টস ফোরাম (SACCJF)। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা এবং দুর্যোগে আক্রান্ত মানুষের প্রতি সংহতি জানিয়েছে সংগঠনটি।

শনিবার (২৯ আগস্ট) এক বিবৃতিতে SACCJF-এর সভাপতি আশিস গুপ্ত ও মহাসচিব কেরামত উল্লাহ বিপ্লব বলেন, ভোটেকোশীর এই ভয়াবহ দুর্যোগ হিমালয় অঞ্চল দ্রুত পরিবর্তিত এবং ক্রমেই অনিশ্চিত ও দুর্যোগপ্রবণ পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার একটি কঠিন স্মারক। ঘটনাটি হিমবাহের ধস, নদীর গতিপথ অবরোধ এবং আকস্মিকভাবে পানি বের হয়ে আসার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে জানা গেছে। তাই বন্যা ও ভূমিধসের প্রচলিত ব্যাখ্যার বাইরে গিয়ে হিমালয় অঞ্চলের দুর্যোগ সম্পর্কে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আশঙ্কাজনক হারে উষ্ণ হয়ে উঠছে হিমালয় অঞ্চল। ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা হিমবাহের গলন ত্বরান্বিত করছে, পারমাফ্রস্ট বা চিরতুষারাবৃত ভূমি গলে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং পাহাড়ি ঢাল ও হিমবাহ-নির্ভর পরিবেশকে অস্থিতিশীল করে তুলছে। এসব পরিবর্তনের ফলে হ্রদ সৃষ্টি বা সম্প্রসারিত হতে পারে, প্রাকৃতিক বাঁধ তৈরি হয়ে পরবর্তী সময়ে ভেঙে পড়তে পারে এবং বিপুল পরিমাণ পানি ও ধ্বংসাবশেষ আকস্মিকভাবে নিম্নাঞ্চলে নেমে আসতে পারে।

SACCJF বলেছে, এ ধরনের ঘটনা স্পষ্ট করে যে জলবায়ু পরিবর্তন এখন আর দূরের কোনো পরিবেশগত উদ্বেগ নয়; এটি মানবজীবন, জনবসতি, অবকাঠামো, জীবিকা এবং জাতীয় অর্থনীতির জন্য সরাসরি হুমকি হয়ে উঠছে। ফলে ভোটেকোশীর ট্র্যাজেডি হিমালয় অঞ্চলের দুর্যোগের মূল কারণ এবং পরিবর্তনশীল ধরন নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে পুনর্বিবেচনার দাবি রাখে।

সংগঠনটি মনে করে, জরুরি উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি পুরো হিমালয় অঞ্চলে দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেওয়া জলবায়ু ও ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়াগুলো বোঝার দিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

বিবৃতিতে নেপাল সরকার, বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রতি ভোটেকোশী দুর্যোগের বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ বৈজ্ঞানিক তদন্ত পরিচালনার আহ্বান জানানো হয়েছে। তদন্তে হিমবাহের গতিশীলতা, পারমাফ্রস্ট গলে যাওয়া, নদীর গতিপথে অবরোধ এবং আকস্মিক বিপর্যয়ের ভূমিকা বিশেষভাবে খতিয়ে দেখার কথা বলা হয়েছে।

SACCJF-এর মতে, এ ধরনের বৈজ্ঞানিক জ্ঞান পুরো হিমালয় অঞ্চলজুড়ে প্রাথমিক সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, দুর্যোগ প্রস্তুতি, ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, উন্নয়ন অংশীদার এবং জলবায়ু সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি নেপালকে তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা দেওয়ার জোর দাবি জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, জলবায়ু-সম্পর্কিত দুর্যোগের কারণে সৃষ্ট ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা এখন সংবেদনশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একক সক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে।

ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ, জীবিকা পুনরুদ্ধার এবং তীব্র প্রয়োজনের মধ্যে থাকা জনগোষ্ঠীকে সহায়তার জন্য নেপালকে প্রয়োজনীয় আর্থিক, প্রযুক্তিগত ও বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

সংগঠনটি বলেছে, ভোটেকোশীর এই ট্র্যাজেডি শুধু নেপালের নয়; এটি দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠা পৃথিবীর পরিণতি সম্পর্কে সমগ্র মানবজাতির জন্য একটি সতর্কবার্তা। হিমালয় পৃথিবীর জলবায়ু ও পানি ব্যবস্থার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পর্বতাঞ্চলে সংঘটিত পরিবর্তনের প্রভাব জাতীয় সীমানা অতিক্রম করে বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এখনই পদক্ষেপ নেওয়ার সময়—শুধু সামনে আসা দুর্যোগ মোকাবিলা করার জন্য নয়, বরং এসব দুর্যোগের কারণগুলো বোঝা, আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করা এবং জলবায়ু সংকট মোকাবিলা করার জন্যও। কারণ জলবায়ু সংকট হিমালয় অঞ্চলের জনগোষ্ঠীগুলোকে ক্রমেই আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪