| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

তিন বছরে চার শতাধিক গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ হয়েছে : বাণিজ্যমন্ত্রী

reporter
  • আপডেট টাইম: সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬ ইং | ১৭:১৪:৪৪:অপরাহ্ন  |  ১১২ বার পঠিত
তিন বছরে চার শতাধিক গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ হয়েছে : বাণিজ্যমন্ত্রী

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: দেশের তৈরি পোশাক খাতে সংকট আরও গভীর হওয়ার চিত্র উঠে এসেছে জাতীয় সংসদে। ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত তিন বছরে বাংলাদেশে চার শতাধিক গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এর মধ্যে বিজিএমইএর সদস্য ২৮২টি এবং বিকেএমইএর সদস্য ১২৩টি কারখানা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিনের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী এ তথ্য জানান। এ সময় সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিন জানতে চান, বর্তমানে বাংলাদেশে কতগুলো তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে, সেগুলোর তালিকা কী, কী কারণে এসব কারখানা বন্ধ হয়েছে এবং তৈরি পোশাক খাতের উন্নয়নে সরকার কী পদক্ষেপ নিয়েছে।

জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত তিন বছরে বিজিএমইএর সদস্য ২৮২টি এবং বিকেএমইএর সদস্য ১২৩টিসহ প্রায় ৪০০টির বেশি গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ হয়েছে। তবে বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলোর পূর্ণাঙ্গ তালিকা সংগ্রহের কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গার্মেন্টস কারখানাগুলো বন্ধ হওয়ার পেছনে দেশি-বিদেশি নানা কারণ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিশ্বব্যাপী করোনা পরিস্থিতির প্রভাব, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত, আমেরিকা-ইরানের মধ্যে যুদ্ধ, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক মন্দা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা।

এ ছাড়া অর্থ পাচারের কারণে ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট, ইউরোপের সঙ্গে ভারত ও ভিয়েতনামের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) এবং বিদেশি ক্রেতাদের নিজস্ব মনিটরিংয়ের সুবিধার্থে ছোট ও মাঝারি কারখানায় রপ্তানি আদেশ দিতে অনাগ্রহকেও কারখানা বন্ধের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।

বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ার পাশাপাশি ছোট ও মাঝারি কারখানাগুলো ক্রয়াদেশ সংকটে পড়ায় এ খাতের অনেক প্রতিষ্ঠান টিকে থাকতে পারেনি বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

দেশের তৈরি পোশাক শিল্পকে আন্তর্জাতিক বাজারে টিকিয়ে রাখা এবং রপ্তানি সক্ষমতা ধরে রাখতে সরকার বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

তিনি জানান, রপ্তানিমুখী দেশীয় বস্ত্র খাতে শুদ্ধ বন্ড ও ডিউটি ড্র-ব্যাকের পরিবর্তে বিকল্প হিসেবে ১ দশমিক ৫০ শতাংশ নগদ সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এ ছাড়া ইউরো অঞ্চলে বস্ত্রখাতের রপ্তানিকারকদের জন্য বিদ্যমান ১ দশমিক ৫০ শতাংশের অতিরিক্ত আরও ০ দশমিক ৫০ শতাংশ বিশেষ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক খাতের নিট, ওভেন ও সোয়েটার অন্তর্ভুক্ত ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য অতিরিক্ত ৩ শতাংশ সুবিধা এবং তৈরি পোশাক খাতে বিশেষ নগদ সহায়তা হিসেবে ০ দশমিক ৩০ শতাংশ দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের আরেক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও তদারকি কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

একই সঙ্গে জেলা পর্যায়ে গঠিত বিশেষ টাস্কফোর্স এবং জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে দেশব্যাপী বাজার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বাজারে অতিরিক্ত মূল্য আদায়, মজুতদারি, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, পণ্যের মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করা এবং অন্যান্য অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী জরিমানা ও প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বাজারে স্বাভাবিক প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনও কাজ করছে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, সিন্ডিকেট, কার্টেল ও যোগসাজশমূলক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

জনস্বার্থে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ এবং দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে বাজার মনিটরিং, তদারকি ও আইনানুগ কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। প্রয়োজন অনুযায়ী এসব কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে বলেও জানান তিনি।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪