চবি প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) পৃথক ঘটনায় এক শিক্ষক ও দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে এক শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত, এক শিক্ষার্থীকে স্থায়ী এবং অপর শিক্ষার্থীকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সময়ে সহকারী প্রক্টরকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় আইন বিভাগের এক শিক্ষার্থীর স্থায়ী বহিষ্কার ও সনদ বাতিলের সিদ্ধান্ত হাইকোর্টে স্থগিত হয়েছে।
গত ৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৬৮তম সিন্ডিকেট সভায় এসব শাস্তিমূলক ব্যবস্থা অনুমোদন করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. সফিকুল ইসলাম ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. হাছান মিয়া।
সিন্ডিকেট সভায় ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে সাবেক সহকারী প্রক্টর ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবদুল ওয়াহেদ চৌধুরীকে (পিলু) সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গত ৩ জুলাই নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে একটি পোস্ট দেন তিনি। পরে পোস্টটির স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এ নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। পোস্টটিতে ‘অশ্লীল ও কটাক্ষমূলক’ বক্তব্য ছিল বলে অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনায় গত ১২ জুলাই উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মো. আল আমিনকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি প্রাথমিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সিন্ডিকেট শিক্ষকটিকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেয়। একই সঙ্গে বিষয়টি অধিকতর তদন্তে আরেকটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. হাছান মিয়া বলেন, “উক্ত তদন্ত কমিটির রিপোর্ট আসলে তারপর উনার শাস্তিমূলক ব্যবস্থাটা ফাইনাল হবে।”
এ বিষয়ে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, প্রথম তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সিন্ডিকেট এ শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অধিকতর তদন্তের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তবে সাময়িক বরখাস্তের বিষয়ে ড. মোহাম্মদ আবদুল ওয়াহেদ চৌধুরী বলেন, তিনি এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো নির্দেশনা পাননি।
এদিকে দর্শন ও ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দর্শন বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. ওয়াসিমকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই ঘটনায় ইতিহাস বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তাহসির হাসানকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।
উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, ইতিহাস ও দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের ঘটনায় একজনকে স্থায়ী এবং একজনকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। এসব সিদ্ধান্ত সিন্ডিকেটে অনুমোদিত হয়েছে।
অন্যদিকে, সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. কোরবান আলীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় আইন বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আফসানা এনায়েত এমিকে স্থায়ী বহিষ্কার ও তাঁর সনদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পরে ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করেন তিনি।শুনানি শেষে হাইকোর্ট তাঁর স্থায়ী বহিষ্কার ও সনদ বাতিলের সিদ্ধান্ত স্থগিত করে ছয় মাসের বহিষ্কারাদেশ দেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, আফসানা এনায়েত এমি নিজের দোষ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন। আদালতের দেওয়া ছয় মাসের বহিষ্কারাদেশের মেয়াদও ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। মামলা চলাকালে সময় অতিবাহিত হওয়ায় ওই ছয় মাস শেষ হয়েছে বলে জানান তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক সিদ্ধান্তগুলো সংশ্লিষ্ট তদন্ত, প্রতিবেদন ও সিন্ডিকেটের অনুমোদনের ভিত্তিতেই নেওয়া হয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম