| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

আপিল বিভাগে বাগবিতণ্ডা, এজলাস ছাড়লেন প্রধান বিচারপতি

reporter
  • আপডেট টাইম: সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬ ইং | ১৫:৫৯:৪২:অপরাহ্ন  |  ৯৮০ বার পঠিত
আপিল বিভাগে বাগবিতণ্ডা, এজলাস ছাড়লেন প্রধান বিচারপতি

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: তথ্য গোপনের অভিযোগে এক আইনজীবীকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করাকে কেন্দ্র করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও সুপ্রিম কোর্ট বার সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। একপর্যায়ে এজলাস ত্যাগ করেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বিচারপতিরা।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে শুনানির সময় এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, শুনানির একপর্যায়ে সুপ্রিম কোর্ট বার সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন প্রধান বিচারপতিকে উদ্দেশ করে বলেন, তিনি প্রধান বিচারপতি হওয়ার পর থেকে আইনজীবীদের আয় কমে গেছে। এ বক্তব্যকে কেন্দ্র করে প্রধান বিচারপতি ও বার সভাপতির মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের বিচারপতিরা এজলাস ত্যাগ করেন।

ঘটনার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সুপ্রিম কোর্ট বার সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। তিনি বলেন, এক আইনজীবীকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি প্রধান বিচারপতির কাছে বিনয়ের সঙ্গে জরিমানার পরিমাণ কমানো বা মাফ করার আবেদন জানিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, আপনি প্রধান বিচারপতি হওয়ার পর আসলে মামলা শুনানি করা যাচ্ছে না আগের মতো। এ কারণে লইয়ারদের ইনকাম কমে গেছে। একজন জুনিয়র লইয়ারকে ৫ লাখ টাকা কস্ট দেওয়াটা অনেক বেশি হয়ে গেছে। উনাকে মাফ করেন।

বার সভাপতি বলেন, তার বক্তব্যের পর প্রধান বিচারপতি তাকে প্রশ্ন করেন, তিনি প্রধান বিচারপতি হওয়ার পর আইনজীবীদের আয় কমে গেছে এমনটা তিনি মনে করছেন কি না।

ব্যারিস্টার খোকন বলেন, আগে আপিল বিভাগে ১১ জন বিচারপতির একটি বেঞ্চসহ তিনটি বেঞ্চ ছিল এবং ওই তিন বেঞ্চে মামলা শুনানি হতো। বর্তমানে একটি বেঞ্চ থাকায় মামলা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।

তিনি বলেন, এখন একটা বেঞ্চ এবং একটা মামলায় স্টে হলে হয়তো ছিল কি ইনজংশন, শুনানি করার পরেই কিন্তু স্টে গ্রান্ট... জামিন বেরিয়ে যায় বা রিটে বলেন। সেখানে শুনানি করতে পারছে না।”

চেম্বার জজের মাধ্যমে কোনো মামলায় স্থগিতাদেশ হলে সেটির শুনানি পেতেও দীর্ঘ সময় লেগে যাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

নিজের একটি মামলার উদাহরণ দিয়ে বার সভাপতি বলেন, ওই মামলায় দোষী প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ তিন মাসের সাজা হতে পারে। কিন্তু আপিল বিভাগে মামলাটি প্রায় এক বছর ধরে স্থগিত রয়েছে। চারবার চেম্বার জজের কাছে শুনানির অনুরোধ করেও তিনি শুনানি করাতে পারেননি বলে জানান। ব্যারিস্টার খোকনের ভাষায়, শুধু আমার না, সব লইয়ারদের একই অবস্থা।

তিনি আরও বলেন, আপিল বিভাগে মামলার বিষয়ে মেনশন করার সুযোগ না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে অনেক মানুষ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং মামলা শুনানি করতে না পারায় আইনজীবীদের আয়ও কমে যাচ্ছে।

বার সভাপতি বলেন, লইয়ারদের প্রতিনিধি হিসেবে অবশ্যই আমার অবলিগেশন আছে ওনার কাছে লইয়ারদের পক্ষে আবেদন করার। এটা বাস্তব সত্য কথাই তো!

আপিল বিভাগে ঠিক কী ঘটেছিল এবং কেন প্রধান বিচারপতি এজলাস ত্যাগ করেন, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বার সভাপতি মাহবুব উদ্দিন খোকন আপিল বিভাগে এসে একজন আইনজীবীকে জরিমানা করার বিষয়টি উত্থাপন করেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, তখন প্রধান বিচারপতি তাকে জানান, আদালত সবকিছু দেখে-শুনে আদেশ দিয়েছেন এবং সেই আদেশ পরিবর্তন করা হবে না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ঘটনায় আদালতের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে এবং সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আগের আদেশও অমান্য করা হয়েছে।

তিনি বলেন, তখন চিফ জাস্টিস বললেন, দেখেন, আমরা সবকিছু দেখে-শুনে একটা আদেশ দিয়েছি, আমাদের আদেশ আমরা পরিবর্তন করব না।

অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, এ সময় প্রধান বিচারপতি বার সভাপতিকে এ বিষয়ে আর কিছু না বলতে বলেন। কিন্তু এরপর অত্যন্ত অপ্রত্যাশিতভাবে বার সভাপতি বলেন, আপনি প্রধান বিচারপতি হওয়ার পরে আইনজীবীদের ইনকাম কমে গেছে।

তারপর প্রধান বিচারপতি তাকে প্রশ্ন করেন, তিনি কি সত্যিই এমনটা বোঝাতে চেয়েছেন? ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, বার সভাপতি একই বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করলে প্রধান বিচারপতি বলেন, এ ধরনের বক্তব্য অ্যাবসোলিউটলি আদালত অবমাননার শামিল।

অ্যাটর্নি জেনারেলের ভাষ্য অনুযায়ী, এরপর প্রধান বিচারপতি বলেন, যেহেতু আপনি এত বড় একটা কথা বলেছেন, আমি আজকে আর আদালতের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করব না। এ কথা বলেই প্রধান বিচারপতি এজলাস ত্যাগ করেন বলে জানান অ্যাটর্নি জেনারেল।

উল্লেখ্য, নিকাহ রেজিস্ট্রার নিয়োগ সংক্রান্ত একই ঘটনায় একাধিক রিট মামলা করায় তথ্য গোপন ও প্রতারণার অভিযোগে রিটকারী মো. নুর আলম এবং তার আইনজীবী সুফিয়া আহামেদকে পাঁচ লাখ টাকা করে মোট ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেন আপিল বিভাগ। আদালতের আদেশ অনুযায়ী, জরিমানার টাকা ৩০ দিনের মধ্যে ঢাকা শিশু হাসপাতালে জমা দিতে বলা হয়েছে।

মো. নুর আলমের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী মাহাবুব উদ্দিন খোকন। অপর নিকাহ রেজিস্ট্রার মিজানুর রহমান মুরাদের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী অনীক আর হক, সিনিয়র আইনজীবী মো. শিশির মনির এবং আইনজীবী অমিত দাশ গুপ্ত।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪