মোঃআইনুর ইসলাম, বগুড়াঃ শরত এলেই প্রকৃতি যেনো নতুন সাজে সেজে ওঠে। নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা আর মাঠ-প্রান্তরে দুলতে থাকা কাশফুল জানান দেয় আবারও শরত ফিরে এসেছে। নন্দীগ্রাম উপজেলায় এবারও কাশবনে ফুটেছে সাদা কাশফুল। দক্ষিণা বাতাসে দুলতে থাকা কাশফুলের শুভ্রতা সৃষ্টি করেছে এক অপরূপ নৈসর্গিক সৌন্দর্য।
নন্দীগ্রাম উপজেলার পূর্ব সীমান্তে ভদ্রাবতী নদী, পশ্চিম সীমান্তে নাগর নদীসহ বিভিন্ন খাল ও জলাশয়ের পাড়ে দেখা মিলছে কাশফুলের। নদী, খাল ও জলাশয়ের পাড়জুড়ে ফুটে থাকা সাদা কাশফুল দূর থেকে মনে হয় যেনো প্রকৃতির বিছিয়ে রাখা শুভ্র চাদর। শরতের মৃদু দক্ষিণা বাতাসে কাশফুলের দোল খাওয়া দৃশ্য পথচারী ও প্রকৃতিপ্রেমীদের দৃষ্টি কাড়ছে। সাদা কাশফুলের সঙ্গে নীল আকাশ আর সবুজ প্রকৃতির মেলবন্ধনে তৈরি হয়েছে মনোমুগ্ধকর পরিবেশ। অনেকেই এমন নয়নাভিরাম দৃশ্য উপভোগ করতে ছুটে যাচ্ছেন কাশবনের কাছে। কেউ কেউ স্মৃতি ধরে রাখতে ছবি তুলছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রতিবছর শরত মৌসুমে নদী, খাল ও জলাশয়ের পাড়ে কাশফুল ফুটলেও এবারও এর সৌন্দর্য নজর কেড়েছে। কাশফুলের শুভ্রতা যেনো প্রকৃতির নিজস্ব তুলিতে আঁকা এক অনন্য ছবি। প্রকৃতিপ্রেমীদের মতে, শরতের কাশফুল বাংলার চিরচেনা সৌন্দর্যের অন্যতম প্রতীক। নন্দীগ্রামের নদী, খাল ও জলাশয়ের পাড়ে ফুটে থাকা কাশফুলে সেই ‘রূপসী বাংলার সৌন্দর্যই যেনো নতুনত্ব নিয়ে ধরা দিয়েছে। শরতের বাতাসে দুলতে থাকা সাদা কাশফুল তাই প্রকৃতির সৌন্দর্য পিপাসু মানুষের মনে জাগাচ্ছে নির্মল আনন্দ ও মুগ্ধতা।
নন্দীগ্রাম উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের দমদমা গ্রামের বিশিষ্ট সমাজসেবক আলমগীর হোসেন বাচ্চু বলেন, নাগর নদীর দমদমা, পার নাগরকান্দি ও নাগরকান্দি অংশ শরতকালে অপরূপ কাশবনে পরিনত হয়। যা দেখার জন্য গ্রামগঞ্জের মানুষ ছুটে আসে। আমরাও বিকেলে অবসর সময়ে হাঁটতে হাঁটতে কাশবনের দিকে যাই এবং বেশ সময় কাটাই।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গাজীউল হক বলেন, কাশফুলের আদি নিবাস রোমানিয়ায়। কাশফুলের ইংরেজি নাম ক্যাটকিন। এ উদ্ভিদটি সাধারণত ৩ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। নদীর ধার, চরাঞ্চল, শুকনো এলাকা ও গ্রামের উঁচু জায়গায় কাশের ঝাড় বেড়ে ওঠে। কাশফুল দেখতেও অনেক সুন্দর।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব