স্টাফ রিপোর্টার: দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করা, কুয়াকাটার পর্যটন সম্ভাবনা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরা এবং স্থানীয় অর্থনীতির বিকাশের লক্ষ্যে আগামী ২৩ ও ২৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে ‘কুয়াকাটা পর্যটন কার্নিভাল ২০২৬’। বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এ কার্নিভালে থাকছে বিচ ফুটবল, বিচ ম্যারাথন, সি-ফুড ও আদিবাসী ফুড ফেস্টিভ্যাল, ঘুড়ি উৎসব, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা আয়োজন।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) আগারগাঁওয়ের পর্যটন ভবনের শৈলপ্রপাত মিলনায়তনে কার্নিভালের বিস্তারিত তুলে ধরতে ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান ও অতিরিক্ত সচিব মো. সামীমুজ্জামান। স্বাগত বক্তব্য দেন সংস্থাটির পরিচালক (বাণিজ্যিক) ও গ্রেড-২ মো. গণী উল আজম।
অনুষ্ঠানে কার্নিভালের কর্মসূচি তুলে ধরে মো. সামীমুজ্জামান বলেন, কুয়াকাটা বাংলাদেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় সমুদ্রভিত্তিক পর্যটন গন্তব্য। একই স্থান থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার সুযোগ, সমুদ্রসৈকতের সৌন্দর্য, উপকূলীয় প্রকৃতি, রাখাইন সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য, লোকজ সংস্কৃতি ও স্থানীয় মানুষের জীবনধারা কুয়াকাটাকে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য দিয়েছে।
তিনি বলেন, কুয়াকাটার পর্যটন সম্ভাবনা দেশ-বিদেশে তুলে ধরার পাশাপাশি এ খাতের সঙ্গে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করা জরুরি। স্থানীয় মানুষকে পর্যটন অর্থনীতির সক্রিয় অংশীদার করা গেলে তাঁদের আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে। একই সঙ্গে স্থানীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও জীবনধারা পর্যটকদের কাছে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে।
চেয়ারম্যান বলেন, ‘কুয়াকাটা পর্যটন কার্নিভাল ২০২৬’ শুধু বিনোদনমূলক আয়োজন নয়; এটি কুয়াকাটাকে বহুমাত্রিক, টেকসই ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীকেন্দ্রিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ। এর মাধ্যমে কুয়াকাটার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি স্থানীয় সংস্কৃতি, খাবার, পণ্য, খেলাধুলা ও জীবনধারা পর্যটকদের সামনে তুলে ধরা হবে।
কার্নিভালের প্রথম দিন ২৩ অক্টোবর সকালে স্থানীয় স্কুলের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিচ ফুটবলের মধ্য দিয়ে কার্যক্রম শুরু হবে। পরে প্রধান অতিথি ও আমন্ত্রিত শিল্পীদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে।
দিনভর থাকবে সি-ফুড ও আদিবাসী ফুড ফেস্টিভ্যাল, বিচ ফুটবলের ফাইনাল, লেম্বুর বনে ভ্রমণ, ঘুড়ি উৎসব, শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও সূর্যাস্ত উপভোগ। সন্ধ্যায় পুঁথি পাঠ, রাখাইন সম্প্রদায়ের পরিবেশনা, দেশীয় ফ্যাশন শো ও মিউজিক কনসার্টের আয়োজন থাকবে।
দ্বিতীয় দিন ২৪ অক্টোবর সকালে অনুষ্ঠিত হবে বিচ ম্যারাথন। এ ছাড়া গঙ্গামতির চরে সূর্যোদয় দর্শন ও পিঠা উৎসব, চর বিজয়ের উদ্দেশ্যে আনন্দভ্রমণ এবং সেলিব্রিটি বিচ ক্রিকেট অনুষ্ঠিত হবে।
এদিন বাউল গানের আসর, দেশীয় ফ্যাশন শো, স্থানীয় স্কুলের শিশুদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, কমেডি শো ও সংগীতানুষ্ঠানও থাকবে। সম্মাননা ও পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে শেষ হবে দুই দিনব্যাপী এ আয়োজন।
মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়াঙ্গনের কয়েকজন তারকা এবং কার্নিভাল বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাকশন কাট এন্টারটেইনমেন্ট, ঢাকা টকিজ ও সানফ্লাওয়ার ৩৬০-এর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব