| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত প্রভাব নিয়ে এডিবি

বাস্তুচ্যুত হতে পারে দেশের সাড়ে ৭% মানুষ

reporter
  • আপডেট টাইম: অক্টোবর ২২, ২০২৬ ইং | ১০:৫২:৫৪:পূর্বাহ্ন  |  ১৬৪৯ বার পঠিত
বাস্তুচ্যুত হতে পারে দেশের সাড়ে ৭% মানুষ

স্টাফ রিপোর্টার: জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের প্রায় এক কোটি ৩৩ লাখ মানুষ অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে; যা দেশের মোট জনসংখ্যার সাড়ে ৭ শতাংশ।

গতকাল বুধবার এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) প্রকাশিত ‘এশিয়া-প্যাসিফিক ক্লাইমেট রিপোর্ট ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ আশঙ্কার কথা প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রতিবেশী ভারত ও মিয়ানমারের উপকূলীয় এলাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে উপকূলেই বাস করে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি প্লাবন-ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী। গ্রিনহাউস গ্যাসের উচ্চ নির্গমনের বর্তমান হার বজায় থাকলে এই শতকের শেষ নাগাদ বাংলাদেশে প্রতিবছর গড়ে এক কোটি ৭৫ লাখ মানুষ উপকূলীয় প্লাবনের শিকার হতে পারে।

এডিবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে ২০৫০ সালের মধ্যে উপকূলীয় বন্যায় প্রতিবছর আক্রান্ত হতে পারে তিন কোটি ৩০ লাখ মানুষ, যা ২১০০ সাল নাগাদ বেড়ে দাঁড়াবে ১০ কোটি ৮০ লাখে।

এসব ঝুঁকির একটা বড় অংশ কেন্দ্রীভূত রয়েছে গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপসহ এশিয়ার বৃহৎ ঘনবসতিপূর্ণ নদী অববাহিকাগুলোতে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তন ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে উপকূলীয় বন্যার বার্ষিক আর্থিক ক্ষতি ২০৫০ সালের মধ্যে ১৯৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছতে পারে। শতাব্দীর শেষ নাগাদ এ ক্ষতি বেড়ে দাঁড়াতে পারে ৭৩৯ বিলিয়ন ডলারে। তবে এখনই উপকূলীয় সুরক্ষা ও জলবায়ু অভিযোজন খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে বছরে ৩৬০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত সম্ভাব্য ক্ষতি এড়ানো সম্ভব।

ঝুঁকিতে রয়েছে সমুদ্র উপকূলের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে বসবাসকারী ৪০ কোটিরও বেশি মানুষ।

ম্যানিলায় সংস্থাটির প্রধান কার্যালয় থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনটিতে উপকূলীয় বন্যার ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবেলায় দ্রুত ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ৩০টি উপকূলীয় অর্থনীতিতে বর্তমানে বন্যায় বছরে প্রায় ২৭ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়। কার্যকর অভিযোজন ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ২০৫০ সালে এ ক্ষতি বেড়ে ১৭২ থেকে ১৯৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছতে পারে। ২১০০ সালে তা ৫২০ থেকে ৭৩৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে।

এডিবির হিসাবে, উপকূলীয় সুরক্ষা ও অভিযোজন খাতে বছরে ৯ থেকে ১৯ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে ১৭৮ থেকে ৩৬০ বিলিয়ন ডলারের বার্ষিক ক্ষতি এড়ানোর সুযোগ রয়েছে। সংস্থাটির জলবায়ু পরিবর্তন ও টেকসই উন্নয়ন বিভাগের মহাপরিচালক ইয়েভগেনি জুকোভ বলেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও তীব্রতর প্রাকৃতিক দুর্যোগ উপকূলীয় জনপদের অস্তিত্ব ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে হুমকির মুখে ফেলছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ব্যাঙ্কক, জাকার্তা, কলকাতা ও মুম্বাইয়ের মতো শহরে শতাব্দীর শেষে এমন বন্যা প্রতিবছর ঘটতে পারে, যা আগে ১০০ বছরে একবার ঘটত। ক্ষুদ্র প্রবালদ্বীপভিত্তিক রাষ্ট্রগুলোতে বন্যার বার্ষিক ক্ষতি জিডিপির ৩০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

উপকূলীয় সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক অর্থায়ন বাড়লেও প্রয়োজনের তুলনায় তা অপর্যাপ্ত। এডিবি সরকারি পরিকল্পনায় জলবায়ু অভিযোজন যুক্ত করা, বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো এবং সুশাসন ও প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতা জোরদারের সুপারিশ করেছে।

রিপোর্টার্স২৪/রাফিদ

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪