ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: ঝিনাইদহ শহরের মহিলা কলেজপাড়া এলাকায় ড্রেন নির্মাণকাজে বাধা, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদা দাবি এবং কলেজ অধ্যক্ষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগে দুই সাংবাদিককে মারধর করে আটকে রাখার ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে ঝিনাইদহ সদর থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। পরবর্তীতে তাঁদের থানা পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়।
আটক দুই সাংবাদিক হলেন অরিত্র কুন্ডু (৩৮) ও হাবিবুর রহমান রুবেল (৩০)। অরিত্র কুন্ডু গ্রিন টিভি ও দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশ পত্রিকার পশ্চিম অঞ্চলের ইনচার্জ। হাবিবুর রহমান রুবেল বাংলা ৭১ পত্রিকার ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি ও অরিত্র কুন্ডুর সহকারী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মহিলা কলেজপাড়া এলাকায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ঝিনাইদহ পৌরসভার ড্রেন নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, দুই সাংবাদিক প্রায়ই নির্মাণকাজের সাইটে গিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে অনৈতিক আর্থিক সুবিধা দাবি করতেন। সোমবারও তাঁরা কাজের সাইটে গিয়ে নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ তুলে শ্রমিকদের সঙ্গে তর্কে জড়ান। এ সময় কাজ বন্ধ করে দেওয়ার চাপ সৃষ্টি করা হয় বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
পরে দুই সাংবাদিক সরকারি নুরুন্নাহার মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ বিজন কুমার সরকারের কক্ষে গিয়ে ড্রেন নির্মাণকাজে অনিয়ম, ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশ এবং কলেজের প্রাচীরের ইট বিক্রির অভিযোগ তোলেন বলে জানা গেছে। অধ্যক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে অরিত্র কুন্ডু অধ্যক্ষের টেবিলে সজোরে আঘাত করেন এবং অধ্যক্ষ ও শিক্ষক আমিরুল ইসলামের সঙ্গে উচ্চবাচ্য করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরে কলেজের ফটকের কাছে গেলে স্থানীয় লোকজন অরিত্র কুন্ডুকে মারধর করে আটকে রাখেন বলে জানা গেছে। এ সময় অপর সাংবাদিক হাবিবুর রহমান রুবেলও ঘটনার মধ্যে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ ও ডিবি পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে থানা পুলিশের হেফাজতে নেন।
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি উন্নয়নকাজে বাধা সৃষ্টি, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদা দাবি এবং কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তবে নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ থাকলে সেটিও নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম