| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ইলিশ ধরতে পদ্মা-মেঘনায় জেলেরা, সরগরম হয়ে উঠেছে আড়ৎ

reporter
  • আপডেট টাইম: অক্টোবর ৩০, ২০২৬ ইং | ২০:৫০:২০:অপরাহ্ন  |  ৬৯১ বার পঠিত
ইলিশ ধরতে পদ্মা-মেঘনায় জেলেরা, সরগরম হয়ে উঠেছে আড়ৎ

চাঁদপুর প্রতিনিধি: নিরাপদ ইলিশ প্রজননের ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে মেঘনা নেমেছে হাজার হাজার জেলে। রূপালী ইলিশ পাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে চাঁদপুরের ৭০ কিলোমিটার নৌ এলাকায় বিচরণ করছে জেলেরা। কিছু জেলে আড়তে নিয়ে আসছেন ইলিশ, পাঙ্গাসসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ নিয়ে। এতে সরগরম হয়ে উঠেছে নদী উপকূলীয় আড়তগুলো। তিন সপ্তাহ অবসর সময় কাটিয়ে ব্যবসায়ী, শ্রমিক সকলে ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন। তবে ইলিশের দাম কমেনি। আগরে দামে বিক্রি হচ্ছে বড় সাইজের ইলিশ।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল ৭টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত সদর উপজেলার হরিণা মাছঘাটে অবস্থান করে দেখাগেছে জেলেদের ইলিশ আহরণ ও কেনাবেচার চিত্র।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) মধ্য রাত থেকে অনেক জেলে ইলিশ ধরার জন্য পদ্মা-মেঘনা নেমেছেন। ওইসব জেলে ভোরের আলো দেখাদিতে ভিড়েছেন মাছঘাটে। হরিণা ফেরিঘাট সংলগ্ন মাছঘাটে একের পর এক জেলে নৌকা এসে ভীড়ছে। জেলেরা প্লাস্টিকের ট্রেতে করে নিয়ে আসছে ইলিশসহ অন্যান্য জাতের মাছে।

এই মাছঘাটে রয়েছে প্রায় ছোট-বড় ২০টি ইলিশের আড়ত। জেলেরা এসব আড়তে এনে মাছের স্তুপ করছেন এবং কিছু সময়ের মধ্যে হাঁকাডাক দিয়ে ব্রিক হয়ে যাচ্ছে। এই ঘাটে সংরক্ষণ করে ইলিশ বিক্রি করা হয় খুবই কম। শহরে বিক্রির জন্য এক ধরণের খুচরা ব্যবসায়ী এবং বড় স্টেশন মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে নিয়ে বিক্রি করার জন্য দুই ধরণের ব্যবসায়ী এই ঘাট থেকে তাজা ইলিশ ক্রয় করে নিয়ে যায়।

ঘাটের পাশের গোবিন্দপুর গ্রামের জেলে লিটন তপাদার বলেন, রাতে নেমে ভোরে ঘাটে এসে বিক্রি করেছেন ১২হাজার টাকার ইলিশ। যদি এভাবে ইলিশ পাওয়া যায়, তাহলে কয়েকদিনের মধ্যে তাদের ঋণ পরিশোধ হবে। প্রত্যাশা ইলিশ পাবেন।

আরেক জেলে আবুল কালাম খান বলেন, তারা ৭জন মিলে মধ্যরাতে নদীতে নেমেছেন। তাদের পাওয়া ইলিশ বিক্রি করেছেন ১৫ হাজার টাকা। কিছু সময় পর আবারও নামবেন ইলিশ শিকারে। কয়েকদিন পরে ইলিশের প্রাপ্যতা কমে আসবে বলে জানালেন তিনি।

ঘাটের আড়তদার জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ইলিশের দাম কমবে না। কারণ চাহিদা বেশি। এক কেজি ওজনের ইলিশ ২৫শ’ থেকে ২৬শ’ টাকা, ৪০০ থেকে ৫০০গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতিকেজি ১৩শ’ থেকে ১৫শ’ টাকা, ছোট সাইজের অর্থাৎ ২০০ থেকে ৩০০ গ্রাম ওজনের প্রতি হালি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৫শ’ থেকে সাড়ে ৬শ’ টাকা কেজি।

তিনি আরো বলেন, কিছু জেলে ইলিশের পাশাপাশি পাঙ্গাস মাছ পাচ্ছেন। এর মধ্যে বড় সাইজের পাঙ্গাস প্রতিকেজি ১২শ’ টাকা এবং ছোট সাইজের পাঙ্গাস ৯শ’ থেকে হাজার টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ইলিশের আমদানি ভালো থাকলে দাম কম-বেশি হতে পারে।

আরেক আড়তার মো. সেলিম বলেন, আজকে সকাল থেকে মাছ আসা শুরু হয়েছে। আজকে এবং আগামীকাল পর্যন্ত বুঝাযাবে ইলিশের আমদানি কেমন। কারণ বিগত বছরগুলোতে দুই দিন পরে ইলিশের আমদানি কমেগেছে।

এই ঘাটের আড়তদার ইব্রাহীম মিয়া বলেন, নিষেধাজ্ঞার পরে বড় সাইজের ইলিশ বেশি আসছে। ছোট সাইজের ইলিশের সংখ্যা খুবই কম। ইলিশ পরিমানে কম পাওয়াগেলেও পাঙ্গাস মাছ পাওয়ায় জেলেদের লোকসান কিছুটা কাটিয়ে উঠতে পারবে।

হরিণা মাছঘাটের প্রবীণ মাছ ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম সৈয়াল বলেন, এই সময় নদীতে ইলিশ ভরপুর থাকত। কিন্তু অভিযান দিয়ে লাভ হয়নি। কারণ এক শ্রেণির জেলে মা ইলিশ মেরেছে। প্রশাসন তাদের নিয়ন্ত্রণ করে রাখতে পারেনি।

চাঁদপুর সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বলেন, জাটকা ও মা ইলিশ রক্ষায় দুটি অভিযান কঠোর থাকায় জেলেরা সুফল পাচ্ছে। তারা ইলিশের পাশাপাশি পাঙাস পাচ্ছে। সরকারিভাবে পাঙ্গাস বেড়ে উঠার জন্য প্রকল্প দেয়া হলে এটি ইলিশের মত জাতীয় অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখবে।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪