| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে: শফিকুর রহমান

reporter
  • আপডেট টাইম: অক্টোবর ৩১, ২০২৬ ইং | ২০:৩৭:৪৮:অপরাহ্ন  |  ৭৭৩ বার পঠিত
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে: শফিকুর রহমান

খুলনা প্রতিনিধি: গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত ধারাবাহিক আন্দোলন চলবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। দাবি আদায়ে পর্যায়ক্রমে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনে খুলনা থেকে ঢাকায় যাওয়ার কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। সে ক্ষেত্রে গ্রামবাংলার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকায় যাওয়ার প্রস্তুতি রাখার আহ্বান জানান তিনি।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে খুলনার ঐতিহাসিক শিববাড়ি মোড়ে সাত দফা দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতেই হবে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন কর্মসূচি একের পর এক আরও জোরালো করা হবে। প্রয়োজনে খুলনা থেকে ঢাকায় যাওয়ার ডাক দেওয়া হবে। তখন গ্রামের প্রতিটি ঘর থেকে মানুষকে ঢাকায় যাওয়ার প্রস্তুতি রাখার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, ১১ দলীয় ঐক্যের দাবিগুলো কোনো নির্দিষ্ট দল বা জোটের নয়; এগুলো দেশের প্রতিটি নাগরিকের দাবি। জুলাই গণহত্যাসহ গত সাড়ে ১৫ বছরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার, চাঁদাবাজি বন্ধ, অর্থ পাচার রোধ এবং কৃষকের জন্য সারের নিশ্চয়তা প্রতিষ্ঠার দাবিতে তাঁরা আন্দোলনে নেমেছেন।

সরকারের সমালোচনা করে জামায়াতের আমির বলেন, সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর গণভোটের বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিভিন্ন কার্ড বিতরণের প্রচার চালানো হলেও সাধারণ মানুষ প্রকৃতপক্ষে এর সুফল পাচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। পাশাপাশি গ্যাস ও বিদ্যুতের বিলের মাধ্যমে জনগণের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

কৃষকদের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কৃষক সার পাচ্ছেন না। নতুন করে ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে ২০ লাখ, ২৫ লাখ, ৩০ লাখ, ৫০ লাখ থেকে শুরু করে এক কোটি টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠছে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বিরোধ ও অনিয়মের খবর সামনে এলেও কৃষকের সারের সংকট কাটছে না। কৃষকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার দাবিতেই তাঁরা মাঠে নেমেছেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তাঁদের আন্দোলনের আরেকটি উদ্দেশ্য হলো গত সাড়ে ১৫ বছরে, বিশেষ করে জুলাইয়ে, হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তিদের হত্যাকারীদের বিচার নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে সরকারি দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, চাঁদাবাজির যন্ত্রণা থেকে জনগণকে মুক্তি দেওয়া এবং লুটপাটের মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচার বন্ধ করাও তাঁদের আন্দোলনের অন্যতম লক্ষ্য।

তিনি আরও বলেন, গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে এবং কর্মসূচি ক্রমেই আরও কঠোর হবে। লংমার্চের মাধ্যমে ঢাকা থেকে খুলনায় আসার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে খুলনা থেকে ঢাকায় যাওয়ার কর্মসূচি দেওয়া হলে সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে তা সফল করতে হবে।

পথসভায় আরও যারা বক্তব্য দেন

১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির খুলনার আহ্বায়ক ও খুলনা মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে পথসভায় সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির মহানগর সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল এমপি।

এতে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি, অধ্যক্ষ মো. ইজ্জত উল্লাহ এমপি, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ খান প্রধান, এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহাদাতুল্লাহ টুটুল, এনসিপির আবদুল হান্নান মাসউদ এমপি, ঢাকা মহানগর জামায়াতের আমির সেলিম উদ্দিন, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মুহাদ্দিস রবিউল বাসার এবং খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব, নেজামী পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইযাহার চৌধুরী, এমডিপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. বেলাল হোসেন নেয়াজী, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক মাওলানা হুসাইন আকন্দ, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি ইব্রাহিম রনি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জিএস এস এম ফরহাদ, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ও সাতক্ষীরা সদর আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম বকুল, খুলনা জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা কবিরুল ইসলামসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

পথসভায় জামায়াতে ইসলামী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), এবি পার্টি, লেবার পার্টি, জাগপা ও অন্যান্য শরিক দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

রিপোর্টার্স২৪/রাফিদ  


ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪