| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

‘ভোট চুরি, সংবিধান ধ্বংস হতে দেব না’—দিল্লির রামলীলায় রাহুলের হুঁশিয়ারি

reporter
  • আপডেট টাইম: নভেম্বর ০১, ২০২৬ ইং | ১৯:২৭:২৫:অপরাহ্ন  |  ২৯০ বার পঠিত
‘ভোট চুরি, সংবিধান ধ্বংস হতে দেব না’—দিল্লির রামলীলায় রাহুলের হুঁশিয়ারি

আশিস গুপ্ত, নয়াদিল্লি : ‘‘জ্ঞানেশ কুমারকে সরানো হবে, তাঁকে জেলে যেতে হবে। ওঁর পর নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোথাও পালানোর জায়গা পাবেন না তাঁরা।’’ রবিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানে ইন্ডিয়া জোটের ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ মহাসমাবেশ থেকে এই ভাষাতেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। 

তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের সাহায্যে ভোটার তালিকা থেকে কোটি কোটি মানুষের নাম বাদ দিয়ে দেশের নির্বাচনী গণতন্ত্রকে দুর্বল করা হচ্ছে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন-সহ একাধিক নির্বাচনে ভোট চুরির অভিযোগ তুলে রাহুল বলেন, ‘‘এটা সাধারণ চুরি নয়। কোনও দোকান থেকে জিনিস চুরি করার মতো ঘটনা নয়। এটা প্রত্যেক মানুষের কণ্ঠস্বর চুরি। আইনের ভাষায় একে বিরলতম অপরাধগুলির একটি বলা যায়। একে রাষ্ট্রদ্রোহ বলা হয়।’’ 

এদিনের সমাবেশে রাহুলের বক্তৃতাই ছিল বিরোধী জোটের রাজনৈতিক অবস্থানের কেন্দ্রবিন্দু। তাঁর বক্তব্যে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে নাগরিকদের ভোটাধিকার হরণ, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির উপর শাসক দলের নিয়ন্ত্রণ এবং দেশের সম্পদের উপর কয়েকটি কর্পোরেট গোষ্ঠীর আধিপত্য—এই চারটি বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পায়। রাহুলের দাবি, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর ভোটার তালিকা থেকে ১৩.৫ কোটি মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। 

তাঁর হিসাব অনুযায়ী, এটি মোট ভোটারের প্রায় ১৫ শতাংশ, অর্থাৎ প্রতি সাতজন ভোটারের একজনের নাম বাদ পড়েছে। অথচ ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে এনডিএ এবং বিরোধীদের মধ্যে ভোটের ব্যবধান ছিল মাত্র ৩ শতাংশ। রাহুলের প্রশ্ন, ‘‘যদি ১৫ শতাংশ ভোটারের নাম বাদ যায়, আর নির্বাচনে জয়ের ব্যবধান হয় মাত্র ৩ শতাংশ, তাহলে সেই নির্বাচন কীভাবে বৈধ হতে পারে?’’ এই পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে তিনি ২০২৪ সালের নির্বাচনকে ‘অবৈধ’ এবং ‘চুরি করা নির্বাচন’ বলে অভিহিত করেন। 

তাঁর দাবি, এই তথ্য নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব হিসাব থেকেই উঠে এসেছে। তবে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার সংখ্যা নির্বাচনী ফলাফলে সরাসরি প্রভাব প্রমাণ হিসেবে দেখানোর ক্ষেত্রে তাঁর বক্তব্য রাজনৈতিক অভিযোগ; নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য ও সংশ্লিষ্ট পরিসংখ্যানের স্বাধীন যাচাইও গুরুত্বপূর্ণ। প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে আক্রমণ করে রাহুল বলেন, ‘‘জ্ঞানেশ কুমার না থাকলে নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন না, অমিত শাহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হতে পারতেন না।’’ 

তাঁর ঘোষণা, জ্ঞানেশ কুমারকে পদ থেকে সরানোই দেশের গণতন্ত্রকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার প্রথম পদক্ষেপ। এরপর প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন তিনি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্যের জবাব দিয়ে রাহুল বলেন, ‘‘জ্ঞানেশ কুমারের পর আমরা আপনাদের কাছে আসব। আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোথাও পালাতে পারবেন না।’’ রাহুলের বক্তব্যের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল দেশের অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং কর্পোরেট পুঁজির প্রভাব। 

তাঁর অভিযোগ, দেশের সম্পদ ক্রমশ কয়েকজন শিল্পপতির হাতে কেন্দ্রীভূত হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘‘সমস্ত টাকা চলে যাচ্ছে কয়েকজন মানুষের হাতে—আদানি, আম্বানিদের হাতে। তাঁদের ঋণ মকুব করা হচ্ছে। কিন্তু কোনও কৃষকের ছেলে ঋণ নিয়ে তা ফেরত দিতে না পারলে তাকে জেলে পাঠানো হচ্ছে।’’ 

তাঁর কথায়, ‘‘আমরা এমন ভারত চাই না, যেখানে সবকিছু আদানির হাতে চলে যাবে।’’ কৃষক, শ্রমিক ও যুবসমাজের অধিকার প্রসঙ্গে রাহুল বলেন, কৃষক তাঁর পরিশ্রমের যথাযথ ফল পাচ্ছেন না, যুবকদের কর্মসংস্থান নেই, শ্রমিকেরা তাঁদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তিনি এমন একটি দেশের কথা বলেন, যেখানে কৃষক পরিশ্রম করে নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে পারবেন, ১৮ ঘণ্টা পড়াশোনা করা ছাত্রছাত্রী তাঁদের যোগ্যতার স্বীকৃতি পাবেন এবং দেশের সম্পদ ও প্রতিষ্ঠান কোনও একটি শিল্পগোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে থাকবে না। বক্তৃতার শেষাংশে রাহুল আন্দোলনের রাজনৈতিক ও নৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করার চেষ্টা করেন। 

তিনি বলেন, ‘‘এটি কোনও রাজনৈতিক দল বা একজন নেতার কণ্ঠস্বর নয়। এটি ভারতের যুবক, মহিলা, কৃষক ও শ্রমিকদের কণ্ঠস্বর।’’ তাঁর কথায়, ‘‘ভারতের কণ্ঠস্বর বলছে, আমরা গণতন্ত্রকে শেষ হতে দেব না, সংবিধানকে ধ্বংস হতে দেব না।’’ আরএসএস ও বিজেপির বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠান দখলের অভিযোগ তুলে রাহুল বলেন, দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলি জনগণের, কোনও রাজনৈতিক সংগঠনের নয়। 

তাঁর বক্তব্য, ‘‘আপনি যদি আমাকে আমার ধর্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন, আমি বলব মানুষের কণ্ঠস্বরই আমার ধর্ম।’’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, বিজেপি বা আরএসএসের কর্মীদের বিরুদ্ধে হিংসার পথ তারা গ্রহণ করবেন না। ‘‘আমরা আরএসএস বা বিজেপির লোকেদের আক্রমণ করব না, তাঁদের হত্যা করব না’’—বলে তিনি আন্দোলনকে অহিংস ও সাংবিধানিক পথে পরিচালিত করার বার্তা দেন। 

এদিন বিরোধী নেতাদের বক্তব্যেও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ পায়। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে বলেন, ‘‘নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহ মহিলা, যুবক ও দলিতদের ভোট নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছেন।’’ তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে ভোটাধিকার সংকুচিত করার চেষ্টা চলছে। খাড়্গে ঘোষণা করেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত ইন্ডিয়া জোটের আন্দোলন চলবে। 

তিনি বলেন, ‘‘জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগ করতেই হবে। আমাদের লড়াই চলবে।’’ সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব তাঁর বক্তব্যে বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ তুলে বলেন, ‘‘ওরা জানে, ভোট চুরি না করলে নির্বাচনে জিততে পারবে না।’’ পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে তাঁর অভিযোগ, এসআইআর এবং প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করা হয়েছে। অখিলেশ জানান, ভোট চুরির অভিযোগে সমাজবাদী পার্টি নির্বাচন কমিশনের কাছে হলফনামা-সহ প্রমাণ জমা দিয়েছিল, কিন্তু কমিশন তার কোনও জবাব দেয়নি। তাঁর কথায়, ‘‘এখানে ইনকিলাব জিন্দাবাদ স্লোগানের প্রবল ধ্বনি পরিবর্তনের সংকেত দিচ্ছে। দেশের মানুষ এবার ভোট লুটেরাদের এবং মিথ্যা প্রতিশ্রুতিদাতাদের জবাব দিতে প্রস্তুত।’’ 

উত্তরপ্রদেশের ভোটার তালিকা নিয়ে রাজ্য সরকারের বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন অখিলেশ। তাঁর দাবি, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী নিজেই ১ কোটি ২৭ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়ার কথা স্বীকার করেছেন। কিন্তু বিধান পরিষদ নির্বাচনে পরাজয়ের পরেই কেন এই বিষয়টি সামনে এল, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। 

বিজেপির ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের স্লোগানকে কটাক্ষ করে অখিলেশ বলেন, ডাবল ইঞ্জিন সরকার এখন ডাবল জিরোয় পরিণত হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বক্তব্যে এসআইআর প্রক্রিয়াকে বিজেপির রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ‘‘জ্ঞানেশ কুমার এসআইআরের অর্থই বদলে দিয়েছেন। এটি এখন বিজেপির জন্য স্পেশাল ইনটেনসিভ রিলিফ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’’ তাঁর অভিযোগ, ভোট চুরির মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্র ও সংবিধানের উপর আঘাত করা হয়েছে। 

মমতা বলেন, ‘‘ওরা দেশের গণতন্ত্র ও সংবিধান লুঠ করেছে। যুবকদের চাকরি, মহিলাদের সম্মান এবং মানুষের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। আমাদের এই সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরাতে হবে।’’ বিহারের রাষ্ট্রীয় জনতা দলের নেতা তেজস্বী যাদব রামলীলা ময়দানের সমাবেশকে মহাভারতের কুরুক্ষেত্রের সঙ্গে তুলনা করেন। 

তাঁর বক্তব্য, ‘‘সাধারণত এই ময়দান রামলীলার জন্য পরিচিত। কিন্তু আজ এখানে মহাভারত চলছে।’’ প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে নিশানা করে তেজস্বী বলেন, জ্ঞানেশ কুমার মোদীর হাতের পুতুলের মতো কাজ করছেন। তাঁর অভিযোগ, যাঁরা স্বাধীনতা সংগ্রামে কোনও ভূমিকা পালন করেননি, তাঁরাই আজ অন্যদের দেশপ্রেমের শংসাপত্র দিচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘‘দেশের ভোটারদের সঙ্গে ভোট চোরদের এই লড়াই। দেশের গণতন্ত্র বাঁচাতে আমাদের একজোট হয়ে লড়তে হবে।’’ 

সিপিআই(এম)-এর সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারের অভিযোগ তোলেন। 

তাঁর বক্তব্য, ‘‘মহিলা, কৃষক—সবার কাছে সবচেয়ে বেশি মিথ্যা কথা বলেন নরেন্দ্র মোদী।’’ তিনি বলেন, দেশে ফ্যাসিবাদী রাজনীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তাঁর কথায়, ‘‘ভোট চুরি বন্ধ করতে, গণতন্ত্র ও সংবিধান রক্ষা করতে আমাদের একসঙ্গে লড়াই করতে হবে।’’ সিপিআই(এমএল) লিবারেশনের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্যও বিরোধী ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যে দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির স্বাধীনতা, বিরোধী কণ্ঠস্বরের উপর চাপ এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণের প্রশ্ন উঠে আসে। রামলীলা ময়দানের ঐতিহাসিক রাজনৈতিক গুরুত্বের উল্লেখ করে তিনি এই আন্দোলনকে বৃহত্তর গণতান্ত্রিক প্রতিরোধের অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ফারুক আবদুল্লা তাঁর বক্তব্যে ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতির সমালোচনা করেন। 

মুসলিমদের পাকিস্তানি বলে দাগিয়ে দেওয়ার প্রবণতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘আমরা এই দেশের জন্য রক্ত দিয়েছি এবং ভবিষ্যতেও দেব।’’ তাঁর বক্তব্যে দেশের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র এবং সব নাগরিকের সমান অধিকার রক্ষার প্রশ্নটি উঠে আসে। 

কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা অভিষেক মনু সিংভি সংবিধানের মর্যাদা এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির স্বাধীনতার প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ‘‘সংবিধান কারও ব্যক্তিগত খেলনা নয়।’’ 

কংগ্রেস নেতা শশী থারুরের বক্তব্যেও একই সুর শোনা যায়। তাঁর কথায়, ‘‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও। এটি শুধু কংগ্রেসের বিষয় নয়, ভারতের মানুষের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার প্রশ্ন।’’ 

সমাবেশের আগে কনট প্লেস থেকে রামলীলা ময়দান পর্যন্ত মিছিল ঘিরেও ছিল রাজনৈতিক উত্তেজনা। দুপুরে কনট প্লেসের মিন্টো রোড এলাকা থেকে মিছিল শুরু হয়। সেখান থেকে অজমেরি গেট হয়ে রামলীলা ময়দানের দিকে এগিয়ে যান বিরোধী নেতারা। রাহুল গান্ধীর সঙ্গে ছিলেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব, তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ফারুক আবদুল্লা, আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব, এনসিপি (এসপি)-র সুপ্রিয়া সুলে, শিবসেনা (ইউবিটি)-র সঞ্জয় রাউত -সহ বিভিন্ন দলের নেতারা। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন বিভিন্ন রাজ্য থেকে আসা কর্মী-সমর্থক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। কনট প্লেসে দোকান বন্ধ থাকা নিয়ে এদিন নতুন বিতর্ক তৈরি হয়। 

রামলীলা ময়দানে যাওয়ার পথে একটি খোলা গাড়িতে বসে রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, বিজেপি জোর করে কনট প্লেসের দোকানগুলি বন্ধ করিয়েছে। তাঁর বক্তব্য, তাঁরা সমাবেশে আসা মানুষকে স্থানীয় দোকান থেকে কেনাকাটা করার আবেদন জানিয়েছিলেন, যাতে উৎসবের মরশুমে ব্যবসায়ীরা লাভবান হন। কিন্তু কনট প্লেসে এসে তাঁরা দেখেন দোকানগুলি বন্ধ। 

রাহুল বলেন, ‘‘আমরা সবাইকে বলেছিলাম, মিছিল ও মহাসমাবেশে আসার সময় কেনাকাটা করুন। কিন্তু এখানে এসে জানতে পারলাম, বিজেপি জোর করে সমস্ত দোকান বন্ধ করিয়ে দিয়েছে। ব্যবসায়ীদের ক্ষতি কারা করছে এবং কীভাবে করছে, দেশের মানুষের তা জানা উচিত।’’ বিজেপি অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করে সমাবেশের কারণে ব্যবসায়ীদের ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। 

সমাবেশ ঘিরে দিল্লিতে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। দিল্লি পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর তিন হাজারের বেশি সদস্য মোতায়েন ছিলেন। রামলীলা ময়দান ও আশপাশের এলাকায় প্রায় ২৫০টি সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি চালানো হয়। 

রবিবারের সমাবেশের তাৎপর্য শুধু প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে সীমাবদ্ধ নয়। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, ইভিএমের ভূমিকা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে বিরোধী দলগুলি দীর্ঘদিন ধরে যে প্রশ্ন তুলছে, রামলীলা ময়দানে সেই প্রশ্নগুলিকে একটি যৌথ রাজনৈতিক আন্দোলনের রূপ দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। একই সঙ্গে কৃষক, শ্রমিক, যুবক, মহিলা ও সংখ্যালঘুদের অধিকার এবং কর্পোরেট পুঁজির প্রভাবের বিষয়গুলিও এই আন্দোলনের রাজনৈতিক পরিসরে যুক্ত হয়েছে। 

রামলীলা ময়দানের মঞ্চ থেকে রাহুল গান্ধী যে বার্তা দিতে চেয়েছেন, তা হল—ভোটাধিকার কোনও রাজনৈতিক দলের দয়া নয়, এটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। সেই অধিকার নিয়ে প্রশ্ন উঠলে বিরোধী দলগুলি একসঙ্গে রাস্তায় নামবে। তাঁর ভাষায়, ‘‘আমরা গণতন্ত্রকে শেষ হতে দেব না, সংবিধানকে ধ্বংস হতে দেব না।’’ সেই বার্তাকে সামনে রেখেই রবিবারের সমাবেশ শেষ হয়।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪