| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

মিরপুরে পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষ, সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ

reporter
  • আপডেট টাইম: নভেম্বর ০৩, ২০২৬ ইং | ১২:১১:০৮:অপরাহ্ন  |  ৬৮২ বার পঠিত
মিরপুরে পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষ, সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে রাজধানীর মিরপুরে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পোশাকশিল্পাঞ্চল।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে পল্লবী এলাকায় বিক্ষোভরত পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পালটাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারগ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। অন্যদিকে আন্দোলনকারীরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়েন। সংঘর্ষের জেরে নিরাপত্তার স্বার্থে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশনের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। সকাল থেকেই পল্লবী শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন পোশাক কারখানার সামনে কয়েক হাজার শ্রমিক জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে তাঁরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে মূল সড়কে নেমে আসেন। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ তাঁদের বাধা দিলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আন্দোলনরত শ্রমিকদের অনেকের হাতে লাঠিসোঁটা ছিল। পুলিশ সড়ক অবরোধে বাধা দিলে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা বিভিন্ন দিক থেকে পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় পুলিশ টিয়ারগ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এরপরই দুই পক্ষের মধ্যে শুরু হয় তীব্র ধাওয়া-পালটাধাওয়া ও সংঘর্ষ।

সংঘর্ষের একপর্যায়ে মিরপুরের কালশি রোডে এক পুলিশ সদস্যকে একা পেয়ে মারধর করে আহত করার ঘটনাও ঘটে। পরে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করলে আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। তবে সংঘর্ষের পরও পুরো এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করতে থাকে।

এদিকে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশনের ঠিক নিচে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটায় বিপাকে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। সংঘর্ষের সময় স্টেশনের ভেতরে বেশ কয়েকজন যাত্রী আটকা পড়েন বলে জানা গেছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ও যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ওই স্টেশনে ট্রেন থামানো এবং যাত্রী ওঠানামা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।

এ বিষয়ে এমআরটি পুলিশ কন্ট্রোল রুম জানায়, সকাল থেকেই মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনে পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। মেট্রোরেলের যাত্রী ও স্টেশনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মিরপুর-১১ স্টেশনের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সকাল ১০টার পর থেকেই আন্দোলনকারীরা মিরপুর-১১ নম্বর এলাকার মূল সড়কে জড়ো হতে থাকেন। পরে তাঁদের সরিয়ে দিতে পুলিশ ধাওয়া করলে শ্রমিকেরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন। এতে প্রায় এক ঘণ্টা মূল সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়ায় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে বেশ কয়েক দিন ধরে মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করে আসছেন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। গত শনিবার ও রোববার মিরপুর-১০, ১১ ও ১২ নম্বরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন তাঁরা। এতে পুরো এলাকার যান চলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটে।

রোববার মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পালটাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ওই দিন মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ ইতোমধ্যে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে।

পরদিন সোমবারও শ্রমিকেরা বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে সড়কে নামার চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়।

কিন্তু মঙ্গলবার সকাল থেকেই নতুন করে শ্রমিকেরা সড়কে নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। আগে থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকলেও শেষ পর্যন্ত মিরপুর-১১ এলাকায় সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয়নি।

শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিকে কেন্দ্র করে একের পর এক সংঘর্ষ, সড়ক অবরোধ ও যান চলাচল বন্ধের ঘটনায় মিরপুরের জনজীবন ক্রমেই বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে মেট্রোরেল স্টেশন বন্ধ থাকায় যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে। সর্বশেষ পরিস্থিতিতে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও শিল্পাঞ্চলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪