| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

কর্মক্ষম মানুষের অনুপাত বাড়ছে, কাজে লাগাতে পারছে না বাংলাদেশ: বিশ্বব্যাংক

reporter
  • আপডেট টাইম: নভেম্বর ০৩, ২০২৬ ইং | ১২:২৮:৪১:অপরাহ্ন  |  ৭৭১ বার পঠিত
কর্মক্ষম মানুষের অনুপাত বাড়ছে, কাজে লাগাতে পারছে না বাংলাদেশ: বিশ্বব্যাংক

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: বাংলাদেশে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা ও অনুপাত বাড়লেও সেই জনশক্তিকে উৎপাদনশীল কাজে যুক্ত করার ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে দেশ। ফলে জনসংখ্যাগত সুবিধা কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার সুযোগ পুরোপুরি কাজে আসছে না। বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৪৫ সালে দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর অনুপাত সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে। এরপর তা কমতে শুরু করবে। এ সুবিধা কাজে লাগানোর জন্য বাংলাদেশের হাতে রয়েছে প্রায় দুই দশক।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘ডেমোগ্রাফিক চেঞ্জ ইন সাউথ এশিয়া: ফ্রম টেইলউইন্ডস টু হেডউইন্ডস ফর ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিশ্বব্যাংক। এতে দক্ষিণ এশিয়ার জনসংখ্যাগত পরিবর্তন, কর্মসংস্থানের সংকট এবং ভবিষ্যতে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর জন্য প্রস্তুতির বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রায় ৮৪ শতাংশ কর্মী, সংখ্যায় প্রায় ৫ কোটি ৮০ লাখ, অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি থাকা সত্ত্বেও অনেক স্নাতক আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছেন না। দেশে প্রায় ৪৪ শতাংশ স্নাতক অনানুষ্ঠানিক কাজে নিয়োজিত। অন্যদিকে আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মসংস্থান বাড়ছে ধীরগতিতে। সাম্প্রতিক সময়ে ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে কর্মীর সংখ্যাও কমিয়েছে।

বাংলাদেশ ও ভুটানের জন্য বিশ্বব্যাংকের বিভাগীয় পরিচালক জ্যঁ পেসমে বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যাগত সম্ভাবনা কতটা কাজে লাগবে, তা নির্ভর করছে এখন নেওয়া পদক্ষেপের ওপর। উন্নত কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা, তরুণদের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ করে তোলা এবং নারীদের কর্মসংস্থানের বাধা দূর করা জরুরি। পাশাপাশি প্রবীণদের স্বাস্থ্যসেবা ও বার্ধক্যকালীন আর্থিক নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০০ সাল থেকে কর্মক্ষম বয়সী মানুষের অনুপাত বাড়ার কারণে দক্ষিণ এশিয়ার মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) বছরে অতিরিক্ত ০ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি এসেছে। একই সময়ে শ্রম উৎপাদনশীলতা বেড়েছে বছরে ১ দশমিক ১ শতাংশ। তবে জনসংখ্যাগত সুবিধা থেকে জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে অবদান ক্রমেই কমবে। ২০২৪ থেকে ২০৫০ সালের মধ্যে এ অবদান বছরে ০ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে কমে ০ দশমিক ১ শতাংশে দাঁড়াবে।

বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট জোহানেস জাট বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো তুলনামূলক কম মাথাপিছু আয় নিয়েই দ্রুত বার্ধক্যের দিকে এগোচ্ছে। তাই এখনই উন্নত ও বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টির নীতি গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী প্রবীণদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রাখার সুযোগ তৈরি করতে হবে। এতে ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক সুফল পাওয়ার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ায় বর্তমানে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা প্রায় ১১৭ কোটি। তবে এক দশকেরও কম সময়ের মধ্যে এ অঞ্চলে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে কমতে শুরু করবে। ২০৪৯ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়া প্রবীণ জনসংখ্যাপ্রধান অঞ্চলে পরিণত হবে। তখন মোট জনসংখ্যার ১৪ শতাংশের বয়স হবে ৬৫ বছর বা তার বেশি। বাংলাদেশে এ পরিবর্তন ঘটবে ২০৫১ সালে।

এদিকে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা, দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা ও পেনশন সুবিধা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও দক্ষিণ এশিয়ার প্রস্তুতি সীমিত। এ অঞ্চলের কর্মক্ষম মানুষের মাত্র ১৭ শতাংশ পেনশন ব্যবস্থায় অবদান রাখেন। আর প্রবীণদের মাত্র ১০ শতাংশ কোনো না কোনো পেনশন সুবিধা পান, যা বিশ্বে সর্বনিম্ন।

জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দুটি ক্ষেত্রে একযোগে পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেছে বিশ্বব্যাংক। প্রথমত, তরুণদের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান বাড়ানো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন সহজ করা, ব্যবসায়িক বিধিবিধান সরল করা এবং স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও দক্ষতার উন্নয়ন করতে হবে। পাশাপাশি নারীদের কর্মসংস্থানের বাধা দূর করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, প্রবীণদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা, দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা ও পেনশন ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হবে। একই সঙ্গে সঞ্চয় ও বিনিয়োগ বাড়িয়ে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিতে হবে। বিশ্বব্যাংকের মতে, জনসংখ্যাগত সুবিধার সময় শেষ হওয়ার আগেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া না গেলে ভবিষ্যতে দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় চাপ তৈরি হতে পারে।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪