| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

শহীদদের আবাসন প্রকল্পে ব্যয় ৪৫ গুণ বেশি!

reporter
  • আপডেট টাইম: Jul ২৭, ২০২৫ ইং | ০২:০৫:১৮:পূর্বাহ্ন  |  ২১৮০১৭৯ বার পঠিত
শহীদদের আবাসন প্রকল্পে ব্যয় ৪৫ গুণ বেশি!
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত ছবি

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক :

শহীদ ও আহত মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের জন্য প্রস্তাবিত ‘৩৬ জুলাই’ নামের একটি ফ্ল্যাট প্রকল্পে ভয়াবহ অনিয়ম ও অস্বাভাবিক ব্যয়ের প্রমাণ মিলেছে। প্রাথমিক তদন্ত ও বাজেট বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রকল্পের বিভিন্ন উপাদানে ৩ থেকে ৪৫ গুণ বেশি ব্যয় ধরা হয়েছে। এতে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—কে কাদের স্বার্থে এই ব্যয়ের ফুলঝুরি?

বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, আরসিসি পিলার যার প্রকৃত দাম প্রায় ৯০০ টাকা, সেটি দেখানো হয়েছে ৪০ হাজার টাকায়। ২৫ লাখ টাকার লিফট ধরা হয়েছে ৯২ লাখ টাকা, ১২ লাখ টাকার সাবস্টেশনের জন্য ৬৩ লাখ টাকা এবং ৯৫ হাজার টাকার পানির পাম্পের জন্য বরাদ্দ দেখানো হয়েছে ৪ লাখ টাকা।


একনেকে উঠছে প্রকল্প, নেই মাস্টারপ্ল্যান

বহুল আলোচিত এই প্রকল্পটি মঙ্গলবার একনেক সভায় উপস্থাপন হওয়ার কথা রয়েছে। অথচ এখনো প্রকল্পটির জন্য কোনো মাস্টারপ্ল্যান, নীতিমালা কিংবা নির্দিষ্ট নকশা চূড়ান্ত হয়নি।

গত ১৬ জুন পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় এ সংক্রান্ত নানা অসঙ্গতির বিষয় তুলে ধরা হয়। সেখানে আলোচনা হয় প্রকল্পের মালিকানা নির্ধারণ, শহীদ পরিবারের উপকারভোগী নির্ধারণসহ অন্যান্য মূলনীতিগত বিষয়েও।


একে অপরকে দোষারোপ করছেন কর্মকর্তারা

প্রকল্পটি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে পরিকল্পনা করা হলেও অস্বাভাবিক ব্যয়ের দায় এড়াতে এখন বিভিন্ন মহল একে অপরের ওপর দোষ চাপাচ্ছে। কেউ কেউ দাবি করছেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে তাড়াহুড়োর কারণে বাজেট পরিকল্পনায় ভুল হয়েছে। তবে কেন যাচাই-বাছাই ছাড়া এসব ব্যয় অন্তর্ভুক্ত করা হলো, তার সুনির্দিষ্ট উত্তর দিতে পারেননি কেউ।


কোটি টাকার প্রকল্প, নেই যথাযথ নির্দেশিকা

সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে প্রস্তাবিত এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৬১ কোটি ১৬ লাখ টাকা। বাস্তবায়নে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষকে। পরিকল্পনা কমিশনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, “প্রতিটি সরকারি প্রকল্পে নির্দিষ্ট গাইডলাইন ও বাস্তবায়ন কাঠামো থাকা বাধ্যতামূলক। অথচ এই প্রকল্পে কোনো সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা নেই।”


সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, “এ ধরনের আবাসন প্রকল্পের অনুমোদনের আগে পরিবেশগত প্রভাব, উপকারভোগী চিহ্নিতকরণ ও বরাদ্দের স্পষ্ট বিবরণ থাকা প্রয়োজন। কিন্তু এখানে এসবের কিছুই ছিল না।”


তবুও দ্রুত অনুমোদনের পথে

যদিও নানা ঘাটতি ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, তথাপি প্রকল্পটি দ্রুত অনুমোদনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সূত্র জানায়, “প্রকল্পটির ডিপিপি (ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রোফাইল) পর্যায় প্রায় চূড়ান্ত। খুব শিগগিরই এটি অনুমোদন পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।”




.

রিপোর্টার্স২৪/এস

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪