| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

নারীর ফাঁদে ফেলে বাবাকে হত্যা, ২ ছেলে গ্রেপ্তার

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ১৫, ২০২৬ ইং | ১৯:৩৭:৫৯:অপরাহ্ন  |  ১৭৬১ বার পঠিত
নারীর ফাঁদে ফেলে বাবাকে হত্যা, ২ ছেলে গ্রেপ্তার

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে তিন বিয়ে করা এক বৃদ্ধ বাবাকে ‘হানি ট্র্যাপে’ ফেলে অপহরণের পর হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনা উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ।

সোমবার (১৫ জুন) সকালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চট্টগ্রাম মেট্রোর পুলিশ সুপার এস.এম রফিকুল ইসলাম। 

তিনি জানান, নিহত মুজিবুর রহমান পেশায় একজন বাবুর্চি ছিলেন। তার বাড়ি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার চাম্বল এলাকায়। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি তিনটি বিয়ে করেছিলেন। প্রথম স্ত্রীর ঘরে দুই ছেলে, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্ত্রীর ঘরে একটি করে মেয়ে রয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জীবনের শেষ সময়ে মুজিবুর রহমান তার দুই মেয়ের সঙ্গে বসবাস করতেন। নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে মেয়েদের পেছনে খরচ করতেন। এ নিয়ে প্রথম পক্ষের দুই ছেলের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। একপর্যায়ে তারা বাবাকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন।

তদন্তে জানা যায়, বেলাল হোসেন তার পরিচিত এক নারীকে বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। ওই নারী নিয়মিত ফোনে কথা বলে মুজিবুর রহমানের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। তাকে নতুন করে বিয়ে দেওয়ার আশ্বাসসহ বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে নিজের বাসায় ডেকে নেন।

পুলিশ সুপার এস.এম রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘২০২৪ সালের ৭ জুন মুজিবুর রহমান ওই নারীর বাসায় যান। এটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত ফাঁদ। সেখানে তাকে আপ্যায়নের সময় কোমল পানীয় বা শরবতের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেওয়া হয়। ওষুধের প্রভাবে তিনি নিস্তেজ হয়ে পড়লে বেলাল ও তার বড় ভাই আবদুল জলিল সেখানে পৌঁছান।’

‘পরে তাকে অসুস্থ রোগী পরিচয়ে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে সিআরবি এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে ভাড়া করা একটি মাইক্রোবাসে তুলে নগরের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরানো হয়। হত্যার জন্য নির্জন স্থান খুঁজতে খুঁজতে তারা হালিশহরের আউটার লিংক রোড এলাকায় পৌঁছায়।’

মুজিবুর রহমানের মৃত্যুর কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সন্ধ্যার দিকে মাইক্রোবাসের ভেতরেই গামছা দিয়ে মুজিবুর রহমানের গলায় পেঁচিয়ে দুই পাশ থেকে টান দেন বেলাল ও জলিল। এতে তার মৃত্যু হয়। পরে রাস্তার পাশের ঝোপে মরদেহ ফেলে রেখে চলে যান তারা। ঘটনার পর মুজিবুর রহমানের মেয়ে কোতোয়ালী থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন। তদন্তের এক পর্যায়ে নিহতের মোবাইল ফোন বেলালের শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার হয়। এরপর মামলাটি নতুন মোড় নেয়।’

পুলিশ জানায়, মামলা হওয়ার পর বেলাল আত্মগোপনে চলে যান এবং দীর্ঘ সময় কক্সবাজার এলাকায় অবস্থান করেন। সম্প্রতি এলাকায় ফিরে এলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দেন এবং ঘটনাস্থল শনাক্ত করেন। তার তথ্যের ভিত্তিতে আবদুল জলিলকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

তদন্তে আরও জানা যায়, হত্যার দুই দিন পর হালিশহর এলাকার একই স্থান থেকে একটি অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। ওই লাশের গলায় থাকা গামছা ও পরনের পোশাকের বর্ণনা আসামিদের বক্তব্যের সঙ্গে মিলে গেছে। 

পুলিশ ধারণা করছে, সেটিই মুজিবুর রহমানের লাশ। বিষয়টি নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে।

পিবিআই'র এসপি জানান, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ থেকেই ছেলে বেলাল হোসেন ও তার সহযোগীরা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার বেলাল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

রিপোর্টার্স২৪/ মিতু

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪