| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

যমুনা, ব্রহ্মপুত্র ও দশআনী নদীর তীব্র ভাঙনে নিঃস্ব শত শত পরিবার

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ১৫, ২০২৬ ইং | ১৯:৩১:৪১:অপরাহ্ন  |  ১৯২৬ বার পঠিত
যমুনা, ব্রহ্মপুত্র ও দশআনী নদীর তীব্র ভাঙনে নিঃস্ব শত শত পরিবার

খাদেমুল বাবুল, জামালপুর প্রতিনিধি : যমুনা, ব্রহ্মপুত্র ও দশআনী নদীর তীব্র ভাঙনে জামালপুরের ইসলামপুরে বসতবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে শত শত পরিবার।

উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের মন্নিয়া, সাপধরী ইউনিয়নের বিশরশি, মণ্ডলপাড়া ও চেঙ্গানিয়া এলাকায় যমুনা নদী; পলবান্দা ইউনিয়নের সিরাজাবাদ নতুনপাড়া, চরগোয়ালিনী ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর ও চার নম্বর চর এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদ; এবং গোয়ালেরচর ইউনিয়নের বোলাকীপাড়া ও গাইবান্ধা ইউনিয়নের আগুনেরচর এলাকায় দশআনী নদীর তীব্র ভাঙন চলছে। নদীভাঙন রোধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় চরম আতঙ্কে রয়েছেন নদীপাড়ের মানুষ।

বিশেষ করে জেলার ইসলামপুর উপজেলার মন্নিয়াচর গ্রামের মানুষ হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন। যমুনার ক্রমাগত ভাঙনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী গ্রামটির ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাটবাজারসহ বিভিন্ন স্থাপনা।

ভাঙন রোধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। একই সঙ্গে নদীভাঙনের শিকার মানুষের পুনর্বাসনেও নেই দৃশ্যমান উদ্যোগ। ফলে বাস্তুহারা মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।

জানা যায়, প্রায় ৭০ বছর আগে যমুনার বুকে জেগে ওঠে মন্নিয়াচর। পরে সেখানে গড়ে ওঠে বিশাল জনবসতি। প্রতিষ্ঠিত হয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাটবাজার এবং সৌরবিদ্যুৎ প্ল্যান্ট।

গত কয়েক সপ্তাহের ভয়াবহ ভাঙনে ওই গ্রামে প্রায় দেড় শতাধিক পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে। বিলীন হয়েছে বিস্তীর্ণ ফসলি মাঠ, শত শত গাছপালা ও অসংখ্য বসতবাড়ি।

যমুনার ভাঙনের মুখে পড়েছে মন্নিয়া উচ্চবিদ্যালয়, চারটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি মসজিদ, মন্নিয়া বাজার, পল্লী বিদ্যুতের অভিযোগ কেন্দ্র, প্রায় আট কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প, পাকা সড়ক ও গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নদীতীরবর্তী এলাকাজুড়ে বিরাজ করছে ভাঙন আতঙ্ক। ভাঙনকবলিত মানুষ তাদের ঘরবাড়ি সরিয়ে নেওয়ার জন্য নিরাপদ আশ্রয়ও খুঁজে পাচ্ছেন না।

স্থানীয় লোকজন স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে বাঁশের আড়াআড়ি বাঁধ নির্মাণ, বালুভর্তি বস্তা ও মাটিভর্তি বস্তা ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন।

ইসলামপুর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক জানান, স্বাধীনতার আগেই যমুনার বুকে জেগে উঠেছিল মন্নিয়াচর। ৭০ বছরে ধীরে ধীরে সেখানে গড়ে ওঠে জনবসতি। সময়ের পরিক্রমায় এটি একটি পূর্ণাঙ্গ জনপদে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৩০ হাজার মানুষের বসবাস মন্নিয়াচরে। জীবনের প্রয়োজন মেটাতে সেখানে গড়ে উঠেছে বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বিদ্যুৎসহ নানা নাগরিক সুবিধা।

তিনি বলেন, চরের অধিকাংশ মানুষ কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল। ধান, গম, ভুট্টা ও বিভিন্ন রবি ফসল উৎপাদনের জন্য এটি অত্যন্ত উর্বর এলাকা। কিন্তু এখন সেই উর্বর জমির বড় অংশই নদীগর্ভে চলে গেছে। যেভাবে যমুনা ভাঙছে, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ইসলামপুরের মানচিত্র থেকেই হারিয়ে যেতে পারে মন্নিয়াচর।

স্থানীয় সাংবাদিক শহিদুল ইসলাম কাজল বলেন, কয়েক দিন আগেও সেখানে মানুষ বসবাস করত। এখন সেখানে অথৈ পানি। অসহায় মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। অনেকেই খোলা আকাশের নিচে অস্থায়ী ঘর তুলে বসবাস করছেন।

অপরদিকে গোয়ালেরচর ইউনিয়নের বোলাকীপাড়া গ্রামের আব্দুল কাদির বলেন, এরই মধ্যে দশআনী নদীতে প্রায় অর্ধশত বাড়ি বিলীন হয়েছে। বাঁশের পাইলিং দিয়ে নিজের বাড়ি রক্ষার চেষ্টা করছি।

পলবান্দা ইউনিয়নের সিরাজাবাদ নতুনপাড়া গ্রামের ষাটোর্ধ্ব কৃষক উজির আলী বলেন, “আগেও ১০ বার নদী আমাদের সবকিছু গিলে খেয়েছে। এখন আর যাওয়ার জায়গা নেই।”

চার নম্বর চর গ্রামের হামিদুর রহমান মলিন বলেন, প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন চলছে।

তীব্র ভাঙনে একের পর এক ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি বিলীন হলেও ভাঙন রোধে দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে না পানি উন্নয়ন বোর্ড। নদীভাঙন এলাকা পরিদর্শন করলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

নদীভাঙনের বিষয়ে ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হুসাইন বলেন, “বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ড দেখছে।”

জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ নকিবুজ্জামান বলেন, “যমুনার বাম তীর রক্ষার কাজই শেষ করতে পারছি না। মন্নিয়াচরের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।”

জামালপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইউসুফ আলী বলেন, “পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে কথা হয়েছে। মন্নিয়াচরসহ জেলার নদীভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

রিপোর্টার্স২৪/এসএন

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪