বাউফল প্রতিনিধি :
বাউফলের এইচএসসি পরীক্ষার্থী মো. ফাহিম বয়াতি (২০) হত্যা মামলার ৩০ দিন পার হলেও অধিকাংশ আসামিকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে এলাকাবাসী।
বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) বিকেলে বাউফল-দশমিনা ও গলাচিপা উপজেলার সীমান্তবর্তী ধলু ফকিরের বাজারে এক ঘণ্টাব্যাপী এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।মানববন্ধনে ব্যাবসায়ী,শিক্ষার্থী, নারী-পুরুষসহ কয়েক শতাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করে।
নিহত ফাহিম নওমালা ইউনিয়নের ভাঙা এলাকার মো. জাকির বয়াতির ছেলে এবং নওমালা আবদুর রশিদ খান ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী মো. জাফর প্যাদা, আবু বকর, ইব্রাহিম মৃধাসহ নিহতের স্বজনরা। বক্তারা অভিযোগ করেন, মাদকাসক্ত কিশোর গ্যাং সদস্য শাকিল মীরকে “গাঁজাখোর” বলায় ক্ষিপ্ত হয়ে শাকিল, শানু ও সোহাগ পরিকল্পিতভাবে ফাহিমকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে। ফাহিমের বাবা ছেলেকে বাঁচাতে গেলে তাকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।
বক্তারা অভিযোগ করেন, ঘটনার এক মাস অতিক্রম করলেও পুলিশ অদৃশ্য কারণে আসামিদের গ্রেপ্তার করছে না। এমনকি আসামিরা নিজেদের ঘর পুড়িয়ে উল্টো নিহতের বাবার নামে মামলা করেছে।
নিহতের বাবা মো. জাকির বয়াতি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমি গরিব মানুষ, মাছ বিক্রি করে সংসার চালাই। কষ্টের টাকায় ছেলেকে পড়াশোনা করাচ্ছিলাম। বিনাদোষে আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার ৩০ দিন পার হলেও আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে, উল্টো আমাকে মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছে।”
দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল আলীম আসামি গ্রেপ্তারের ব্যর্থতা স্বীকার করে বলেন, “আমরা আসামি গ্রেপ্তারের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করছি খুব শিগগিরই আসামিদের গ্রেপ্তার করতে সফল হবো।”
উল্লেখ্য, গত ১ জুলাই বিকেল ৫টার দিকে এইচএসসি পরীক্ষার্থী ফাহিম বয়াতি পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফেরার পথে বাউফল, দশমিনা ও গলাচিপা উপজেলার সীমানা সংলগ্ন ধলু ফকিরের বাজার এলাকায় শাকিল তার গতিরোধ করে এবং কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে তাকে ছুরিকাঘাত করে। এসময় ফাহিমের বাবা জাকির বয়াতি এগিয়ে এলে তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। ফাহিমের পায়ের রগ কেটে যাওয়ায় তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।
.
রিপোর্টার্স২৪/এস