| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

নির্মাণ ব্যয়ের ৪ গুণ টাকা উঠলেও টোলমুক্ত হয়নি ফকির মজনু শাহ্ সেতু

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ১০, ২০২৫ ইং | ০৬:৪৯:৫৫:পূর্বাহ্ন  |  ৩১৪৪১০০ বার পঠিত
নির্মাণ ব্যয়ের ৪ গুণ টাকা উঠলেও  টোলমুক্ত হয়নি ফকির মজনু শাহ্ সেতু

গাজীপুর প্রতিনিধি:
গাজীপুরের কাপাসিয়া সদরের বানার নদীর ওপর নির্মিত ফকির মজনু শাহ্ সেতু ১৯ বছর পরেও টোলমুক্ত হয়নি। এ সেতুটির নির্মাণ ব্যয় প্রায় ১৫ কোটি টাকা হলেও ইতোমধ্যে এর টোলের ইজারা বাবদ সরকারের কোষাগারে জমা হয়েছে ৬৬ কোটি টাকা। 

এ সেতুর নির্মাতা সংস্থা 'গাজীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগ' সর্বশেষ ২০২৪ সালে তরগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আয়ুবুর রহমান সিকদারের মালিকানাধীন 'প্রাপ্তি কনস্ট্রাকশনের' নামে ভ্যাট ট্যাক্সসহ প্রায় ১৫ কোটি টাকায় তিন বছরের জন্য এ সেতুটি ইজারা দেয়। 

এসব বিষয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন এ সড়কে ব্যবহারকারী যানবাহন মালিকসহ নানা পর্যায়ের ভুক্তভোগীরা। তারা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে আরো বলেন, আর কবে হবে এই সেতু টোলমুক্ত?

অভিযোগ রয়েছে, সেতু কর্তৃপক্ষ সেতুটির টোল মওকুফ করতে চাইলেও গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতাদের একটি চক্র নিজেদের পকেট ভারী করতে এই সেতুর টোল চলমান রাখার জন্য দেন-দরবার করে নিজেরা ইজারা নিতেন। গত ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর ছাত্র-জনতার তোপের মুখে কয়েকদিন টোল আদায় বন্ধ থাকলেও পরবর্তী সময়ে 'সরকার অনুমোদিত টোল আদায়' সাইনবোর্ড টানিয়ে নিয়মিত টোল আদায় করা হচ্ছে।   

গাজীপুর সড়ক বিভাগ ও স্থানীয়রা জানান, বিএনপি সরকারের তৎকালীন পাটমন্ত্রী প্রয়াত আ.স.ম হান্নান শাহ্'র প্রচষ্টায় ১৯৯৩ সালে কাপাসিয়া বাজারের উত্তর পাশে বানার নদীর উপর একটি সেতু নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। ৩৯০ দশমিক ৯১ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১০ মিটার প্রস্থের সেতুটি নির্মাণ করতে সরকারের ব্যয় হয় প্রায় ১৫ কোটি টাকা। কাজ শুরুর প্রায় ১২ বছর পরে ২০০৫ সালের ৩ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া যানবাহন চলাচলের জন্য সেতুটির আনুষ্ঠানিক উদ্বাধন করেন। 

সেতুটি নির্মাণের ফলে এ নদীর দুই পাড়ের বিভিন এলাকার মানুষের চলাচল ও মালামাল পরিবহন সহজ হয়ে উঠেছে। এতে করে ঢাকা থেকে কাপাসিয়া হয়ে কিশোরগঞ্জ, নরসিংদীর মনোহরদী, ময়মনসিংহের গফরগাঁও এবং বৃহত্তর সিলেটের সাথে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে। 

বর্তমানে ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে সেতুটি প্রতিবার পার হতে ট্রেইলার কন্টেনার/ ভারী যন্ত্রপাতি/ ভারী মালামালের টোল দিতে হয় ২৫০ টাকা, হেভি ট্রাক ১৭০ টাকা, মাঝারি ট্রাক ১০০ টাকা, বড় যাত্রীবাহী বাস ৯০ টাকা, মিনি ট্রাক ৭৫ টাকা, কৃষিকাজে ব্যবহৃত যানবাহন ৬০ টাকা, মিনিবাস ও কাস্টার ৫০ টাকা, মাইক্রোবাস ও পিকআপ ৪০ টাকা, জিপকার ও সিডেন কার ২৫ টাকা, প্রাইভেটকার ২০ টাকা, সিএনজি অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা, টেম্পু ১০ টাকা ও মোটর সাইকেল ৫ টাকা। 

সরেজমিন গিয়ে কথা হয় পরিবহন মালিক সমিতি, ট্রাক ও ব্যক্তিগত গাড়ির মালিক এবং বিভিন্ন যানবাহন চালকদের সাথে। নির্মাণ ব্যয়ের চারগুণেরও বেশি টাকা রাষ্টীয় কোষাগারে জমা হওয়ার পর এখনও টোল দিতে হওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন তারা। 

এ সেতুর উপর দিয়ে চলাচলকারী অনন্যা ক্লাসিক পরিবহনের ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এমডি) বাবুল খান জানান, বর্তমানে ঢাকা-কাপাসিয়া-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক ও ঢাকা-কাপাসিয়া-মনোহরদী সড়ক দিয়ে প্রতিদিন সাতটি পরিবহন কোম্পানীর প্রায় সাড়ে তিনশত যাত্রীবাহী বাস দিন-রাত চলাচল করে। 

তাদের এবং প্রতিটি পরিবহন কোম্পানির বাস চলাচল করতে এ সেতুতে প্রতিদিন প্রায় ৮-১০ হাজার টাকা টোল দিতে হয়। এ সেতু টোলমুক্ত ঘোষণা করতে সংশ্লিষ্ট সকল মহলে নানা সময় যোগাযোগ করেও কোন সুফল পাননি তারা। এ সেতু টোলমুক্ত হলে তারা বর্তমান সময়ে পরিবহন ব্যবসার আর্থিক ক্ষতি কিছুটা হলেও পুষিয়ে নিতে সক্ষম হবেন।

ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা চালক মো: আল-আমীন জানান, ৩০ টাকা ভাড়ায় কাপাসিয়া বাজার থেকে এ সেতু পার হয়ে একজন যাত্রী নিয়ে তরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসেছিলেন তিনি। সেতুর আসা-যাওয়া বাবদ তাকে ২০ টাকা টোল দিতে হয়েছে। তার মতো শত শত রিকশাওয়ালার সারাদিন উপার্জনের বেশ একটা মোটা অংশ এ সেতুতে টোল বাবদ দিয়ে দিতে হয়।

মো: জাহাঙ্গীর হাসান নামে একজন ব্যবসায়ী জানান, এ সেতুর টোলের কারণে দুই পাড়ের লোকজনকে নানা মালামাল পরিবহন করতে গিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হয়। ফলে দুই পাড়ের বাসিন্দারাই এই টোলের কবল থেকে মুক্তি চান।

আন্তঃজেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়ন কাপাসিয়া শাখার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা জানান, বাস, মিনিবাস, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, সিএনজি অটোরিক্সা, ট্রাক ,ট্রলি, লরি, নসিমন, মোটর সাইকেলসহ হাজার হাজার যানবাহন এ সেতু দিয়ে প্রতিদিন পারাপার হয়। সড়ক ও জনপথ বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও কাপাসিয়ার প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেটের পকেট ভারী করতেই এখনও এই সেতুকে টোলমুক্ত ঘোষণা করা হচ্ছে না। যেহেতু সরকারের নির্মাণ ব্যয়ের চারগুণেরও বেশি টাকা উঠে গেছে তাই এ সেতুকে টোলমুক্ত ঘোষণার জোর দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে গাজীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ- বিভাগীয় প্রকৌশলী মু: তারিক হাসান জানান, টোল আদায়ে সরকারের রাজস্ব আদায় হচ্ছে। টোল আদায় কিংবা বন্ধ করার ক্ষেত্রে আমাদের কোন এখতিয়ার নেই। চালু বা বন্ধ করার একমাত্র ক্ষমতা সরকারের। 

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪