জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) হামলা-মামলা দিয়ে দমন করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘দেশ নির্মাণে সামনে আরেকটি লড়াই আসছে, সেই লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছি। মুজিববাদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এনসিপির লড়াই চলবে।’
আসিফ মাহমুদ বলেন, ৬৩ শতাংশ তরুণ জনগোষ্ঠীকে যদি আমরা ভালোভাবে ব্যবহার করতে না পারি, তাহলে ভবিষ্যতে ভালো করা সম্ভব হবে না। বাস্তবতা যা আছে, তাতে আমাদের উদ্যোক্তাদের সহায়তা করতেই হবে।
আমরা আবারও গোপালগঞ্জে যাবো বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা বলেন তিনি।
আগামীকাল শুক্রবার রাজধানীর সব কটি থানার সামনে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
গোপালগঞ্জে গিয়ে হামলার মুখে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে অবস্থান নেয় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা। পরে সেখান থেকে বুধবার বিকেল সোয়া ৫টায় সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া যানে করে এনসিপির নেতারা গোপালগঞ্জ জেলা পুলিশের কার্যালয় ছাড়েন।
অনেকে আমাদেরকে ‘৭১- বিরোধী’ বলে দেখাতে চান। কিন্তু ‘৭১ আমাদের, ‘২৪ আমাদের। ‘৪৭, ‘৭১, ‘২৪—এই জনপদের মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। বৈষম্য দূর না হওয়া পর্যন্ত আমাদের লড়াই চলবে।
গোপালগঞ্জে হামলার পর দেশব্যাপী ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচির ঘোষণা দেয় জাতীয় যুবশক্তি, একই কর্মসূচির ডাক দিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনও। এনসিপির নেতাকর্মীরা রাজধানীর শাহবাগ মোড়ও অবরোধ করেছেন। কিন্তু জনভোগান্তির কথা চিন্তা করে ব্লকেড কর্মসূচি থেকে সরে আসতে বলেছেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বিক্ষোভকারীদের রাস্তার একপাশে অবস্থান নিতে আহ্বান জানিয়েছেন। গণমাধ্যমকর্মীদের দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ‘সারা দেশে রাজপথের ব্লকেড সরিয়ে নিন। রাস্তার একপাশে অবস্থান করুন।
সারজিস লেখেন, ‘আমরা যদি এখান থেকে বেঁচে ফিরি তাহলে মুজিববাদের কবর রচনা করেই ফিরব, না হয় ফিরব না। সারা বাংলাদেশের মানুষ গোপালগঞ্জের দিকে ছুটে আসুন। গোপালগঞ্জের বিবেকবান ছাত্র-জনতা জেগে উঠুন। দালালদের কবর রচনা করার আজকেই শেষ দিন।’
নাহিদ ইসলাম বলেন, মুজিববাদীরা আজ বাধা দিয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের সময় বলেছিলাম, বাধা দিলে বাঁধবে লড়াই, সেই লড়াইয়ে জিততে হবে। সেই লড়াইয়ে আমরা জিতেছিলাম। আজ আবারও বাধা দেওয়া হয়েছে, দ্বিগুণ গতিতে এর জবাব আমরা দেব।
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার কংশুর এলাকায় (ইউএনও) গাড়ি বহরে হামলা, ভাঙচুরের ঘটনা ঘটান ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এ ছাড়া সদর উপজেলার উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নে টহলরত পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুরের পাশাপাশি আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কর্মসূচি ‘জুলাই পদযাত্রা’ ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে গোপালগঞ্জ। বুধবার (১৬ জুলাই) সকালে সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের গাড়িতে আগুন, ইউএনওর গাড়ি বহরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
গোপালগঞ্জ কোনো ব্যক্তি বা দলের সম্পত্তি নয়, গোপালগঞ্জ বাংলাদেশের বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) রাতে এক ফেসবুক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।
দেশব্যাপী জুলাই পদযাত্রার অংশ হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দরা বরিশাল বিভাগে পদযাত্রা করছেন। এর অংশ হিসেবে চরমোনাই পিরের দরবার পরিদর্শন করেছেন তারা।
অভ্যুত্থান থেকে আজ পর্যন্ত আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলমান রয়েছে। চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিকে আগে একটি দল পাহারা দিত, এখন নতুন আরেকটি দল পাহারা দিচ্ছে। মুজিববাদী সংবিধানকে এখন টিকিয়ে রাখতে চাচ্ছে বিএনপি।
দুই দফায় প্রতিশ্রুতি দিয়েও সরকার জুলাই ঘোষণাপত্র দিতে পারেনি বলে অভিযোগ করছে এনসিপি নেতারা। কেন দিতে পারেনি, সেটিও স্পষ্ট করা হয়নি। এখন তাঁরা আর সরকারের কাছ থেকে এটা আশাও করছেন না। গণ-অভ্যুত্থানে যাঁরা অংশগ্রহণ করেছেন, তাঁদের মধ্য থেকে যাঁরা আসবেন, তাঁদের নিয়েই এনসিপি ঘোষণাপত্র দেবে। আগামী ৫ আগস্টের মধ্যেই এটা হবে।