| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের প্রয়োজন নেই, আমরা সবাই ভারতীয় : আরএসএস প্রধান

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ২৮, ২০২৫ ইং | ১৫:২৯:৩৫:অপরাহ্ন  |  ১৫৮০০৪৪ বার পঠিত
হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের প্রয়োজন নেই, আমরা সবাই ভারতীয় : আরএসএস প্রধান
ছবির ক্যাপশন: আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত

আশিস গুপ্ত, নতুন দিল্লি : আরএসএস (রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ) এবং বিজেপির (ভারতীয় জনতা পার্টি) মধ্যে সম্ভাব্য মতবিরোধের জল্পনা-কল্পনার মধ্যে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত সম্প্রতি বলেছেন যে, তাদের মধ্যে মতবিরোধ নয়, বরং কিছু কাজের ক্ষেত্রে ভিন্নমত থাকতে পারে। 

বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) নয়াদিল্লিতে একটি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন।

২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রত্যাশিত ফলের চেয়ে কম ফল আসার পর থেকেই আরএসএস এবং বিজেপির মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে কানাঘুষা শুরু হয়। এই জল্পনা আরও বৃদ্ধি পায় যখন সংঘ প্রধান মোহন ভাগবত নির্বাচনী বাগাড়ম্বর ত্যাগ করে মণিপুরের মতো বিষয়গুলিতে দ্রুত নজর দেওয়ার ওপর জোর দেন। তার এই মন্তব্যকে অনেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি ইঙ্গিত বলে মনে করেছিলেন, কারণ প্রধানমন্ত্রী নিজেকে ‘প্রধান সেবক’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

তবে, বৃহস্পতিবারের সংবাদ সম্মেলনে ভাগবত বলেন, ‘আমাদের প্রতিটি সরকারের সঙ্গেই, তা রাজ্য সরকার হোক বা কেন্দ্রীয় সরকার, ভালো সমন্বয় আছে। কিছু অভ্যন্তরীণ সীমাবদ্ধতার কারণে কিছু কাজ হয়তো সেভাবে সম্পন্ন করা যায় না। এতে কোনো বিরোধ নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘চেয়ারে বসা ব্যক্তি শতভাগ আমাদের হলেও তার নিজস্ব সীমাবদ্ধতা থাকে।’

এই মন্তব্যের কয়েক দিন আগেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে আরএসএস-কে ‘বিশ্বের বৃহত্তম এনজিও’ হিসেবে প্রশংসা করেন। এই বছর অক্টোবর মাসে আরএসএস তাদের শতবর্ষ পূর্ণ করতে চলেছে। প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যকে আরএসএস এবং বিজেপির মধ্যেকার আপাত টানাপোড়েন মিটে যাওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে প্রধানমন্ত্রী মোদি মার্চ মাসে নাগপুরে আরএসএস সদর দফতরে গিয়েছিলেন এবং সেখানে সংঘের প্রতিষ্ঠাতা কেশব বলিরাম হেগড়েওয়ার ও দ্বিতীয় সরসঙ্ঘচালক এমএস গোলওয়ালকরের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছিলেন।

জনসংখ্যা প্রসঙ্গে, ভাগবত বলেন যে প্রতিটি ভারতীয় পরিবারের তিন সন্তান থাকা উচিত, কারণ জনসংখ্যা স্থিতিশীল করার জন্য এটি জরুরি। তিনি বলেন, দেশের জনসংখ্যা নীতির গড় উর্বরতার হার ২.১। যদিও গাণিতিকভাবে এটি ২-এর সমান, তবে বাস্তবে জন্মদানের ক্ষেত্রে ২-এর পর ৩ হওয়া জরুরি। 

তিনি আরও বলেন, যে সমাজে উর্বরতার হার ২.১-এর নিচে নেমে যায়, সেই সমাজ ধীরে ধীরে বিলুপ্তির দিকে চলে যায়। তিনি পরামর্শ দেন, উপযুক্ত বয়সে বিবাহ করে তিনটি সন্তান ধারণ করা উচিত, যা মা-বাবা এবং সন্তান উভয়ের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। 

এই মন্তব্যটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ ভারত গত বছর চীনকে ছাড়িয়ে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ হয়েছে, যদিও জাতিসংঘের এক নতুন রিপোর্ট অনুযায়ী ভারতের মোট উর্বরতার হার কমে প্রতি মহিলায় ১.৯-এ পৌঁছেছে, যা প্রতিস্থাপনের হারের (২.১) নিচে।

অবৈধ অভিবাসন এবং ধর্ম নিয়েও ভাগবত মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, অবৈধ অভিবাসন এবং ধর্মান্তরই দেশের জনসংখ্যার ভারসাম্যহীনতার মূল কারণ। তিনি পরামর্শ দেন, অবৈধ অভিবাসীদের চাকরি না দিয়ে নিজের দেশের মানুষদের, যার মধ্যে মুসলিমরাও অন্তর্ভুক্ত, চাকরি দেওয়া উচিত। তিনি বলেন, ধর্ম ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয় এবং এটি কারোর উপর চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়। 

তিনি আরও বলেন, যখন সবাই ভারতীয়, তখন হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের কথা বলার কোনো প্রয়োজন নেই। অখণ্ড ভারত একটি বাস্তব সত্য এবং আমাদের বুঝতে হবে যে আমাদের সংস্কৃতি ও পূর্বপুরুষ একই।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪