| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

জামালপুরে ২২টি সিনেমা হলের মধ্যে ২০টিরই অস্তিত্ব নেই

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ২৯, ২০২৫ ইং | ১০:২১:২৩:পূর্বাহ্ন  |  ১৫৭৩৪০৪ বার পঠিত
জামালপুরে ২২টি সিনেমা হলের মধ্যে ২০টিরই অস্তিত্ব নেই
ছবির ক্যাপশন: ছবি সংগৃহীত

খাদেমুল বাবুল, জামালপুর: জামালপুরে সিনেমা হলগুলোর শো শুরুর মাইকের আওয়াজ এখন আর কানে বাজেনা। এককালে সিনেমা হলের শো শুরুর মাইকের আওয়াজ মানুষকে সময়ের জানান দিত। সিনেমা হলের মাইকের আওয়াজ কানে আসলেই মানুষ জানতো এখন সময় কত। শহরের অলিগলিতে নতুন ছবির পোস্টার, দিনব্যাপী মাইকে প্রচার-প্রচারণা, ছাত্র-ছাত্রীদের স্কুল-কলেজ ফাঁকি দিয়ে সিনেমা দেখা, নতুন জামাই বেড়াতে আসলে শ্যালক-শ্যালিকাদের সিনেমার আবদার এখন শুধুই স্মৃতি। 

জেলার ২২টি সিনেমা হলের মধ্যে ২৯ টি সিনেমা হলের কোন অস্তিত্বই নেই এখন। 

দেশীয় চলচিত্র শিল্পকে বাঁচাতে জামালপুরের মেলান্দহের ‘অন্তরা’, দেওয়ানগঞ্জের ‘অন্তরাল’ ও সরিষাবাড়ীর ‘আলতা’ সিনেমা হল লড়াই চালিয়ে গেলেও বিদেশী চলচ্চিত্রের দাপটে দর্শক সংকটসহ নানা কারণে মাঝে ঈদ বা বিশেষ অকেশন ছাড়া বেশির ভাগ সময় বন্ধ থাকে।

অপর দিকে অত্যন্ত দর্শকপ্রিয় জামালপুর ‘কথাকলি’, ‘এন্তেজার’, ‘নিরালা’, ‘সুরভী’, মেলান্দহের ‘কোয়েলী’, ‘পূর্ণিমা’, ‘আশা’, ‘রঙ্গনী’, নান্দিনার ‘অন্তরা’, ইসলামপুরের ‘মৌসুমী’, ‘ভাই ভাই’, দেওয়ানগঞ্জের ‘জিলবাংলা হল’, ‘ভাই ভাই’, বকশীগঞ্জের ‘একতা’, ‘ঝংকার’, সরিষাবাড়ীর ‘চম্পাকলি’ এবং মাদারগঞ্জের পাত্রহার একমাত্র প্রেক্ষাগৃহ ‘স্বজন’ সিনেমা হলের অস্তিত্ব অনেক আগেই বিলীন হয়ে গেছে। এতে দেশীয় চলচ্চিত্র ধ্বংসের পাশাপাশি বিদেশী চলচ্চিত্রের অসামাজিক টিভি সিরিয়ালে মত্ত হয়ে সামাজিক অবক্ষয় ঘটছে। 

সরেজমিনে দেখা গেছে, অত্যন্ত দর্শকপ্রিয় জামালপুরের আবেদনচক নামে কথাকলি সিনেমা হলের একটি মার্কেট থাকলেও সিনেমা হলের স্থান এখন মলমূত্র ত্যাগের গণশৌচাগারে পরিণত হয়েছে। 

একই ভাগ্যবরণ করেছে ইসলামপুরের ভাই ভাই সিনেমা হল।

ভেঙে গুড়িয়ে ফেলা হয়েছে মৌসুমী সিনেমা হলের অবকাঠামো। মৌসুমী হলের সাবেক ম্যানেজার ইউনুছ আলী জানান, ছবি চালিয়ে বিদ্যুৎ বিল, বিভিন্ন ট্যাক্স ও কর্মচারীদের বেতন উঠনো দুস্কর।। তাই মালিক পক্ষ হল ভেঙে মার্কেট করেছে । ইসলামপুরের চলচ্চিত্র পরিবারের সদস্য বিশিষ্ট সংগীত শিল্পী অরুন ভাস্কর অত্যন্ত আক্ষেপের সাথে জানান, ভারতে যেখানে প্রতিবছর নতুন নতুন সিনেমা হলের সৃষ্টি হয়, বাংলাদেশে তার উল্টো। যেকারণে বাংলাদেশে পশ্চিমা ও ভারতীয় সংস্কৃতি আমাদের ঘাড়ের চেপে বসেছে। 

তিনি বলেন, চলচ্চিত্র একটি বিশাল গণমাধ্যম। জহির রায়হানের জীবন থেকে নেয়া' ছবিটি মানুষকে হলমুখি করে মুক্তিযুদ্ধে অনুপ্রাণিত করেছিল। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র স্বাধীনতার পূর্বে যতটুকু এগিয়েছিল স্বাধীনতার পরে আস্তে আস্তে ধ্বংস হয়ে গেছে। 

এ ছাড়া ‘ধীরে বহে মেঘনা’, দীর্ঘ ছবি ‘শনিবারের চিঠি’, ‘পালঙ্ক’, ‘ওরা ১১ জন’, ‘রক্তাক্ত বাংলা’র মতো ছবিগুলো গণমানুষে যে পরির্বতন এনেছিল সেটি এখন আর দেখা যায় না। 

রিপোর্টার্স ২৪/প্রীতিলতা

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪