| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

তিন দশক পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৭৩ বছরের হরজিত কৌরকে ফেরত পাঠানো হলো, অধিকারকর্মীদের ক্ষোভ

reporter
  • আপডেট টাইম: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৫ ইং | ০৬:৪৩:৩৬:পূর্বাহ্ন  |  ২২৬৪০৯১ বার পঠিত
তিন দশক পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৭৩ বছরের হরজিত কৌরকে ফেরত পাঠানো হলো, অধিকারকর্মীদের ক্ষোভ

আশিস গুপ্ত, নতুন দিল্লি : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বসবাসের পর পাঞ্জাবের বাসিন্দা ৭৩ বছর বয়সী হরজিত কৌরকে এ সপ্তাহে ভারত ফেরত পাঠানো হয়েছে। অভিবাসী অধিকারকর্মীরা এই ঘটনাকে “নিষ্ঠুর” এবং “অপ্রয়োজনীয়” বলেই আখ্যায়িত করছেন।

কৌর ২৩ সেপ্টেম্বর দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। তার আইনজীবী দীপক আহলুওয়ালিয়া ইনস্টাগ্রামে এক পোস্টে জানান, ক্যালিফোর্নিয়ার বেকারসফিল্ড থেকে হঠাৎ করেই তাঁকে লস অ্যাঞ্জেলেসে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখান থেকে মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (ICE) একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে তাঁকে জর্জিয়া হয়ে দিল্লি পাঠায়।

আহলুওয়ালিয়া অভিযোগ করেন, পুরো যাত্রাপথে কৌরের সঙ্গে অমানবিক ব্যবহার করা হয়—দীর্ঘ সময় ধরে হাতকড়া ও শৃঙ্খলে বেঁধে রাখা, কংক্রিটের ফাঁকা সেলে আটকে রাখা এবং মৌলিক প্রয়োজনীয় সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা। তিনি আরও বলেন, “তাঁকে পরিবারের সঙ্গে শেষ দেখা করার বা নিজের জিনিসপত্র সংগ্রহ করার সুযোগ পর্যন্ত দেওয়া হয়নি।” কৌরের পরিবারের অনুরোধ ছিল তাঁকে একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইটে পাঠানো হোক এবং যাওয়ার আগে অন্তত কয়েক ঘণ্টা পরিবারের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেওয়া হোক। কিন্তু ICE সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করে।

সিখ কোয়ালিশন এই ঘটনাকে “চরমভাবে অগ্রহণযোগ্য” বলে নিন্দা জানিয়েছে, বিশেষ করে কারণ কৌর একজন বৃদ্ধা বিধবা যিনি উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতায় ভুগছেন।

কৌরের আটক হওয়ার ঘটনা শুরু হয় ৮ সেপ্টেম্বর। সেদিন তিনি সান ফ্রান্সিসকো ICE অফিসে নিয়মিত চেক-ইনের জন্য যান। কিন্তু সেখানেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁকে ফ্রেসনো ও বেকারসফিল্ডের ডিটেনশন সেন্টারে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে রাখা হয় এবং পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী দুই সপ্তাহ ধরে তিনি নিয়মিত ওষুধও পাননি।

১৯৯২ সালে একক মা হিসেবে কৌর যুক্তরাষ্ট্রে যান। সেখানে তিনি একটি ভারতীয় শাড়ির দোকানে সেলাইয়ের কাজ করতেন, কর দিতেন এবং স্থানীয় গুরদুয়ারায় স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে যুক্ত ছিলেন। তাঁর আশ্রয় প্রার্থনা প্রত্যাখ্যাত হয় এবং ২০০৫ সালে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ জারি করা হয়। তবুও তিনি দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে নিয়মিত ICE অফিসে হাজিরা দিয়েছেন, কাজের অনুমতি নবায়ন করেছেন এবং ভারতীয় কনস্যুলেট থেকে যাতায়াত সংক্রান্ত নথি আসার অপেক্ষা করেছেন।

এই আকস্মিক বহিষ্কারকাণ্ড ক্যালিফোর্নিয়ায় ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। এল সোব্রান্তে এলাকায় শত শত মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করেন। তাঁদের হাতে ছিল প্ল্যাকার্ড—“Hands off our grandma” এবং “Harjit Kaur belongs here।” ক্যালিফোর্নিয়ার কংগ্রেসম্যান জন গারামেন্ডি, সিনেটর জেসি আরেগুইনসহ স্থানীয় নেতারা ICE-কে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছিলেন এবং একে “ভুল অগ্রাধিকার” হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।

তবে ICE নিজেদের পদক্ষেপের পক্ষে সাফাই দিয়ে বিবিসিকে জানায়, “কৌর একাধিকবার আপিল করেছেন এবং নবম সার্কিট কোর্ট অব আপিলস পর্যন্ত গিয়েও প্রতিবার হেরেছেন। এখন যেহেতু সব আইনি উপায় শেষ, ICE কেবল মার্কিন আইনের প্রয়োগ করেছে এবং বিচারকের নির্দেশ বাস্তবায়ন করেছে। এ জন্য আর মার্কিন করদাতাদের অর্থ নষ্ট করা হবে না।”

অন্যদিকে অধিকারকর্মীরা বলছেন, এই ঘটনা ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে বেড়ে ওঠা নির্বাসন প্রক্রিয়ার ভয়াবহ মানবিক খরচকে সামনে এনেছে।

সিখ কোয়ালিশন তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, “এই বহিষ্কার কেবল একজন দাদির বিষয় নয়। এটি সেই প্রাতিষ্ঠানিক নিষ্ঠুরতার প্রতিফলন যা দশকের পর দশক ধরে আমেরিকায় বসবাসকারী, কাজ করা এবং সমাজসেবায় যুক্ত অভিবাসী পরিবারগুলোর ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।”


রিপোর্টার্স২৪/এসএন

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪