মাগুরা প্রতিনিধি : মাগুরা সদর উপজেলার রাঘবদাইড় ইউনিয়নের হাট লক্ষ্মীপুর গ্রামে স্বাস্থ্যসম্মত সেমি পাকা টয়লেট সামগ্রী (ল্যাট্রিন, বালতি, বদনা ও ব্রাশ) বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার ১৪ অক্টোবর রাঘবদাইড় ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী পাড়ায় ‘পল্লী প্রকৃতি ও বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশন’ এর সহযোগিতায় এসব উপকরণ বিতরণ করা হয়।
বিনামূল্যে টয়লেট সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন মাগুরা পল্লী প্রকৃতি'র নির্বাহী পরিচালক মোঃ শফিকুর রহমান পিন্টু। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মাগুরা পল্লী প্রকৃতি’র চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আব্দুর রাজ্জাক।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রোভা ফাউন্ডেশন নির্বাহী পরিচালক কাজী কামরুজ্জামান, সেইভ দ্যা উইমেন এন্ড চিলড্রেন নির্বাহী পরিচালক সাবিনা ইয়াসমিন মেরী, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও মাগুরা জেলা বিএনপি সদস্য নাজমুল হাসান লিটন।
অনুষ্ঠানে মাগুরা পল্লী প্রকৃতি’র চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মাগুরা জেলার সদর উপজেলার রাঘবদাইড় ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর ও পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের রায়গ্রামে ‘পল্লী প্রকৃতি’ এনজিও'র উদ্যোগে ১৫টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীকে স্বাস্থ্যসম্মত সেমি পাকা টয়লেট তৈরি করে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়। ১৫টি পরিবারকে একটি করে বালতি, বদনা ও ব্রাশ প্রদান করা হয়।
বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে এই প্রকল্পের আওতায় এই ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষের সঙ্গে বারবার সচেতনতামূলক উঠান বৈঠক করা হয়, যা চলমান আছে। বর্তমানে অবহেলিত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ স্যানিটেশনের আওতায় সকল মানুষ পাকা ল্যাট্রিন ব্যবহার করছে এবং স্যানিটেশন সংক্রান্ত অব্যবস্থা দূর হয়েছে। এতে করে, ধীরে ধীরে এলাকার পরিবেশের উন্নয়ন হয়েছে, মানুষের স্বাস্থ্যের উন্নতি হচ্ছে, তাদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছে।
সরজমিনে দেখা যায়, লক্ষ্মীপুর গ্রাম এখন শতভাগ স্যানিটেশনের আওতায়। লক্ষ্মীপুর গ্রামে মোট ৮২টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী পরিবারের বসবাস। দুই দফা জরিপ করে দেখা যায়, মোট ৮২টি পরিবারের মধ্যে ৫৭ টি পরিবারে কোন ল্যাট্রিন নাই। পরিবারের সদস্যরা বাগান, মাঠ ও নিকটস্থ খোলা জায়গায় ছেড়া কাপড় বা পলিথিন দিয়ে ঘিরে উন্মুক্তভাবে প্রাকৃতিক কাজ সম্পন্ন করে। প্রতিটি পরিবার ১-২ শতক জমির উপর ঝুপড়ি ঘর তৈরি করে বসবাস করে। প্রতিটি ঘর প্রায় একটির সাথে আরেকটি লাগানো, এই জনগোষ্ঠীর কোন চাষের জমি নাই। ঘরে বসে বাঁশ-বেতের কাজ তাদের প্রধান পেশা। অনেকে সেলুনে কাজ করে বা অন্যের জমিতে দিনমজুরের কাজ করে থাকে। তাদের দৈনিক বা মাসিক আয় অত্যন্ত কম। সরকারি কোন সুযোগ-সুবিধা এরা পায় না বললেই চলে।
এই ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ শিক্ষা-সহ সকল নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তাদের বসবাসের জায়গা এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থা অত্যন্ত খারাপ। চারিদিকে দুর্গন্ধ, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, মানুষ রুগ্ন স্বাস্থ্যের অধিকারী, সাধারণ রোগ-ব্যধি সম্পর্কে ধারণা নেই বললেই চলে। তাদের মধ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সচেতনতা একবারেই কম।
এ অবস্থায়, মাগুরায় জেলায় কর্মরত বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের সহযোগী ৩টি সংস্থা রোভা ফাউন্ডেশন, সেইভ দ্যা উইমেন এ্যান্ড চিলড্রেন (এসডব্লিউসি) ও পল্লী প্রকৃতি সম্মিলিতভাবে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর স্যানিটেশন সমস্যা দূরীকরণের জন্য কাজ করতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। তার অংশ হিসাবে বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশন ৫৭টি পরিবারকে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য সম্মত সেমি-পাকা টয়লেট স্থাপন করে হস্তান্তর করা হয়।
এই প্রকল্পের আওতায় রোভা ফাউন্ডেশন ৩৪টি, পল্লী প্রকৃতি ১১টি এবং এসডব্লিউসি ১২টি ল্যাট্রিন প্রদান করে।
বর্তমানে অবহেলিত লক্ষ্মীপুর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শতভাগ স্যানিটেশনের আওতায় এসেছে। এতে করে, ধীরে ধীরে এলাকার পরিবেশের উন্নয়ন হয়েছে, মানুষের স্বাস্থ্যের উন্নতি হচ্ছে, তাদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছে। এলাকার মানুষ ল্যাট্রিন গুলি পেয়ে অত্যন্ত খুশী।
উল্লেখ্য, গত ১০ জুন বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডঃ জিল্লুর রহমান "স্বাস্থ্য সম্মত সেমি-পাকা টয়লেট স্থাপন ও বিতরণ কর্মসূচি"র ২য় পর্যায়ের কাজটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। তিনি ল্যাট্রিনগুলো ঘুরে দেখেন এবং উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
তিনি উপকারভোগীদেরকে সঠিকভাবে ল্যাট্রিন ব্যবহার ও পরবর্তী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার জন্য পরামর্শ দেন। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে কর্ম এলাকায় এমন অবহেলিত কমিউনিটির উন্নয়নে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য পরামর্শ দেন।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন