| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

‘রিভার্স গিয়ারে’ চলছে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা: শিক্ষামন্ত্রী

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ২৬, ২০২৬ ইং | ০০:০৩:৪৬:পূর্বাহ্ন  |  ১৪৯৭ বার পঠিত
‘রিভার্স গিয়ারে’ চলছে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা: শিক্ষামন্ত্রী

খুলনা প্রতিনিধি: গত ৫৪ বছর ধরে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা রিভার্স গিয়ারে চলা গাড়ির মতো পরিচালিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, অতীতমুখী দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বেরিয়ে এসে এখন শিক্ষা ব্যবস্থাকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার সময় এসেছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) খুলনা বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে আসন্ন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা উপলক্ষে কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, বরিশাল; বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন বরিশাল অঞ্চলের বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়ে এ সভার আয়োজন করা হয়।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা এতদিন রিয়ার ভিউ মিররে তাকিয়ে রিভার্স গিয়ারে গাড়ি চালানোর মতো পথ চলেছি। কিন্তু এখন সামনে এগোনোর সময় এসেছে। জাতিকে আর পেছনের দিকে নেওয়া যাবে না।

শিক্ষা খাতের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, দেশে এখনও বিপুল সংখ্যক শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে, যা শিক্ষার মানোন্নয়নের পথে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের পুষ্টি ও মেধা বিকাশে সরকারের মিড-ডে মিল কর্মসূচির গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, কোনো কর্মকর্তা বা শিক্ষকের গাফিলতির কারণে শিক্ষার্থীদের নিম্নমানের বা পচা খাবার সরবরাহ করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।

আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রচলিত নকলের প্রবণতা এখন অনেকটাই কমে এসেছে। তবে ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নফাঁসের গুজব ছড়িয়ে একটি অসাধু চক্র শিক্ষা ব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি কঠোর নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত ভুয়া তথ্য বা গুজব ছড়ানো হলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। অপরাধ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধ আইনের আওতায় সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

মাঠপর্যায়ের শিক্ষা প্রশাসনে দীর্ঘদিন একই স্থানে দায়িত্ব পালন এবং তদারকির অভাবের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, যেসব কর্মকর্তা দীর্ঘদিন বড় শহরগুলোতে অবস্থান করেও মাঠপর্যায়ে কার্যকর ভূমিকা রাখছেন না, তাদের তালিকা তৈরি করা হবে। প্রয়োজন হলে তাদের উপজেলায় বদলি করা হবে।

পরীক্ষাকেন্দ্রে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে মোবাইল ফোন ও যেকোনো ধরনের অবৈধ কাগজপত্র বহনের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের নির্দেশ দেন তিনি। কোনো পরীক্ষার্থীর কাছে বই বা অননুমোদিত কাগজপত্র পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কক্ষ পরিদর্শককেও দায় নিতে হবে বলে জানান মন্ত্রী।

নকলমুক্ত পরীক্ষা আয়োজনের প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, নকল শব্দটিকে আমরা ২০০৬ সালেই বিদায় জানিয়েছিলাম। তবে পরবর্তী সময়ে মূল্যায়ন ব্যবস্থার কিছু দুর্বলতার কারণে শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

খাতা পুনর্মূল্যায়ন পদ্ধতিতেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে মন্ত্রী বলেন, এতদিন শুধু নম্বরের যোগফল যাচাই করা হতো। ভবিষ্যতে উত্তরপত্রের মূল্যায়নের গুণগত দিকও আরও গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হবে।

তিনি বলেন, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এইচএসসি পরীক্ষা সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। শুধু নকল প্রতিরোধ নয়, শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি এবং বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, যশোরের চেয়ারম্যান প্রফেসর ফারুখে আজম মু. আব্দুস ছালামের সভাপতিত্বে সভায় বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুন, খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল হক, কেএমপি কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান, জেলা প্রশাসক মিজ হুমে জান্নাত, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তাজুল ইসলামসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রিপোর্টার্স২৪/বাবি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪