ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: গাজা প্রশাসন ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নিহত ফিলিস্তিনিদের মরদেহ থেকে মানব অঙ্গ চুরির অভিযোগ এনেছে। এটিকে তারা ভয়াবহ যুদ্ধাপরাধ আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিটি গঠনের আহ্বান জানিয়েছে। টিআরটি ওয়ার্ল্ড এ খবর জানিয়ে।
গাজার সরকারি সংবাদমাধ্যম দফতরের পরিচালক ইসমাইল থাওয়াবতা শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলেছেন, গত তিন দিনে ইসরায়েলি বাহিনী আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির মাধ্যমে ১২০টি মৃতদেহ হস্তান্তর করেছে। এসব দেহের অধিকাংশই ভয়াবহ অবস্থায় ছিল। অনেকের চোখ বাঁধা, হাত-পা বাঁধা, গলায় দড়ির দাগ এবং গুলির চিহ্ন স্পষ্টভাবে দেখা গেছে।
থাওয়াবতা দাবি করেন, অনেক দেহের চোখ, কর্নিয়া এবং অন্যান্য অভ্যন্তরীণ অঙ্গ অনুপস্থিত ছিল। এতে নিশ্চিত হওয়া যায় যে দখলদার বাহিনী দেহগুলো ধরে রেখে মানব অঙ্গ চুরি করেছে। এটি এক বর্বর অপরাধ।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এখনও এ অভিযোগের বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি। তবে গাজার মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে নিহত ফিলিস্তিনিদের দেহ আটক রেখে তাদের ওপর চিকিৎসা ও পরীক্ষামূলক কাজ চালিয়ে আসছে।
ফিলিস্তিনি ন্যাশনাল ক্যাম্পেইন ফর দ্য রিট্রিভাল অব মার্টিয়ার্স বডিজ-এর তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েল বর্তমানে ৭৩৫ জন ফিলিস্তিনি বন্দির দেহ ধরে রেখেছে, যাদের মধ্যে ৬৭ জন শিশু।
ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎজ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ ইসরায়েলের নেগেভ মরুভূমির স্ডে তেইমান সামরিক ঘাঁটিতে গাজার প্রায় দেড় হাজার ফিলিস্তিনির মৃতদেহ সংরক্ষিত আছে।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের অব্যাহত হামলায় গাজায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৬৮ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞে অঞ্চলটি এখন প্রায় বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/টিআই/ধ্রুব