| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

বৈধ ভিসা সত্ত্বেও ভারতে প্রবেশ করতে পারলেন না লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফ্রান্সেস্কা ওরসিনি

reporter
  • আপডেট টাইম: অক্টোবর ২১, ২০২৫ ইং | ০০:৩২:০০:পূর্বাহ্ন  |  ২১৩৬৯৬৬ বার পঠিত
বৈধ ভিসা সত্ত্বেও ভারতে প্রবেশ করতে পারলেন না লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফ্রান্সেস্কা ওরসিনি
ছবির ক্যাপশন: বৈধ ভিসা সত্ত্বেও ভারতে প্রবেশ করতে পারলেন না লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফ্রান্সেস্কা ওরসিনি

আশিস গুপ্ত, নতুন দিল্লি : লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের এসওএএস-এর হিন্দি ভাষার বিশিষ্ট অধ্যাপক এবং ইমেরিটাস স্কলার ফ্রান্সেস্কা ওরসিনি কে বৈধ ৫ বছরের ই-ভিসা থাকা সত্ত্বেও ভারতে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি এবং অবিলম্বে তাঁকে প্রত্যর্পণ করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

দ্য হিন্দি পাবলিক স্ফিয়ার ১৯২০-১৯৪০: ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড লিটারেচার ইন দ্য এজ অফ ন্যাশনালিজম' (২০০২) সহ  অন্যান্য প্রশংসিত একাডেমিক কাজের রচয়িতা ওরসিনি, একটি একাডেমিক সম্মেলনে যোগ দেওয়ার পরে চীন থেকে হংকং হয়ে ২১শে অক্টোবর রাতে দিল্লিতে পৌঁছান। তিনি বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন এবং এর আগে অক্টোবর ২০২৪-এও ভারত ভ্রমণ করেছিলেন, তবুও অভিবাসন কর্তৃপক্ষ তাকে দেশে প্রবেশে বাধা দেয়। 

দিল্লি বিমানবন্দর থেকে সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওরসিনি জানান, তাকে কোনও কারণ জানানো হয়নি। তিনি বলেন, আমাকে প্রত্যর্পণ করা হচ্ছে। এর বাইরে আর কিছু জানি না। লন্ডনের বাসিন্দা হওয়ায় তাকে বাড়ি ফেরার ব্যবস্থা নিজেকেই করতে হবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৈধ ভিসা থাকা সত্ত্বেও ভারতে প্রবেশে বাধা পাওয়া বিদেশি শিক্ষাবিদদের মধ্যে ওরসিনি সম্ভবত চতুর্থ।

২০২১ সালে, কোভিড মহামারির সময়, যখন বিশ্বজুড়ে ভ্রমণ প্রায় বন্ধ ছিল, তখন মোদি সরকার অনলাইন একাডেমিক সেমিনার ও কনফারেন্সে বিদেশি স্কলারদের আমন্ত্রণ জানানোর পূর্বে রাজনৈতিক ছাড়পত্রের প্রয়োজন বাধ্যতামূলক করার চেষ্টা করেছিল। 

২০২২ সালের মার্চ মাসে, ব্রিটেন-ভিত্তিক নৃতত্ত্ববিদ ফিলিপ্পো ওসেলাকেও তিরুবনন্তপুরম বিমানবন্দরে আটক করে প্রত্যর্পণ করা হয়েছিল। একই বছর, ব্রিটিশ স্থাপত্যবিদ্যার অধ্যাপক লিন্ডসে ব্রেমনারকেও কোনও কারণ না জানিয়েই প্রত্যর্পণ করা হয়। ২০২৪ সালে, কর্ণাটক সরকার আয়োজিত একটি সম্মেলনে যোগ দিতে বেঙ্গালুরু বিমানবন্দরে পৌঁছানো যুক্তরাজ্য -ভিত্তিক কাশ্মীরি শিক্ষাবিদ নাতাশা কাউলকে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয় এবং পরে তার ওসিআই কার্ডও বাতিল করা হয়। 

সুইডেন-ভিত্তিক শিক্ষাবিদ এবং ভারতীয় জনতা পার্টির রাজনীতির সামাজিক মাধ্যমে সমালোচক অশোক সোয়াইন-এর ওসিআই কার্ডও সরকার বাতিল করে দিয়েছিল, যদিও তিনি দিল্লি হাইকোর্টে আবেদন জানিয়ে কার্ড ফেরত পান। এই ধরনের প্রত্যর্পণের সংখ্যা বেশি না হলেও এরকম এলোমেলো এবং অপ্রত্যাশিত পদ্ধতিতে বিদেশি স্কলারদের ওপর একটি ভীতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।

ওরসিনিকে প্রত্যর্পণের ঘটনা এমন এক নতুন বৈশ্বিক রিপোর্টের কয়েকদিন পরেই ঘটল যেখানে বলা হয়েছে যে ভারতে শিক্ষা ক্ষেত্রে  স্বাধীনতা সংকুচিত হওয়ার একটি মূল উদাহরণ হয়ে উঠেছে, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাজনৈতিক দলগুলো ক্যাম্পাসে মুক্ত মত প্রকাশের ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করছে।

 বর্তমানে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবাদ, আলোচনা বা স্লোগানের জন্য পূর্বানুমোদন বাধ্যতামূলক করেছে এবং পুলিশ ছাত্র বিক্ষোভে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে। সহিংসতার ঘটনাও বেড়েছে। শ্রী ভেঙ্কটেশ্বর বিশ্ববিদ্যালয়ে দলিত অধিকার কর্মী অধ্যাপক চেঙ্গাইয়াহকে হিন্দু জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠী পিটিয়েছে,  তার বিরুদ্ধে খ্রিস্টান ধর্ম প্রচারের অভিযোগ এনে।

 জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্তৃপক্ষ মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতিকদের সঙ্গে সেমিনার বাতিল করে এবং সেমিনারের কো-অর্ডিনেটর কে বরখাস্ত করে। রাজস্থানের উদয়পুরে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সদস্যরা একটি চলচ্চিত্র উৎসবে বাধা দিলে তা বাতিল করতে বাধ্য হয় সংগঠকরা। এই ঘটনাগুলো ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক চাপ এবং অসহিষ্ণুতা তুলে ধরে।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪