রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামে টানা কয়েক দিনের হিমশীতল বাতাস ও ঘন কুয়াশায় জনজীবন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকছে পুরো এলাকা, ফলে সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং মানুষ পড়ছে চরম দুর্ভোগে।
মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় কুড়িগ্রামে চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কনকনে ঠান্ডা আর হিমেল বাতাসে ঘর থেকে বের হতে পারছেন না অনেকেই। বিশেষ করে খেটে খাওয়া ও নিম্ন আয়ের মানুষজন সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন।
জেলার বিভিন্ন সড়ক ও জনপথ ঘুরে দেখা গেছে, ঘন কুয়াশার কারণে যানবাহনগুলো হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে। অনেক স্থানে যানবাহনের গতি কমে গেছে, কোথাও কোথাও যাত্রীসংখ্যাও ছিল হাতে গোনা।
শীত থেকে বাঁচতে ছিন্নমূল ও হতদরিদ্র মানুষজনকে খড়কুটো, কাঠ ও শুকনো পাতা জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা গেছে। ফুটপাত, বাসস্ট্যান্ড ও খোলা স্থানে রাত কাটানো মানুষদের জন্য এই শীত আরও কষ্টকর হয়ে উঠেছে।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের রিকশাচালক আলম মিয়া (৫০) বলেন, কয়েক দিন ধইরা খুব ঠান্ডা পড়ছে। ঘর থাইকা বের হওয়াই মুশকিল। তবুও পেটের দায়ে বের হইছি। কিন্তু সকাল থেইকা একটাও ভাড়া পাই নাই। রাস্তায় মানুষ নাই, ভাড়া হইবো কেমনে? আজ বাজার খরচ নিয়া যাইতে না পারলে ছাওয়াপাও খাবো কী।
রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র জানান, মঙ্গলবার সকাল ৬টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। তিনি বলেন, আগামী কয়েক দিন শীতের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে এবং ঘন কুয়াশাসহ মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়ার এই পরিস্থিতিতে বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম