কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পাঁচটি পরিবারের ১২টি বসতঘরসহ প্রায় ৩০ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো মুহূর্তেই সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চর গতিয়াসাম গ্রামে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুনের লেলিহান শিখায় বসতঘরগুলোর আসবাবপত্র, ধান-চাল, কাপড়চোপড় ও নগদ অর্থ সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো হলো হানিফ আলী ও তার তিন ছেলের পরিবার এবং এরশাদ আলীর পরিবার। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, চরাঞ্চল হওয়ায় পানি ও অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জামের সংকট থাকায় আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম জানান, সন্ধ্যার দিকে একটি ঘর থেকে হঠাৎ ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই দাউদাউ করে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই একের পর এক ঘরে আগুন ধরে যায়। গ্রামবাসী আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও পর্যাপ্ত পানি ও সরঞ্জামের অভাবে তা ব্যর্থ হয়।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘ সময়ের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ততক্ষণে ঘরবাড়িসহ পরিবারের সব মালামাল পুড়ে ভস্মীভূত হয়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত এরশাদ আলী ও হানিফ আলী বলেন, আমাদের পাঁচটি পরিবারের ১২টি ঘর আগুনে পুড়ে গেছে। ধান-চাল, কাপড়, আসবাবপত্র এমনকি ঘরে রাখা নগদ টাকাও রক্ষা করতে পারিনি। আমরা এখন একেবারেই সর্বস্বান্ত। সন্তানদের নিয়ে কোথায় থাকব, কীভাবে চলব, কিছুই বুঝতে পারছি না।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল ইমরান বলেন, অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি তিনি জেনেছেন। প্রাথমিকভাবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে কম্বল ও খাদ্যসহায়তা দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, আগামীকাল রোববার সরেজমিনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেওয়া হবে এবং সরকারিভাবে আরও সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দ্রুত পুনর্বাসন ও আর্থিক সহায়তা না পেলে চরম দুর্ভোগে পড়বে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি