রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: দেশে তরুণদের মধ্যে ডায়াবেটিসের একটি বিশেষ ও তুলনামূলকভাবে কম পরিচিত ধরন—ম্যাচিউরিটি অনসেট ডায়াবেটিস ইন ইয়াং (MODY)—নিয়ে উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে একটি নতুন গবেষণায়। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, সন্দেহভাজন তরুণ ডায়াবেটিস রোগীদের প্রতি পাঁচজনের একজন এই বিশেষ ধরনের ডায়াবেটিসে আক্রান্ত।
গত বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মিলন হলে আয়োজিত “ডিসেমিনেশন অব পাবলিশড পিএইচডি রিসার্চ” শীর্ষক অনুষ্ঠানে গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করা হয়। গবেষণাটি করেন ডা. মাশফিকুল হাসান। সেখানে জানানো হয়, অংশগ্রহণকারী তরুণ রোগীদের মধ্যে নির্দিষ্ট কিছু জিনগত পরিবর্তন শনাক্ত হয়েছে, যা ম্যাচিউরিটি অনসেট ডায়াবেটিস ইন ইয়াং বা মডি ডায়াবেটিসের সঙ্গে সম্পর্কিত।
গবেষকরা বলেন, শনাক্ত হওয়া জিনগত পরিবর্তনগুলো তুলনামূলকভাবে কম পরিচিত এবং পশ্চিমা দেশগুলোর গবেষণার ফলাফলের সঙ্গে কিছু পার্থক্য রয়েছে। ফলে বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে প্রচলিত ডায়াগনস্টিক পদ্ধতি সবসময় কার্যকর নাও হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মডি ডায়াবেটিস প্রচলিত টাইপ–১ বা টাইপ–২ ডায়াবেটিসের মতো নয়; এটি একটি আলাদা জেনেটিক ভিত্তিক ধরন। তবে জিনগত পরীক্ষার অভাবে অনেক সময় রোগটি শনাক্তে বিভ্রান্তি তৈরি হয়, যার ফলে সঠিক চিকিৎসা ব্যাহত হতে পারে।
গবেষণাটিকে প্রাথমিক ও অনুসন্ধানমূলক উল্লেখ করে গবেষকরা বলেন, চিকিৎসায় বাস্তব প্রয়োগের আগে আরও বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন। তবে এই ফলাফল বাংলাদেশের ডায়াবেটিসের জিনগত বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা ভবিষ্যতে দেশভিত্তিক চিকিৎসা পদ্ধতি উন্নয়নে সহায়ক হতে পারে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকী। তিনি বলেন, দেশে জেনেটিক গবেষণা করা কঠিন হলেও সঠিক চিকিৎসার জন্য এ ধরনের গবেষণা বাড়ানো জরুরি। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ডা. এম এ হাসানাত, ডা. মাশফিকুল হাসানসহ অন্যান্য বিশেষজ্ঞরা।
বক্তারা জানান, তরুণদের মধ্যে ডায়াবেটিসের প্রকোপ বাড়ছে, তবে অনেক ক্ষেত্রেই তা প্রচলিত শ্রেণিবিন্যাসে ধরা পড়ে না। মডি ডায়াবেটিসে অনেক সময় ওষুধ ছাড়াই নিয়ন্ত্রণ সম্ভব, আবার কিছু ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। তাই রোগটি সঠিকভাবে শনাক্ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জানা গেছে, গবেষণাটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি কিউ–১ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে, যা এর বৈশ্বিক গুরুত্বকে আরও শক্তিশালী করে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম