| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

সংসদের উচ্চকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে কোন দল ?

reporter
  • আপডেট টাইম: ফেব্রুয়ারী ১৫, ২০২৬ ইং | ১৬:৪২:৫৩:অপরাহ্ন  |  ১৩৪৬৩৫৬ বার পঠিত
সংসদের উচ্চকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে কোন দল ?
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত

সিনিয়র রিপোর্টার: ভোটের হার ও নিম্নকক্ষে আসনসংখ্যা, দুই হিসাবেই জাতীয় সংসদের সম্ভাব্য উচ্চকক্ষে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার দিকে এগোচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

নির্বাচন কমিশনের দলভিত্তিক ফলাফলে দেখা গেছে, ঘোষিত ২৯৭ আসনে বিএনপি পেয়েছে ৪৯.৯৭ শতাংশ ভোট। প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি পেয়েছে ৩১.৭৬ শতাংশ। বাকি ভোট অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে বিভক্ত।

ভোটের ভিত্তিতে উচ্চকক্ষ গঠিত হলে, জুলাই সনদ অনুযায়ী, নিম্নকক্ষের নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাব রয়েছে। সে ক্ষেত্রে—

বিএনপি প্রায় অর্ধেক আসন নিশ্চিত করবে।জামায়াত দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রতিনিধিত্ব পাবে।

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রতিনিধিত্ব পেতে পারে। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা মোট ৫.৭৯ শতাংশ ভোট পাওয়ায় জোটবদ্ধ হলে আনুমানিক ৬টি আসন পেতে পারেন

এক শতাংশের কম ভোট পাওয়া দলগুলোর কোনো প্রতিনিধিত্ব থাকবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।যদিও চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফল এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তবে সেখানে বিএনপি প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ফলে ভোটের চূড়ান্ত হার সামান্য বাড়তে পারে।

আসনের ভিত্তিতে গঠিত হলে: বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে আসনভিত্তিক উচ্চকক্ষ গঠনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং জুলাই সনদের প্রস্তাবে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েছে।

ঘোষিত ২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপি পেয়েছে ২০৯টি এবং জামায়াত ৬৮টি। এই অনুপাতে ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষ গঠিত হলে,বিএনপি পেতে পারে প্রায় ৭০টি আসন; জামায়াত প্রায় ২৩টি,এনসিপি ২টি,স্বতন্ত্ররা জোট গঠন করলে প্রায় ৩টি।

অর্থাৎ, উভয় পদ্ধতিতেই বিএনপির একক আধিপত্যের সম্ভাবনা প্রবল।

‘চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স’ কতটা সম্ভব?

দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ ব্যবস্থার লক্ষ্য হলো আইন প্রণয়নে ভারসাম্য ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা। তবে বিশ্লেষকদের মতে, নিম্নকক্ষে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সমর্থন এবং উচ্চকক্ষেও নিরঙ্কুশ প্রভাব থাকলে কার্যকর ভারসাম্য তৈরি কঠিন হতে পারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ বলেন, ভোট ও আসন উভয় অনুপাতেই বিএনপির প্রাধান্য থাকবে। ফলে উচ্চকক্ষ গঠনের পদ্ধতি যাই হোক, সংখ্যাগরিষ্ঠতা তাদের হাতেই থাকবে।

আরেক বিশ্লেষকের মতে, বাংলাদেশে দলীয় আনুগত্যের বাইরে গিয়ে ভোট দেওয়ার রাজনৈতিক সংস্কৃতি এখনো গড়ে ওঠেনি। ফলে নিম্নকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের আইন উচ্চকক্ষেও সহজেই পাস হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

বিকল্প ভারসাম্য: শ্যাডো ক্যাবিনেট?

বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করছেন, কার্যকর বিরোধী রাজনীতি ও ‘শ্যাডো ক্যাবিনেট’ গঠন উচ্চকক্ষের তুলনায় বেশি জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পারে। জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি ইতোমধ্যে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের ইঙ্গিত দিয়েছে।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মতে, উচ্চকক্ষের ধারণা সাধারণত যুক্তরাষ্ট্র বা ভারতের মতো ফেডারেল রাষ্ট্রে কার্যকরভাবে প্রয়োগ হয়। বাংলাদেশ ইউনিটারি রাষ্ট্র হওয়ায়, একক দলের বড় ম্যান্ডেটের প্রেক্ষাপটে উচ্চকক্ষ কতটা স্বাধীন ও কার্যকর হবে—তা সময়ই বলে দেবে।

সার্বিকভাবে বলা যায়, বর্তমান পরিসংখ্যান অনুযায়ী উচ্চকক্ষেও বিএনপির একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তবে সেটি কার্যকর ভারসাম্য তৈরি করতে পারবে কি না সেই প্রশ্ন এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রে।

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪