| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার কে এই হিশাম?

reporter
  • আপডেট টাইম: এপ্রিল ২৬, ২০২৬ ইং | ১৩:২৪:৩৩:অপরাহ্ন  |  ১৪০৮ বার পঠিত
দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার কে এই হিশাম?

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থীর হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার হওয়া প্রধান সন্দেহভাজন হিশাম সালেহ আবুঘরবেহকে ঘিরে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। ২৬ বছর বয়সী এই মার্কিন নাগরিক নিহতদের একজনের রুমমেট ছিলেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ।

হিশাম সালেহ ইউএসএফ-এরই সাবেক শিক্ষার্থী। ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত এই তরুণ ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবস্থাপনা বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে দুটি পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের আইনে ফার্স্ট ডিগ্রি মার্ডার হিসেবে গণ্য।

হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের পর তদন্তের অংশ হিসেবে গত শুক্রবার টাম্পার হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ এলাকা থেকে এক নিহত শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে একই ঘটনায় নিখোঁজ থাকা কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ এখনো উদ্ধার হয়নি।

তবে বৃষ্টির ভাই সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন, পুলিশ তাদের পরিবারের কাছে বৃষ্টির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। লিমনের মরদেহ উদ্ধারের পর থেকেই তদন্তকারীদের ধারণা ছিল, বৃষ্টিও একই ঘটনার শিকার হয়েছেন। বর্তমানে তার সন্ধানে তল্লাশি অভিযান চলমান রয়েছে।

তদন্তে উঠে এসেছে, হিশামের বিরুদ্ধে অতীতেও সহিংস আচরণের অভিযোগ ছিল। পারিবারিক সহিংসতার ঘটনায় একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তার বাড়িতে গিয়েছিল। ২০২৩ সালে মারধরের অভিযোগে তিনি দুবার গ্রেপ্তার হলেও পরে সেগুলো প্রত্যাহার করা হয়।

এছাড়া পারিবারিক বিরোধের জেরে নিজের মা ও ভাইয়ের ওপর হামলার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ওই ঘটনার পর আদালত তাকে পরিবারের বাড়িতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। তবে তার ভাই আদালতে নিষেধাজ্ঞা দীর্ঘায়িত করার আবেদন করলেও তা খারিজ হয়ে যায়।

শেরিফের দপ্তরের চিফ ডেপুটি জোসেফ মাউরার জানান, শুরুতে হিশাম তদন্তে সহযোগিতা করলেও পরবর্তীতে তিনি হঠাৎ করে কথা বলা বন্ধ করে দেন। পরে প্রযুক্তিগত ও প্রমাণভিত্তিক অনুসন্ধানে লিমনের মরদেহের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে মারধর, অবৈধভাবে আটক রাখা, তথ্য-প্রমাণ নষ্ট করা এবং মরদেহ সরানোর মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।

হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ চ্যাড ক্রোনিস্টার ঘটনাটিকে ‘ভয়াবহ ও গভীর উদ্বেগজনক’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, ঘটনার পূর্ণ সত্য উদঘাটনে এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে সব ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এ ঘটনায় নিহত দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সহকর্মী, স্বজন ও প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

তথ্যসূত্র: সিএনএন, সিবিএস নিউজ


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪