| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুর্ঘটনা রোধে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা: এমডি

reporter
  • আপডেট টাইম: এপ্রিল ২৮, ২০২৬ ইং | ১৮:৩৮:৫০:অপরাহ্ন  |  ২৩৫ বার পঠিত
রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুর্ঘটনা রোধে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা: এমডি

স্টাফ রিপোর্টার: নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জাহেদুল হাসান জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সুপারিশ অনুযায়ী রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ‘বহুস্তরীয় সুরক্ষা’ (ডিফেন্স-ইন-ডেপথ) নীতির মাধ্যমে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। এখানে একাধিক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা একসঙ্গে কাজ করে।

তিনি বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে উন্নত ‘অ্যাকটিভ সেফটি সিস্টেম’ রয়েছে, যেমন স্বয়ংক্রিয়ভাবে কেন্দ্র বন্ধ হওয়া (শাটডাউন) এবং জরুরি প্রয়োজনে কোর শীতলকরণ ব্যবস্থা। এর সঙ্গে আছে ‘প্যাসিভ সেফটি সিস্টেম’, যা বিদ্যুৎ বা মানুষের কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ ছাড়াই চুল্লিকে নিরাপদ রাখতে পারে। এ ছাড়াও ডাবল কনটেইনমেন্ট স্ট্রাকচার, কোর ক্যাচার, হাইড্রোজেন রিকম্বাইনার এবং একাধিক বিকল্প নিরাপত্তা ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে, যা পুরোনো প্রযুক্তির তুলনায় অনেক বেশি নিরাপদ।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৩টার পর আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি বা ইউরেনিয়াম লোডিং শুরু হয়।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, করোনা মহামারি ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক নানা প্রতিবন্ধকতায় কাজ কিছুটা বাধাগ্রস্ত হলেও সরকারের দৃঢ়তায় এই মাইলফলক স্পর্শ করা সম্ভব হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) কঠোর নজরদারি এবং নিরাপত্তার সব শর্ত পূরণ করায় গত ১৬ এপ্রিল রূপপুর কর্তৃপক্ষকে পরমাণু চুল্লিতে জ্বালানি প্রবেশের লাইসেন্স প্রদান করা হয়।

সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চললে আগামী জুলাই বা আগস্ট মাসের মধ্যেই জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত করা সম্ভব হবে। এক বছর পর প্রথম ইউনিটটি পূর্ণ সক্ষমতায় বাণিজ্যিক উৎপাদনে গেলে সেখান থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাবে দেশ।

তবে প্রকল্পের কারিগরি জটিলতা দূর করে শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময়সূচি বেশ কয়েকবার পরিবর্তন করা হয়েছে। ২০১৭ সালে নির্মাণকাজের উদ্বোধনের সময় লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা আগে থাকলেও নিরাপত্তা প্রটোকল ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রাখতে সময়সীমা বারবার সংশোধন করা হয়। সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে ১২০০ মেগাওয়াট পূর্ণ সক্ষমতায় পৌঁছানোর লক্ষ্য রয়েছে কর্তৃপক্ষের।

বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের সাবেক প্রকল্প পরিচালক ড. শৌকত আকবর মনে করেন, এতদিন মূল কাজ ছিল অবকাঠামো নির্মাণ, এখন ইউরেনিয়াম লোডিংয়ের মধ্য দিয়ে দেশ বিদ্যুৎ উৎপাদনের মূল পর্যায়ে প্রবেশ করছে। তার মতে, জ্বালানি লোড করার মাধ্যমে সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো চেইন রিঅ্যাকশন বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শক্তি উৎপাদন শুরু করা। বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’ বা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভৌত যাত্রা।

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার ফিজিক্স বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. প্রীতম কুমার দাস বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য পরমাণু বিদ্যুৎ অপরিহার্য। তবে স্পর্শকাতর প্রকল্প হওয়ায় এর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও নিয়মিত মনিটরিংয়ে শতভাগ সতর্কতা বজায় রাখতে হবে। আইএইএর নির্ধারিত প্রতিটি প্রটোকল কঠোরভাবে অনুসরণ করা না হলে বিশাল এই বিনিয়োগ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তাই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কিছুটা দেরি হওয়াকেও ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তিনি।

বর্তমানে রূপপুর প্রকল্পে পাঁচ হাজার রুশ কলাকুশলী ও ২০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী কর্মরত আছেন। তবে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পরিচালনার জন্য দক্ষ দেশীয় জনবল তৈরি করা হয়েছে এবং ধাপে ধাপে কেন্দ্রটির পূর্ণ পরিচালনার দায়িত্ব বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞদের হাতে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪