| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

হে মার্কেটের রক্তাক্ত সংগ্রাম থেকেই মে দিবসের সূচনা

reporter
  • আপডেট টাইম: মে ০১, ২০২৬ ইং | ০৬:১৯:৫৪:পূর্বাহ্ন  |  ২৬৯ বার পঠিত
হে মার্কেটের রক্তাক্ত সংগ্রাম থেকেই মে দিবসের সূচনা

স্টাফ রিপোর্টার: শ্রমিক শ্রেণির অধিকার আদায়ের ইতিহাসে ১ মে এক অনন্য দিন। ১৮৮৬ সালের এই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে ৮ ঘণ্টা কর্মদিবসের দাবিতে শুরু হয়েছিল ঐতিহাসিক শ্রমিক আন্দোলন, যা পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতির প্রতীক ‘মে দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

ইতিহাস বলছে, ১৮৮৬ সালের ১ মে ছিল শনিবার। ওইদিন আমেরিকার বিভিন্ন শহরে প্রায় ৩ লাখ ৪০ হাজার শ্রমিক ধর্মঘট ও বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন। এর মধ্যে শুধু শিকাগো শহরেই প্রায় ৮০ হাজার শ্রমিক রাস্তায় নেমেছিলেন। প্রথম দিনের কর্মসূচি ছিল শান্তিপূর্ণ ও স্বতঃস্ফূর্ত।

পরদিন ২ মে ছিল সরকারি ছুটি। তবে ৩ মে আন্দোলন আরও তীব্র রূপ নেয়। শ্রমিকদের আন্দোলনে আতঙ্কিত হয়ে ওঠে মালিকপক্ষ ও প্রশাসন। অভিযোগ রয়েছে, আন্দোলন দমনে ষড়যন্ত্র শুরু হয়। ৩ মে শিকাগোর একটি শ্রমিক সমাবেশে পুলিশ গুলিবর্ষণ করলে অন্তত ৬ শ্রমিক নিহত হন।

এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ৪ মে শিকাগোর হে মার্কেট স্কয়ারে বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ চলাকালে হঠাৎ বোমা বিস্ফোরণ ও পুলিশের গুলিবর্ষণে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় পুরো এলাকা। এতে ঘটনাস্থলেই কয়েকজন শ্রমিক নিহত হন এবং অসংখ্য মানুষ আহত হন। সংঘর্ষে কয়েকজন পুলিশ সদস্যও নিহত হন। ইতিহাসে এই ঘটনাই ‘হে মার্কেট ট্র্যাজেডি’ নামে পরিচিত।

ঘটনার পর শ্রমিকদের ওপর ব্যাপক দমন-পীড়ন চালানো হয়। শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয় এবং প্রহসনের বিচারে ফিশার, এঞ্জেল, স্পাইজ ও পার্সনস নামে চার শ্রমিক নেতাকে ফাঁসিতে ঝুলানো হয়। তবুও আন্দোলন থামেনি। বরং শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম আরও বিস্তৃত হয়।

পরবর্তীতে ১৮৮৯ সালে ফ্রান্সের প্যারিসে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক শ্রমিক সম্মেলনে ১ মে’কে আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিনটি ‘মে দিবস’ হিসেবে পালিত হচ্ছে।

ইতিহাসবিদদের মতে, মে দিবসের আন্দোলনের মূল ভিত্তি ছিল শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা। উনিশ শতকে ইউরোপ ও আমেরিকায় শ্রমিকদের দিনে ১৪ থেকে ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে বাধ্য করা হতো। অমানবিক শ্রমঘণ্টা, কম মজুরি ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে শ্রমিকরা ধীরে ধীরে সংগঠিত হয়ে ট্রেড ইউনিয়ন গড়ে তোলে।

কার্ল মার্কস ১৮৬৪ সালে প্রথম আন্তর্জাতিক শ্রমিক সম্মেলনে কর্মঘণ্টা কমানোর দাবি তুলেছিলেন। পরে ১৮৬৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল লেবার ইউনিয়নের সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ৮ ঘণ্টা কর্মদিবসের প্রস্তাব গৃহীত হয়। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ১৮৮৬ সালের ঐতিহাসিক ধর্মঘট সংঘটিত হয়।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মে দিবস পালনকালে শ্রমিকদের ওপর হামলা ও হত্যার ঘটনাও ঘটেছে। ১৮৯১ সালে ফ্রান্সে মে দিবসের মিছিলে পুলিশের গুলিতে অর্ধশতাধিক শ্রমিক নিহত হন। এরপরও শ্রমিক আন্দোলন থেমে থাকেনি।

বর্তমানে বিশ্বের প্রায় সব দেশেই মে দিবস পালিত হয়। দিনটি শ্রমিকদের অধিকার, ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং শ্রমের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।

রিপোর্টার্স২৪/বাবি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪