এন্টারটেইনমেন্ট ডেস্ক: বলিউডে স্বজনপ্রীতি, প্রভাবশালী গোষ্ঠীর আধিপত্য ও কথিত ‘মাফিয়া সংস্কৃতি’ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছেন অভিনেত্রী তনুশ্রী দত্ত। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছেন, ইন্ডাস্ট্রির এই সংস্কৃতিই প্রতিভাবান দুই অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুত ও জিয়া খান-এর মৃত্যুর পেছনে পরোক্ষভাবে দায়ী।
তনুশ্রী দত্ত বলেন, জীবনের শেষ সময়ে সুশান্ত ও জিয়া দুজনই গভীর মানসিক চাপে ছিলেন। তাদের মৃত্যুকে ঘিরে এখনো অনেক প্রশ্নের উত্তর মেলেনি বলে উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষায়, বলিউডে অবশ্যই একটি শক্তিশালী মাফিয়া চক্র আছে। না থাকলে এত প্রতিভাবান মানুষ এভাবে হারিয়ে যেতেন না।
তিনি আরও বলেন, আত্মহত্যার মতো সিদ্ধান্ত হঠাৎ করে কেউ নেয় না; বরং দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ, পেশাগত অনিশ্চয়তা এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতা একজন মানুষকে সেই অবস্থায় ঠেলে দেয়। যদি এটাকে আত্মহত্যা হিসেবেও ধরা হয়, তবুও প্রশ্ন থাকে—কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হলো?—যোগ করেন তিনি।
অভিনেত্রীর অভিযোগ, বলিউডে একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে শিল্পীদের কাজ ও ক্যারিয়ার নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। তাদের ইচ্ছার বাইরে গিয়ে স্বাধীনভাবে কাজ করতে চাইলে অনেক শিল্পীকেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে হয়। তিনি দাবি করেন, এ ধরনের অদৃশ্য চাপ ও বঞ্চনা অনেকের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলে।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে মুম্বাইয়ে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার করা হয় সুশান্ত সিং রাজপুতের মরদেহ, যা আত্মহত্যা বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়। অন্যদিকে ২০১৩ সালে জিয়া খানও নিজ বাসায় আত্মহত্যা করেন বলে তদন্তে উঠে আসে। দুই ঘটনাই তৎকালীন সময়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং বলিউডে ‘নেপোটিজম’ ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়।
তনুশ্রী দত্ত ২০০৫ সালে আশিক বানায়া আপনে ছবির মাধ্যমে আলোচনায় আসেন। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে ‘#MeToo’ আন্দোলনের সময় তিনি শিল্পী নিপীড়ন ও ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলে নতুন করে আলোচনায় আসেন।
তবে তার সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের মতে, সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া এমন গুরুতর অভিযোগ নতুন করে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। যদিও অনেকেই বলছেন, এসব বক্তব্য বলিউডের অন্দরমহলের অস্বচ্ছ দিক নিয়ে আবারও প্রশ্ন তুলছে এবং শিল্পীদের মানসিক স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ সৃষ্টি করছে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি