আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি আমির সাঈদ ইরাভানি বলেছেন, যেসব রাষ্ট্র অন্যায়ভাবে ইরানের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনে ভূমিকা রেখেছে বা সহযোগিতা করেছে, তাদের অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। শুক্রবার (১ মার্চ) ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
ইরাভানি এক চিঠিতে বলেন, কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কুয়েত ও জর্ডান বাস্তব পরিস্থিতির মূল কারণগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে উপেক্ষা করছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসী ও অবৈধ হামলা চালিয়েছে, অথচ উল্টো ইরানকেই দায়ী করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এটি বাস্তবতা ও আইনি প্রেক্ষাপট বিকৃত করার শামিল।
তিনি আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই শক্তি প্রয়োগ আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর, পদ্ধতিগত ও ব্যাপক লঙ্ঘন। ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সর্বশেষ পরিসংখ্যান উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, এ সংঘাতে ৩ হাজার ৩৭৫ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এছাড়া ৮ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত ইরানজুড়ে ১ লাখ ২৫ হাজার ৬৩০টির বেশি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে আবাসিক ভবন, বাণিজ্যিক স্থাপনা, চিকিৎসাকেন্দ্র, বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল, রেড ক্রিসেন্ট কেন্দ্র এবং বিভিন্ন অবকাঠামো রয়েছে।
ইরান আরও বলেছে, কাতার, বাহরাইন, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জর্ডান তাদের ভূখণ্ড থেকে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করলেও, এতে প্রমাণ হয় যে এসব দেশের ভূখণ্ডে থাকা সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। চিঠিতে ইরান দাবি করেছে, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ‘আত্মরক্ষার’ যুক্তি জাতিসংঘ সনদের ৫১ অনুচ্ছেদের আওতায় বৈধ নয়। বরং তাদের কর্মকাণ্ড জাতিসংঘের আগ্রাসন সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুযায়ী আগ্রাসনের শামিল।
ইরানি পক্ষ আরও অভিযোগ করেছে, নিরাপত্তা পরিষদের ২০২৬ সালের ২৮১৭ নম্বর প্রস্তাব ইরানের বৈধ আত্মরক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। একই সঙ্গে ২৫ মার্চ ২০২৬ তারিখের মানবাধিকার পরিষদের প্রস্তাবকে একপেশে ও পক্ষপাতদুষ্ট বলেও আখ্যা দেওয়া হয়েছে।
চিঠির শেষে ইরান জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সহায়তাকারী সব রাষ্ট্রকে জবাবদিহির মুখে আনতে হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে সৃষ্ট সব ধরনের ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি