ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ বৃদ্ধি এবং বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহের প্রত্যাশায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও কমে যুদ্ধ শুরুর আগের পর্যায়ে নেমে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ব্রেন্ট ক্রুডের আগস্ট ডেলিভারি দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ০৬ ডলার বা ১ দশমিক ৪৪ শতাংশ কমে ৭২ দশমিক ৬৮ ডলারে দাঁড়ায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দাম ৭৬ সেন্ট বা ১ দশমিক ০৮ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৬৯ দশমিক ৫৮ ডলারে নেমে আসে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, স্বল্পমেয়াদে তেলের পর্যাপ্ত সরবরাহের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। আগস্টের ব্রেন্ট তেলের দাম সেপ্টেম্বরের চুক্তির তুলনায় কম থাকাও সেই বার্তাই দিচ্ছে।
এর আগে বুধবারও সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কমে যাওয়ায় ব্রেন্ট ও ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট উভয় তেলের দাম প্রায় ৩ ডলার করে কমেছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রী জানিয়েছেন, ইরান যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন প্রায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ২ কোটি ব্যারেল তেল এই প্রণালি অতিক্রম করেছে।
তবে তিনি বলেন, পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে, কারণ প্রণালির কিছু অংশে পুঁতে রাখা মাইন অপসারণের কাজ এখনও বাকি রয়েছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ বাড়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা থেকে সাময়িক ছাড় পাওয়ার পর ইরানও তেল রপ্তানি বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতার পর হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল আবার শুরু হয়। চুক্তি অনুযায়ী, আগামী ৬০ দিন বিভিন্ন জটিল বিষয়, বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলবে।
জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট বলেছেন, আলোচনার অগ্রগতি ব্যাহত হলেও হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন বন্ধ হবে না এবং ইরান আর আগের মতো এটি বন্ধ করার সক্ষমতা রাখে না।
তবে ইরান জানিয়েছে, তারা প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে ‘সামুদ্রিক সেবা ফি’ আদায়ের পরিকল্পনা করছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, হরমুজ একটি আন্তর্জাতিক জলপথ হওয়ায় সেখানে কোনো ধরনের অতিরিক্ত ফি আরোপ করা উচিত নয়।
সূত্র: আল জাজিরা