শেরপুর প্রতিনিধি: শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় কৃষি প্রণোদনার জন্য সংরক্ষিত পচে যাওয়া বীজ ও নষ্ট কৃষি যন্ত্রপাতির ছবি তুলতে গেলে সাংবাদিকদের ওপর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন।
ঘটনাটি ঘটে ৩০ এপ্রিল দুপুরে, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়ের নিচে অবস্থিত সরকারি জিপগাড়ি ও মোটরসাইকেল গ্যারেজ এলাকায়। সেখানে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় সরবরাহ করা ধানবীজ (SL-8H সুপার হাইব্রিড) প্যাকেট ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্র ও উপস্থিতদের দাবি, প্রায় দুই শতাধিক বীজের প্যাকেট সেখানে পড়ে থাকতে দেখা যায়, যেগুলো পরে অফিস সহায়করা দ্রুত ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার করে বস্তায় ভরে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে সাংবাদিকরা ছবি তুলতে গেলে তারা কাজ বন্ধ করে স্থান ত্যাগ করেন।
প্যাকেটগুলোর গায়ে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)-এর লোগোসহ “বোরো চলতি মৌসুম” এবং “২০২৪-২৫” অর্থবছরের উল্লেখ ছিল। একইসঙ্গে কিছু প্যাকেটে আবার “রবি/২০২৫-২৬” ও “বিক্রয়যোগ্য নয়” লেখা সিলও দেখা যায় বলে জানায় সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগ রয়েছে, সময় পার হয়ে যাওয়া ও নিম্নমানের বীজ কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে, ফলে শত শত কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অনেক কৃষক অনিচ্ছায় এসব বীজ গ্রহণ না করায় পরে গ্যারেজে রাখা হয় বলেও দাবি করা হয়।
ঘটনার সময় কৃষি কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন সাংবাদিকদের সঙ্গে উত্তেজিত হয়ে মন্তব্য করেন, গ্যারেজে থাকা বীজগুলো পুরনো ও পরিত্যক্ত। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, কৃষকদের প্রণোদনা বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়া তার দায়িত্ব নয়, বরং তালিকা অনুযায়ী কৃষকদের অফিসে এসে সংগ্রহ করতে হয়।
এ বিষয়ে কথা হলে জেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, প্রণোদনার বীজ বিতরণ না করে ফেলে রাখা বা নষ্ট হওয়ার বিষয়টি তার জানা নেই।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। কৃষি প্রণোদনার স্বচ্ছতা ও বাস্তব বিতরণ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ কৃষক ও স্থানীয়রা।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম