রিপোর্টার্স ডেস্ক: প্রবাসী ছেলের করা অপরাধে লালমনিরহাটে বৃদ্ধ বাবাকে গাছের সঙ্গের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে রাখার অভিযোগ উঠেছে অপর এক প্রবাসীর পরিবারের বিরুদ্ধে। বেঁধে রাখার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
শুক্রবার (৮ মে) দুপুরে লালমনিরহাট সদর উপজেলার পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের সিন্দুরিয়া খামারটারী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী বৃদ্ধ আব্দুল মোন্নাফকে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি ওই গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, আহত আব্দুল মোন্নাফের লিবিয়া প্রবাসী ছেলে মিজানুর রহমান একই এলাকার মহির উদ্দিনের ছেলে হাসানুরকে চার বছর আগে লিবিয়ায় নিয়ে যান।
সেখানে কাজ দিলেও পরবর্তীতে পাঁচ/ছয়মাস ধরে তার কর্মস্থলে সমস্যার সৃষ্টি করেন বলে অভিযোগ ওঠে মিজানুরের বিরুদ্ধে। অবশেষে তাকে ফেরত আনতে হাসানুরের পরিবার চাপ প্রয়োগ করছিল।
কিন্তু কোনো কাজ না হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে হাসানুরের পরিবার। এরই জেরে শুক্রবার (৮ মে) স্থানীয় মসজিদে জুম্মার নামাজ আদায় করে মসজিদ থেকে ফিরছিলেন প্রবাসী মিজানুরের বাবা আব্দুল মোন্নাফ। এ সময় তাকে ধরে একটি গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে রাখেন হাসানুরের বাবা মহির উদ্দিন ও তার লোকজন। এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
স্থানীয়রা জাতীয় জরুরিসেবা ৯৯৯-এ নম্বরে ফোনো করে পুলিশের সহায়তা কামনা করায় সদর থানা পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। তবে পুলিশের উপস্থিতি বুঝতে পেয়ে রশিতে বেঁধে রাখা মহির উদ্দিন ও তার লোকজন পালিয়ে যান। এ ঘটনায় মহির উদ্দিনকে প্রধান করে ১২ জনের বিরুদ্ধে লালমনিরহাট সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী বৃদ্ধ আব্দুল।
লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি থাকা আহত বৃদ্ধ আব্দুল মোন্নাফ বলেন, আমার ছেলের মাধ্যমে হাসানুর লিবিয়া গেছে। সেখানে কী সমস্যা হয়েছে তা তো আমি জানি না। আমি ছেলেকে বলেছি, হাসানুর চাইলে তাকে দেশে ফেরত পাঠাতে। তাকে দেশে পাঠাতে কিছু কাগজপত্র ঠিক করতে একটু সময় লাগছে, যা হাসানুরের পরিবার দিতে চাইছে না। উল্টো হাসানুরের বাবা মহির উদ্দিন লোকজন নিয়ে আমাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে নির্যাতন করেছে। আমার সম্মানহানি করেছে। আমি থানায় অভিযোগ করেছি, ন্যায়বিচার চাই।
লালমনিরহাট সদর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) সজিব বলেন, রশি দিয়ে বেঁধে রাখা বৃদ্ধকে রশি খুলে উদ্ধার করছেন এমন একটি ভিডিও আমরা পেয়েছি। তবে কারা বেঁধে রেখেছে এমন ভিডিও পাইনি। সেটা তদন্তে ঘটনাস্থলে অফিসার পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রিপোর্টার্স২৪/মিতু